বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৫
TheWall
TheWall

ল্যাকটোজ় হজম করতে সমস্যা? ভেবে দেখুন এই খাবারগুলোর কথা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুধ খেতে অনেকেই খুব ভালোবাসেন।  কিন্তু সমস্যায় পড়েন তাঁরা, যাঁদের দুধে থাকা ল্যাকটোজ় হজম করতে অসুবিধা হয়।  এমন তো অনেকেই আছেন।  তাঁরা কী করবেন? দুধ খাবেন না? কারণ তাঁদের তো দুধ খেলে পেটে ব্যথা, ডায়ারিয়া, বমি ভাব, মাথা ব্যথা করতে থাকে।  এ বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিচ্ছেন বিশিষ্ট ডায়টিশিয়ান জেন্টি গোবেনি।

তিনি বলছেন, “এক্ষেত্রে দুধ কম খান, দুগ্ধজাত খাবার বেশি খান, তা হলেই সমস্যা মিটবে অনেকটা।
ল্যাকটোজ় ইনটলারেন্স আসলে একটি ক্লিনিকাল সিণ্ড্রোম।  এই সমস্যায় যাঁরা থাকেন, তাঁদের পক্ষে দুধে থাকা প্রাকৃতিক যে সুগার বা ল্যাকটোজ়, তা ভেঙে হজম করতে অসুবিধে হয়।  এক একজনের এক একরকম ক্ষমতা থাকে এই ল্যাকটোজ় হজম করার।  কোন দুধে কতটা ল্যাকটোজ় থাকছে সেটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ”

ল্যাকটোজ় ছাড়া গরুর দুধ
যে সব গরুর দুধে ল্যাকটোজ় থাকে না, তাতে এমন এক এঞ্জ়াইম থাকে, যা আসলে ল্যাকটোজ়ের মতো কাজ করে, আবার হজম হতেও অসুবিধে করে না।  এ জাতীয় দুধে সাধারণ দুধের মতো সব রকম পুষ্টিগুণ থাকে, তবে স্বাদে একটু বেশি মিষ্টি হয়।  তাই চেষ্টা করতে পারেন এ জাতীয় দুধ খেতে।

দই খান
দইতে যে ব্যাকটিরিয়া থাকে, তা যে আমাদের শরীরের জন্য উপকারী, সে তো আমাদের জানা।  আর এই ব্যাকটিরিয়ার জন্যই দুধে ল্যাকটোজ় অনেকটাই ভেঙে যায়।  তবে খেয়াল রাখবেন, খুব ঠাণ্ডা অবস্থায় থাকা দইয়ের ব্যাকটিরিয়া মোটেও অতটা সক্রিয় থাকে না, যা দুধের ল্যাকটোজ় ভাঙতে সক্ষম।  তাই চেষ্টা করবেন, যাতে খুব ঠাণ্ডা দই আপনাকে না খেতে হয়।

 চিজ়
ফার্মেন্টেড চিজ় যদি আপনি খান, তাহলে সমস্যা কম হতে পারে।  কারণ এতে দুধের অন্যান্য খাবারের চেয়ে কম ল্যাকটোজ় থাকে।  এই চিজ় থেকেই আপনি যথেষ্ট পরিমাণে ক্যালসিয়াম এবং প্রোটিনও পাবেন।  তাই একদিকে যখন দুধ খাওয়া কমাচ্ছেন ল্যাকটোজ় হজমে সমস্যা বলে, তখন এই চিজ় হজমেও সমস্যা কম, সঙ্গে উপরি হিসেবে ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনও থাকছে।  সুইস চিজ়, পার্মেসান চিজ়, ব্লু চিজ় এগুলো সবই আপনার কাজে আসবে এক্ষেত্রে।

ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার
একদিকে যখন আপনি দুধ খাওয়া কমিয়ে দেবেন, শরীরে তখন শুরু হবে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি।  আপনার শরীরের খেয়াল রাখতে চাইলে এমন কিছু খাবার খেতে শুরু করুন, যাতে ক্যালসিয়াম বেশি পরিমাণে পাবেন।  আপনি অনেক পরিমাণে সবুজ শাকসব্জি খেতেই পারেন।  পালংশাক এক্ষেত্রে খুবই কাজে আসতে পারে।  আপনি এক কাপ রান্না করা পালংশাক খেলে তাতে পাবেন ২৫০ গ্রাম ক্যালসিয়াম।  কাজেই ল্যাকটোজ় হজমের সমস্যাতে পালংশাক থেকে শরীরকে দিন প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম।

সয়াবিনের দুধ
সয়াবিনের দুধে প্রোটিন অনেকটাই থাকে, আর ঘনত্বের দিক থেকে কিছুটা ভারি এই দুধে স্বাদ বাড়াতে কিছুটা ভেজ়িটেবিল অয়েলও মেশানো থাকে। ডাক্তাররা বলেন, ১৯-৫০ বছর পর্যন্ত নারী পুরুষ নির্বিশেষে রোজ ১০০০ মিলিগ্রাম দুধ খাওয়া দরকার।  সারাদিনে তিন গ্লাস দুধ খেলে, এই পরিমাণ ক্যালসিয়াম যেতে পারে আপনার শরীরে, কিন্তু আপনি তো ল্যাকটোজ় ইনটলারেন্সের সমস্যায় ভোগেন, তাহলে! এই সয়া মিল্ক খেতে পারেন রোজ। অন্তত ৫০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম পেতে পারেন এই সয়া মিল্ক থেকে।  তাতে সাপও মরবে, লাঠিও ভাঙবে না। তবে মাথায় রাখবেন, যাঁর বা যাঁদের দুধে অ্যালার্জি আছে, তাঁর এই দুধ না খাওয়াই ভালো।
অতএব আপনি ল্যাকটোজ় ইনটলারেন্সে ভুগলেও শরীরকে ক্যালসিয়াম থেকে দূরে রাখবেন না।  দুধের পরিবর্তে এই খাবারগুলোয় ভরসা রাখুন।

 

Comments are closed.