শনিবার, ডিসেম্বর ১৫

নিরাপত্তারক্ষীর গুলিতে ঝাঁঝরা পিএইচডি জঙ্গি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মানান বসির ওয়ানি, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১ বছর আগেই পিএইচডি সম্পূর্ণ করে সে। বৃহস্পতিবার সকালে সেনার গুলিতে নিহত হল সেই বসির ওয়ানি। সেনার কাছে খবর আসে উত্তর কাশ্মীরের হান্দওয়াড়ায় লুকিয়ে বেশ কয়েকজন জঙ্গি। শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। সেনার গুলি খতম করে তিন হিজবুল জঙ্গিকে। বসির ওয়ানি ছিল তাদেরই মধ্যে একজন। পরে জানা যায়,উচ্চ শিক্ষিত জঙ্গিদের মধ্যে অন্যতম মানান বসির ওয়ানিকেই সেনার গুলি ঝাঁঝরা করেছে।

২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেয় বসির। পিএইচডি সম্পূর্ণ করেই জঙ্গি সংগঠনে নাম লেখায় সে। জানা যাচ্ছে, লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের নেতৃত্ব দিচ্ছিল বসিরই। বৃহস্পতিবার ভোরের দিকেই সেনাদের তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। সেনা সূত্রে খবর, প্রথমে জঙ্গিরাই সেনাদের গুলি করে। সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষে নিহত হয় বসির সহ আরও ২ জঙ্গি।

দ্য ওয়াল পুজো ম্যাগাজিন ১৪২৫ পড়তে ক্লিক করুন

বসিরের মৃত্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহেবুবা মুফতি।বসিরের মতো উচ্চ শিক্ষিত ছেলেদের এই পরিণামের জন্য কেন্দ্রকেই দায়ী করলেন  তিনি। ২৭ বছরের মানান বসির ওয়ানির মৃত্যু আসলে দেশের ক্ষতি বলে মনে করছেন পিডিপি সুপ্রিমো। এই ধরণের উচ্চ শিক্ষিত ছেলের মৃত্যু কাম্য নয় বলে টুইটও করেন তিনি।

কয়েকদিন আগেই সেনা-জঙ্গি গুলির লড়াইয়ে নিহত জঙ্গিদের পরিচয় ছিল হতবাক করে দেওয়ার মতো। জানা যায়, নিহত জঙ্গিরা প্রত্যেকেই ছিল  ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র। মে মাসে সেনার গুলিতে নিহত হয় কাশ্মীর ইউনিভার্সিটির যুবক অধ্যাপক। বাড়ি ছেড়ে জঙ্গি সংগঠনে নাম লেখানোর আগে নিজের বাবাকে চিঠিও লেখে সে। জানা যায়, সাধারণ মানুষকে বাঁচাতেই তার এই ভয়ানক পদক্ষেপ।

বার বার এই ধরণের ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, কেন উচ্চ শিক্ষিতরা জঙ্গি সংগঠনে নাম লেখাচ্ছে। মেহেবুবা মুফতির দাবি, প্রশাসনের চোখ রাঙানি যতদিন না বন্ধ হয় ততদিন এভাবেই শিক্ষিত তরুণ রক্তাক্ত হবে। বসে আলোচনা না হলে উপত্যকা এভাবেই শূন্য হবে।

 

 

Shares

Comments are closed.