বৃহস্পতিবার, জুন ২০

রটনায় নয়, প্রেমেই মন দিয়েছিলেন মেগান

চান্দ্রেয়ী সেনগুপ্ত

অভিসারের কথা গোপন রেখে, লোকচক্ষুর আড়ালে, একান্ত নিভৃতে, প্রেমের জোয়ারে ভাসছিলেন মেগান ও হ্যারি।
মিডিয়া এবং পাবলিসিটির ব্যাপারে ছোটবেলা থেকেই খুব স্পর্শকাতর হ্যারি। হবে না-ই বা কেন। এই মিডিয়াই তো তার মাকে দুঃস্বপ্নের মত তাড়িয়ে বেড়িয়েছে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত, তার ছোটবেলা তছনছ করে দিয়েছে। কেড়ে নিয়েছে মমতাময় মাতৃক্রোড়। এখানেই শেষ নয়। চেলসি ডেভির সাথে হ্যারির সাত বছরের দীর্ঘ সম্পর্কও ভেঙে যায় এই মিডিয়ার অনধিকার চর্চায়, যা চেলসি শেষ পর্যন্ত সহ্য করে উঠতে পারে নি।
কিন্তু এবার হ্যারি বদ্ধপরিকর। একমাত্র মেগান আর সে নিজে ছাড়া তৃতীয় কাউকে সে এই সম্পর্কে কোন রকম প্রভাব ফেলতে দেবে না। চূড়ান্ত গোপনীয়তা সত্ত্বেও পাপারাৎজির অনুসন্ধানী নজর বেশি দিন এড়াতে পারেননি তাঁরা। আর তা হওয়ামাত্র, সঙ্গে সঙ্গে এই মার্কিনি, মিশ্রবর্নের ডিভোর্সি অভিনেত্রীকে ঘিরে শুরু হল তীব্র সমালোচনা, কটূক্তি ও কুৎসা রটনা। তার প্রতিটি পরিচয়, প্রতিটি সত্ত্বা নিন্দনীয়। আমেরিকার বিখ্যাত টেলিভিশান সিরিয়াল ‘স্যুট’ এর রেচেল জেইন এর চরিত্রে দীর্ঘ সাত বছর অভিনয় করেছেন মেগান। তাতে তিনি অভিনেত্রী হিসেবে প্রভূত সুখ্যাতি অর্জন করলেও, তার খোলামেলা পোশাকে ঘনিষ্ঠ দৈহিক অন্তরঙ্গতার দৃশ্য বিশ্বের বহু মানুষ দেখেছেন।
 শুধু তা-ই নয়, এই মেয়ের প্রথম বিয়ের মেয়াদ তো ছিল মাত্র দু’বছর। ২০১১ সালে মার্কিন ফিল্ম প্রডিউসার ট্রেভর এঙ্গেলসনকে বিয়ে করে, ২০১৩ সালে টরন্টো থেকে মেগান সেই বিয়ের আংটিটি একটি প্লাস্টিকের প্যাকেটে ভরে ট্রেভরকে সেটি ফেরত পাঠিয়ে দেন পোস্ট করে। সঙ্গে একটি নোট, যাতে লেখা – ‘আওয়ার ম্যারেজ ইজ ওভার’। বয়সেও তো হ্যারির থেকে তিন বছরের বড় তিনি। তা ছাড়া কী-ই বা বংশ পরিচয় এই মেয়ের। আফ্রিকান রক্ত বইছে যার ধমনিতে, সে হবে ব্রিটেনের রাজকুমারের প্রেয়সী? হবে তার বাগদত্তা? তার স্ত্রী? – অসম্ভব। এই প্রেম রাজপরিবারে নিষিদ্ধ, আর এই নিষিদ্ধ প্রেম বেশি দিন টিকবে না।
এবার হ্যারি রুখে দাঁড়ালেন তাঁর প্রেয়সীকে রক্ষা করতে। নাইট ইন সাইনিং আরমার। ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে কেনসিংটন প্যালেসের যোগাযোগ বিভাগের মুখ্যসচিব এক বিস্তৃত পত্রে জানান, যে প্রিন্স হ্যারি মিডিয়াকে এই রকম কুরুচিকর রটনা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেছেন। মিডিয়া যেন ভবিষ্যতে তাঁর ও মেগানের ব্যক্তিগত  ব্যাপারে অনধিকার চর্চা না করে। চিঠিতে পরিষ্কার লেখা ছিল – ‘দিস ইজ নট এ গেইম, দিস ইজ হার লাইফ এন্ড হিজ’।
এ রকম তীক্ষ্ণ সতর্কবানী রাজবাড়ি থেকে এর আগে কোনদিন আসেনি। তাই কুকথা বন্ধ হলো এবং হ্যারি ও মেগানের নিজেদের সম্পর্কের গোপনীয়তা রক্ষার চাপটাও কমলো। মেগান কিন্তু মিডিয়ার এই কুৎসা প্রচারে বিশেষ বিচলিত হননি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যে প্রথম দিকে তাঁর খারাপ লেগেছিল। কারণ তথ্যগুলো অনেকাংশেই মিথ্যে ছিল। এবং তাই তিনি হ্যারির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে কোনো খবরই আর পড়তেন না। কী ভাল, কী খারাপ। বরং তিনি শত ব্যস্ততার মধ্যেও সময় বার করে হ্যারির সঙ্গে লন্ডনে দেখা করতে আসতেন, তাঁদের সম্পর্কের ব্যাপারে আরও বেশি মনোযোগ দিয়েছিলেন। আজকের যুগে, পাশ্চাত্যের প্রগতিশীল, শিক্ষিত সমাজে বর্ণবৈষম্যের এমন সঙ্কীর্ণ মানসিকতা খুবই লজ্জার।……… (ক্রমশ)

Leave A Reply