শুক্রবার, নভেম্বর ১৫

মায়ের রান্না: মুগডাল-কচুশাকের ঘণ্ট, নিরামিষ পদ মেখেই খেয়ে ফেলা যাবে এক থালা ভাত!

মূলত ও-পার বাংলার রান্না হলেও, কচু শাক কিন্তু অনেক দিনই ঢুকে পড়েছে এ-পার বাংলার রান্নাঘরে। শুধু ঢুকেই পড়েনি, রীতিমতো জনপ্রিয়ও হয়ে উঠেছে রসনায়। মূলত চিংড়ি মাছ দিয়ে বা ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে এ রান্না সব চেয়ে ভাল খেতে হলেও, নিরামিষ পদের ক্ষেত্রেও কচুর শাক পিছিয়ে নেই কিন্তু! একটু ছোলা দিয়ে রাঁধলে দিব্যি জমে যায় দুপুরের ভাতের পাত।

কিন্তু ছোলার বদলে মুগ ডাল দিয়ে রাঁধলেও কিন্তু কচুর শাক খাবার টেবিল মাতিয়ে দিতে পারে। সহজ আয়োজন, অনাড়ম্বর পদ্ধতির এই রান্নাটির হদিস দিয়েছেন, শান্তশ্রী সেনগুপ্ত।

মুগডাল-কচুশাকের ঘণ্ট রাঁধার জন্য লাগবে ঘরোয়া উপকরণই

যা যা দরকার দেখে নিন চট করে

কচুশাক ৫০০ গ্রাম, মুগডাল হাফ কাপ, সরষের তেল ৩ চামচ, ঘি ২ চামচ, তেজপাতা কয়েকটা, গোটা শুকনো লঙ্কা ২টো, মেথি অল্প, হলুদ, জিরেগুঁড়ো এক চামচ, আদাবাটা এক চামচ, নারকেল কোরা ৩ চামচ, কাঁচা লঙ্কা ২-৩টি, নুন, চিনি আন্দাজমতো।

মুগডালের সঙ্গে কচুশাক, রান্না হবে সহজেই

প্রথমে আধ কাপ মুগডাল ভাল করে ধুয়ে খানিক ক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। তার পরে অল্প জল দিয়ে অল্প সেদ্ধ করে নিন। দেখবেন, যাতে ডালগুলো সব গোটা গোটা থাকে, গলে না যায়।

কচুশাক ছোট ছোট কুচি করে কেটে নিন। তার পরে বড় পাত্রে ভাল করে কচলে ধুয়ে নিন। প্রয়োজনে দু’বার ধোবেন, যাতে কোনও ধুলো-বালি না থেকে যায়। ধোয়া হয়ে গেলে, ভাল করে জল ঝরিয়ে নিন।

এবার প্রেশার কুকারে একটু ভাপিয়ে নিতে হবে শাকগুলো। জল দেবেন না। একটা সিটি পড়লেই হবে। শাক সেদ্ধ হয়ে গেলে, আবারও জল ঝরিয়ে নিন ভাল করে।

এবার একটা কড়াইয়ে সর্ষের তেল গরম করুন। তেল গরম হলে, তাতে ঘি দিয়ে দিন। এবার ফোড়ন দিন তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা আর মেথি। সুন্দর গন্ধ বেরোবে ফোড়নের। এই সময়ে আগে থেকে জল ঝরিয়ে রাখা কচুশাকটি ঢেলে দিন কড়াইয়ে।

খানিক নেড়েচেড়ে তাতে দিয়ে দিন হলুদ, জিরেগুঁড়ো, আদাবাটা, কাঁচালঙ্কা, নুন, চিনি। এবার অনেক ক্ষণ ধরে মশলার সঙ্গে শাক মেশাতে হবে নেড়েচেড়ে, যত ক্ষণ না জল শুকিয়ে যাচ্ছে।

মাখা মাখা হয়ে এলে, আগে থেকে সেদ্ধ করে রাখা মুগডাল দিয়ে দিন। দিয়ে দিন কুরিয়ে রাখা নারকেলও। ভাল করে নেড়েচেড়ে নামিয়ে নিলেই আপনার মুগডাল দিয়ে কচুশাকের ঘন্ট প্রস্তুত।

Comments are closed.