মেডিক্যাল কলেজে সবার জন্য খুলল এমার্জেন্সি বিভাগ, কোভিড ছাড়াও অন্য জরুরি রোগীরা পাবেন পরিষেবা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত কয়েক দিন ধরেই একের পর এক মর্মান্তিক ঘটনা সামনে এসেছে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের। কোভিড পজিটিভ রোগীরা শ্বাসকষ্ট নিয়ে কাতরেছেন অ্যাম্বুল্যান্সে, বৃদ্ধা রোগী কোনও রকমে একা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেঁটে ঢুকেছেন এমার্জেন্সিতে। বেডের অভাবে প্রাণও চলে গেছে একাধিক জনের। দেরি হয়েছে চিকিৎসা পেতে। রাজ্যের বেহাল স্বাস্থ্য পরিষেবা যেন আরও নগ্ন করে দিয়েছে গত কয়েক দিনে মেডিক্যাল কলেজে ঘটে যাওয়া একের পর এক ঘটনা।

বারবার এমন ঘটনার কারণ মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনার অভাব, এই অভিযোগই তুলেছিলেন হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসকরা। কোভিড চিকিৎসার জন্য একাংশ নির্দিষ্ট করে বাকি অংশে অন্যান্য রোগের চিকিৎসা আগের মতোই চলুক, এমন দাবিতে আন্দোলনও করছিলেন তাঁরা। অবশেষে আজ, বুধবার সরকারি নোটিস নিয়ে মেডিক্যাল কলেজের একাংশ করোনা ছাড়া অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসার জন্য খুলে দেওয়া হয়। আন্দোলনের প্রাথমিক দাবি মেনে নেওয়ার ফলে অবস্থান বিক্ষোভ থেকেও সরে এসেছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা৷

আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, প্রতিটি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার জন্য আলাদা ও নির্দিষ্ট ‘কোভিড ব্লক’ বানানোর কথা, যাতে করোনা পজিটিভ বা সাসপেক্ট রোগীদের এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে হয়রানি না হতে হয়৷ মেডিক্যাল কলেজে কোভিড চিকিৎসার নির্দিষ্ট ব্লক না করে গোটা হাসপাতালটিকে কোভিড হাসপাতাল করার ফলে বহু করোনা রোগী সমন্বয়ের অভাবের শিকার হয়েছেন।

তাঁদের দাবি, কোভিড রোগীদের ভর্তি ও রেফারেল প্রক্রিয়ার জটিলতা হ্রাস করতে হবে, স্বাস্থ্যভবন ও প্রতিটি হাসপাতালের মধ্যে সমন্বয় যথাযথ হতে হবে। স্বাস্থ্যভবন এ ২৪x৭ কন্ট্রোল রুম খুলে কোভিড ও কোভিড সাসপেক্ট (যাদের পরীক্ষা এখনো হয়নি বা রিপোর্ট পাওয়া যায় নি) রোগীরা কোথায় যাবেন তার যথাযথ ব্যবস্থা করতে হবে। রোগী স্থানান্তরের জন্য অক্সিজেন যুক্ত এম্বুল্যান্স এর ব্যবস্থা এই কন্ট্রোল রুম থেকে করতে হবে।

জুনিয়র চিকিৎসকরা বলেন, “আমাদের আশঙ্কা সত্যি করে গত তিন দিনে এমন বেশ কিছু মর্মান্তিক ঘটনা ঘটা শুরু হয়েছে যা আমাদের প্রস্তাব মানলে খুব সহজেই হয়তো এড়ানো যেত।” তাঁদের অভিযোগ, কোভিড হাসপাতাল করার পর থেকে মেডিক্যাল কলেজের ইমার্জেন্সিকে যে কার্যত অকেজো করে রাখা হয়েছে। সে বিষয়ে তাঁরা বারবার আমরা বলেও কোনও লাভ হয়নি। শুধু তাই নয়, আচমকা আশঙ্কাজনক কোনও রোগী এলে কীভাবে তাঁর চিকিৎসা হবে সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও সুস্পষ্ট উত্তর মেলেনি বলেই দাবি তাঁদের।

তাই তাঁরা বারবার দাবি করেছেন, করোনা ছাড়া অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসা কেবল নোটিস দিয়ে দায়সারা ভাবে করলে চলবে না, যথাযথ প্রোটোকল মেনে নন-কোভিড উইং আলাদা করে প্রতিটি রোগীর চিকিৎসা সুনিশ্চিত করতে হবে। নাহলে কিন্তু এই রোগীরা চিকিৎসা না পাওয়া অবস্থায় যদি কোভিড আক্রান্ত হন তাহলে তাদের বাঁচানো দুঃসাধ্য হয়ে উঠবে।

আন্দোলনকারীরা এই প্রসঙ্গে আরও জানান, গত সপ্তাহে চারটে হাসপাতালে সারাদিন ধরে ঘুরে এসে ইছাপুরের ১৮ বছরের শুভ্রজিৎ যে মারা গেছেন, তিনি মেডিক্যাল কলেজে এসে শেষমেশ যে চিকিৎসাটুকু পেয়েছেন, তা কেবল মাত্র উপস্থিত চিকিৎসকের তৎপরতায় ও বুদ্ধিতে। অত্যন্ত দ্রুততায় সেই চিকিৎসা দেন তাঁরা। কেবল মাত্র প্রশাসনিক জটিলতা ও যথাযথ নির্দেশিকার অভাবে শুভ্রজিৎ সারা দিন ধরে তা পাননি বলে দাবি করেছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা।

চিকিৎসকদের দাবি মেনে আজ নোটিস দিয়ে একটি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন করা হয়েছে মেডিক্যাল কলেজের তরফে। তাঁরা ইমারজেন্সিতে সমস্ত খারাপ রোগীদের চিকিৎসা বিষয়ক সিদ্ধান্ত নেবেন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করবেন। এর ফলে মেডিক্যাল কলেজের জেনারেল ইমার্জেন্সি বিভাগ কার্যত আবার চালু হল খাতায়-কলমে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More