মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫

নিজে অ্যাম্বুল্যান্স চালিয়ে আসন্নপ্রসবাকে হাসপাতালে পৌঁছে দিলেন তরুণী চিকিৎসক! ধন্য-ধন্য করছেন সকলে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিকিৎসক তো চিকিৎসা করে প্রাণ বাঁচান রোগীর। কিন্তু কোনও রোগীর প্রাণ বাঁচানোর স্বার্থে এক জন চিকিৎসক যে অ্যাম্বুল্যান্স চালকের ভূমিকাও পালন করতে পারেন, তা বোধ হয় আগে জানা ছিল না কারও।

মেঘালয়ের তরুণী চিকিৎসক বালনামচি সাংমার কাছে দিনের শুরুটা আর পাঁচটা দিনের মতোই ছিল। হাসপাতালে যাওয়ার পথে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলা তাঁর সাহায্য চান হাসপাতালে পৌঁছনোর জন্য।

এমনটা মাঝে মাঝেই হয় সাংমার সঙ্গে। কারণ পেশায় চিকিৎসক হলেও, নিজের শখে এবং কাজের প্রয়োজনে তিনি একটি অ্যাম্বুল্যান্সও চালান। তাই মেঘালয়ের প্রত্যন্ত এলাকা গারোবাধা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার সময়ে, তিনি প্রায়ই পথে দেখা হওয়া কোনও রোগীকে তুলে নেন নিজের অ্যাম্বুল্যান্সে।

এ দিনও নিজের অ্যাম্বুল্যান্সে তুলেছিলেন ওই অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে। পৌঁছেও দিয়েছিলেন গারোবাধা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। কিন্তু সেখানেই কাজ শেষ হয়নি চিকিৎসক সাংমার। কারণ ওই মহিলার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায়, গারোবাধা স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, তাঁরা এই সমস্যা সামলাতে পারবেন না। তাই তাঁকে নিয়ে যেতে হবে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের তুরা এলাকার মেটারনিটি হসপিটালে।

কিন্তু প্রত্যন্ত ওই গারোবাধায় গাড়ি জোগাড় করা, সেখান থেকে আরও প্রত্যন্ত এলাকা তুরা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া– এতে অনেকটাই সময় লেগে যেত। এ দিকে ওই আসন্নপ্রসবার অবস্থা ক্রমে খারাপ হচ্ছে। তাই একটুও সময় নষ্ট না করে, গারোবাধা হাসপাতালে নিজের ডিউটি কামাই করে, সাংমা নিজেই ওই মহিলাকে নিয়ে ফের ছোটান তাঁর অ্যাম্বুল্যান্স। কিছুক্ষণের মধ্যেই পৌঁছে যান তুরা।

শেষমেশ সেখানে পৌঁছে, মেটারনিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ওই মহিলাকে। বিপদ কাটিয়ে সন্তানের জন্মও দেন তিনি। চিকিৎসকেরা জানান, দেরি হয়ে গেলে হয়তো খারাপ কিছু হতে পারত।

সাংমাকে ধন্য ধন্য করছেন গ্রামের মানুষ। তাঁর জন্যই ওই প্রত্যন্ত এলাকায় সম্ভব হল এক জন মা ও সন্তানকে বাঁচানো। সাংমার কথা জেনে কুর্নিশ করছে নেট-দুনিয়া। এক জন চিকিৎসকের পেশা প্রাণ বাঁচানো, সে তো সবাই জানে। কিন্তু প্রাণ বাঁচানোর জন্য যে এক জন চিকিৎসক অ্যাম্বুল্যান্স চালকের ভূমিকাতেও এমন উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারেন, মেঘালয়ের সাংমা তারই উদাহরণ।

Comments are closed.