হায়দরাবাদ, উন্নাওয়ের পরে ত্রিপুরা, লাগাতার গণধর্ষণ করে পুড়িয়ে খুন কিশোরীকে! অভিযোগ পুলিশি গড়িমসির

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশে যেন নারী-পোড়ানো ‘উৎসব’ শুরু হয়েছে! উত্তর থেকে দক্ষিণ, বাদ নেই কোনও প্রান্ত! প্রত্যেক দিন কোনও না কোনও রাজ্য থেকে খবর আসছে মেয়েদের ধর্ষণ করে পুড়িয়ে দেওয়ার! হায়দরাবাদ দিয়ে এ বীভৎসতা শুরু হয়েছিল সপ্তাহ দুয়েক আগে। ২৬ বছরের তরুণী পশু চিকিৎসককে গণধর্ষণ করে পুড়িয়ে দেয় চার ধর্ষক। এর পরেই খবর আসে উন্নাওয়ের ২৩ বছরের এক গণধর্ষিতা তরুণীকে আদালতে যাওয়ার পথে গায়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে অভিযুক্তরা। শুক্রবার রাতে ৯০ শতাংশ পুড়ে যাওয়া শরীর নিয়ে মারা যান তিনি। হায়দরাবাদ, উন্নাওয়ের পরে এবার তেমনই ঘটনার খবর এল ত্রিপুরা থেকে।

দু’মাস ধরে লাগাতার ধর্ষণ ও গণধর্ষণ করে এক কিশোরীকে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল তার ‘প্রেমিকের’ বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন: ধর্ষণ হোক, তার পরে দেখা যাবে! তিন মাস ধরে পুলিশের কাছে এমনটাই শুনছেন উন্নাওয়ের অন্য এক নিগৃহীতা

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত যুবকের নাম অজয় রুদ্রপাল। ফেসবুকে ১৭ বছরের ওই কিশোরীর সঙ্গে আলাপ হয় তার। আলাপ থেকে বন্ধুত্ব, বন্ধুত্ব থেকে প্রেমে গড়াতে সময় লাগেনি বেশি। দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তিরবাজার এলাকার বাসিন্দা ওই কিশোরীর সঙ্গে ক্রমেই ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় সে। কিন্তু দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেনি, তার চরম ক্ষতি করার উদ্দেশে অভিনয় করছে অজয়।

নির্যাতিতা কিশোরীর পরিবার জানিয়েছে, অজয় নিজে বাড়িতে এসে তাদের মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। সে প্রস্তাবে রাজিও হয়ে যান তাঁরা। ঠিক হয়, মেয়ের ১৮ বছর বয়স হলে বিয়ে হবে তাদের।

পুলিশ জানিয়েছে, এর কিছু দিন পরেই ওই কিশোরীকে বাড়িতে ডেকে পাঠায় অভিযুক্ত। কিন্তু তার পর থেকে আর বাড়ি ফেরেনি সে। পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, অজয়ের বাড়ি থেকে ফোন করে ৫০ হাজার টাকার মুক্তিপণ দাবি করা হয় কিশোরীর বিনিময়ে। পুলিশকে জানালে মেয়ের ক্ষতি করে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: লড়াই থামল উন্নাওয়ের দগ্ধ ধর্ষিতার, শুক্রবার রাতে মৃত্যু হল দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে

কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, তারা টাকা না দিতে পারায় মেয়ের ওপর চরম অত্যাচার শুরু হয়। শুরু হয় ধর্ষণ। প্রথমে অজয় একা, পরে তার সাঙ্গোপাঙ্গোরা মিলে গণধর্ষণ করে কিশোরীকে। পরিবারের দাবি, খেতেও দেওয়া হতো না মেয়েকে। আর এই গোটা ঘটনাটিতেই মদত ছিল অজয়ের মায়ের।

এর পরেই হুমকির কথা ভুলে পুলিশের কাছে ছুটে যায় ওই কিশোরীর মা-বাবা। তাঁদের দাবি, অভিযোগ কানে তোলেনি পুলিশ। অভিযোগই নিতে চায়নি। পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের মেয়ে নিজের ইচ্ছেয় প্রেমিকের সঙ্গে গিয়ে থাকছে বলে দাবি করে মা-বাবাকে ফিরিয়ে দেয় পুলিশ। এর পরেই কী করা যায় বুঝতে না পেরে টাকা জোগাড় করতে শুরু করেন তাঁরা। শুক্রবার রাতে অজয়ের মায়ের হাতে ১৭ হাজার টাকা তুলেও দেন তাঁরা।

আরও পড়ুন: গণধর্ষণের মামলা করেন তরুণী, হুমকির মুখেও হারাননি সাহস! শেষে অ্যাসিডে পোড়ালো ধর্ষকরা

অভিযোগ, এর পরেই প্রচণ্ড রেগে যায় অজয়। বাকি টাকা নেই কেন, তাই নিয়ে চরম অশান্তি শুরু করে। এর পরেই কিশোরীর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় সে। তার চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসে। শনিবার সকালে ৯০ শতাংশ অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর দেওয়া হয় কিশোরীর বাড়িতেও।

তার পরিবারের অভিযোগ, মেয়েকে পুড়িয়ে দেওয়ার পরে ফের পুলিশের কাছে গেলেও তাঁদের কথা শোনেনি পুলিশ। শেষমেশ মারা যায় মেয়েটি। মৃত্যুশয্যায় পরিবারের কাছে সব কথা বলে যায় সে।

আরও পড়ুন: গরুদের নিয়ে সাফারি করাবে যোগী সরকার! অনুদান, শীতবস্ত্রের পরে আরও এক গো-রক্ষা প্রস্তাব

মৃত্যুর পরে অজয় ও তার মা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে তাদের হাসপাতালে টেনে আনেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বেধড়ক মারধরও করা হয় তাদের। শেষমেশ চাপের মুখে পড়ে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণে অভিযুক্ত বাকিদের খোঁজেও তল্লাশি চলছে।

ত্রিপুরার এই ঘটনা সামনে আসতেই ফের প্রশ্নের মুখে পুলিশের ভূমিকা। প্রথমেই যদি মেয়েিকে আটকে রাখার অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু করত পুলিশ, তাহলে হয়তো এইমর্মান্তিক পরিণতি হতো না। হায়দরাবাদের ঘটনার সময়েও নির্যাতিতা ও মৃতা তরুণীর বোন অভিযোগ করেছিল, তার দিদির সঙ্গে নৃশংসতম ঘটনাটি ঘটার পরে, অভিযোগ দায়ের করার জন্য এই থানা থেকে ওই থানা ঘোরাঘুরি করতেই দু’ঘণ্টা নষ্ট হয়েছিল তাঁদের। উন্নাওয়ের ঘটনাতেও তরুণী গণধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করার পরে বারবার হুমকির মুখে পড়লেও, কোনও নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি তাঁকে।

আরও পড়ুন: ‘ধর্ষণের মজা লুটতে চাই’, প্রতিবাদ করতে গিয়ে বিপাকে কবি মন্দাক্রান্তা, সমালোচনার ঝড়

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More