শনিবার, মার্চ ২৩

এক্সক্লুসিভ: মুখে বলছেন ডাক্তার, লিখে দিচ্ছে যন্ত্র! প্রযুক্তির ব্যবহারেই পরিষেবা বাড়াচ্ছে মেডিক্যাল কলেজ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রোগীকে ভাল করে পরীক্ষা করলেন চিকিৎসক। কথা বললেন তাঁর সঙ্গে, পরিবারের সঙ্গে। তার পরে রোগ নির্ণয় করে প্রেসক্রিপশন লিখে দিলেন। অসুখ জটিল হলে, প্রেসক্রিপশনও দীর্ঘ। খসখস করে পেন চালিয়ে লিখছেন চিকিৎসক, বাইরেই যে বহু রোগীর ভিড়! এর পরে সে প্রেসক্রিপশনে লেখা কোন ওষুধ কখন খাওয়া, ভাল করে বুঝিয়ে দিতেও হল। তার পরে পালা পরের রোগীর। এর পরে আর এক সমস্যা ওষুধের দোকানে গিয়ে। প্রেসক্রিপশনে কী লেখা, ভাল করে বুঝতে পারছেন না রোগী। ওষুধের দোকানদারের পক্ষেও অনেক সময়েই মুশকিল হয় একটু, হাতের লেখা উদ্ধার করতে।

তবে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, এবার থেকে আর কোনও সমস্যা থাকবে না প্রেসক্রিপশন নিয়ে। এমনকী প্রেসক্রিপশন লেখার সময়ও এতটাই বাঁচবে, যে অনেক বেশি সংখ্যক রোগী দেখা যাবে। কর্তৃপক্ষের দাবি, তাঁদের এই উদ্যোগ দেশের মধ্যে প্রথম।

কিন্তু কী সেই উদ্যোগ, যা দিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থা এতটা সহজ হয়ে যাবে হাসপাতালে?

মেডিক্যাল কলেজ জানাচ্ছে, এই প্রথম ডিকটাফোনের মাধ্যমে ই-প্রেসক্রিপশন ব্যবস্থা চালু করেছে তারা। এই পদ্ধতিতে, মুখে বললেই তা কম্পিউটারে লেখা হয়ে যায় আপনাআপনি। আপাতত অঙ্কোলজি বিভাগে চালু হওয়া এই ব্যবস্থায় চিকিৎসকেরা হাজারো রোগীর ভিড় সামাল দিচ্ছেন অনেক কম সময়ে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, এই অভিনব পদ্ধতিতে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে এক এক জন রোগীকে দেখে তাঁর প্রেসক্রিপশন তৈরি করতে কয়েক গুণ কম সময় লাগছে। ফলে কম সময়ে বেশি সংখ্যক রোগী দেখার পাশাপাশি চিকিৎসা পরিষেবার মানও বেড়ে গিয়েছে অনেকটাই।

কারণ এই পদ্ধতিতে আরও অনেক বেশি নিখুঁত হচ্ছে প্রেসক্রিপশন, স্পষ্ট হচ্ছে রোগের বিবরণ। পরামর্শ এবং চিকিৎসা পদ্ধতিও অনেক বিস্তারিত ভাবে লেখা সম্ভব হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি দফতরের উদ্যোগেই মেডিক্যাল কলেজে এমন ব্যবস্থা চালু হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

মেডিক্যাল কলেজের অঙ্কোলজি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক শিবাশিস ভট্টাচার্য বলছেন, “এভাবে ডিক্টাফোন ব্যবহার করে প্রেসক্রিপশন লেখার কাজ দেশে এই প্রথম হচ্ছে। আমরা মুখে যা বলছি, তা-ই লেখার হরফে ফুটে উঠছে স্ক্রিনে। প্রিন্ট বার করলেই হল। লিখতে হচ্ছে না, বারবার বোঝাতে হচ্ছে না। দশ ভাগের এক ভাগ সময় লাগছে রোগী প্রতি। অনেক নিখুঁত ভাবে অনেক বেশি রোগীকে পরিষেবা দেওয়া যাচ্ছে।”

চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, একটু বয়স্ক চিকিৎসক যাঁরা, তারা এখনও কম্পিউটারে প্রেসক্রিপশন টাইপ করতে খুব একটা সরগড় নন। ফলে সময় বেশি লেগে যায় তাঁদের। রোগীর ভিড় বাড়ে সরকারি হাসপাতালের বিভাগের বাইরে। আবার কম্পিউটারের বদলে হাতে তাড়াহুড়ো করে লিখলে, অনেক সময়েই বোঝার সমস্যা হয় রোগীর বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের। সময়ও লাগে। ফলে মুখে পরিষ্কার উচ্চারণ করলেই সঠিক ভাবে প্রেসক্রিপশনে তা লেখা হয়ে যাওয়ায়, অনেকটা সময় বাঁচছে, অবকাশ থাকছে না ভুল বোঝাবুঝিরও। “আমাদের প্রস্তাব যে স্বাস্থ্য ভবন এবং তথ্য প্রযুক্তি দফতর মেনে নিয়েছে ও কার্যকর করেছে, তাতে আমরা খুবই খুশি।”– বললেন শিবাশিস বাবু।

বস্তুত, প্রতি দিনই হাজার হাজার রোগীর লাইন পড়ে সরকারি হাসপাতালগুলিতে। তাঁদের সামাল দিতে, চিকিৎসা করতে নাস্তানাবুদ হন চিকিৎসকেরা। আপাতত মেডিক্যাল কলেজের একটি বিভাগ সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছে ডিকটাফোনের মাধ্যমে। চিকিৎসকেরা মুখে বলছেন পরামর্শ, ওষুধের নাম, চিকিৎসা পদ্ধতি। কম্পিউটার সেটাই লিখে দিচ্ছে ছাপার হরফে। প্রিন্ট বার করে রোগীর হাতে ধরিয়ে দিলেই কাজ হয়ে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য দফতরের আশা, এর পরে গোটা মেডিক্যাল কলেজে ও রাজ্যের অন্যান্য হাসপাতালগুলিতেও এই পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে। সব মিলিয়ে অনেক সময় বাঁচিয়ে দেবে এই ডিকটাফোন-প্রযুক্তি।

Shares

Comments are closed.