শনিবার, জানুয়ারি ২৫
TheWall
TheWall

মায়ের রান্না: বিজয়ায় পাতে পড়ুক জিবে গজা, ফিরুক সাবেকি মিষ্টির স্বাদ

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

শ্রাবণী চট্টোপাধ্যায়

সব ছেলেমেয়ের কাছেই তাঁর মায়ের রান্না হয় বিশ্বসেরা। ঠিক তেমনটাই আমার কাছেও। বরাবর দেখেছি মা যে পদটাই রান্না করতো সেটাই মুখে লেগে থাকার মতন। আমরা ভাইবোনেরা একেবারে চেটেপুটে সাফ করে দিতাম। খুব সাধারণ রান্নাও মায়ের গুণে যেন আলাদা মাত্রা পেত। শুনেছি আমার দিদাও দারুণ রান্না করতেন। পরিবারের সকলে বলেন, দিদার থেকেই রান্নার এমন গুণ পেয়েছিল মা। তবে শুধু রান্না করাই নয় রেঁধেবেড়ে লোক খাওয়াতেও খুব ভালোবাসত মা।

প্রতি বছর পুজোর সময়েই আমাদের বাড়িতে অনেক লোকজন আসতেন। নবমীর দিন থেকেই অতিথিদের পাতে নিত্যনতুন মিষ্টি পরিবেশন করার তোড়জোড় শুরু করে দিত মা। এখন সেভাবে আর বাঙালি বাড়িতে মিষ্টি বানানো হয় কই! তবে আমার বাড়িতে হত। ছোটবেলায় দেখেছি একদম সাবেকি বিজয়ার মিষ্টি মানে ওই নাড়ু, জিবে-গজা, ছোলার ডালের বরফি, রসবড়া—–এসব কী অনায়াসেই বানিয়ে ফেলত মা। সঙ্গে অবশ্যই থাকত ঘরে বানানো নিমকি। অনেক অল্প বয়স থেকেই মায়ের রকমারি মিষ্টি বানানোর সঙ্গী ছিলাম আমি। আর এই বিজয়ায় তাই মায়ের জিবে গজার রেসিপি নিয়েই হাজির হলাম। সহজ রেসিপি, বানানোও যায় অল্প সময়েই। আর স্বাদে টেক্কা দেবে যেকোনও মিষ্টিকে। 

উপকরণ: 

ময়দা – ৫০০ গ্রাম

চিনি- ৪০০ গ্রাম

সাদা তেল- ২৫০ গ্রাম

ডালডা- ২৫০ গ্রাম

কালো জিরে- ২০ গ্রাম (২ চামচ)

পদ্ধতি

প্রথমে ময়দার মধ্যে কালো জিরে দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এরপর ময়দার মধ্যে সাদা তেল ও ডালডা দিয়ে (সমান পরিমাণ) ভালো করে ময়দা মাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে জল কম দেবেন, যাতে ময়দায় ময়াম ভালো করে হয়। তাতে গজা খাস্তা হবে অনেক বেশি। এরপর লুচির লেচির থেকে একটু ছোট আকারে লেচি কেটে নিন। এ বার লেচিগুলোকে জিভের আকারে বেলে নিতে হবে। আর ছুরি দিয়ে অসংখ্য দাগ কেটে দিতে হবে। এরফলে লেচিগুলো লুচির মতো ফুলে উঠবে না। আর ডিজাইন করে দাগ কাটলে দেখতেও ভালো লাগবে। 

কড়াইতে তেল বসিয়ে ভালো করে গরম করে নিন। তেল গরম হয়ে গেলে মিডিয়াম আঁচে জিভের আকারে বেলা গজাগুলোকে সময় নিয়ে ভাজতে হবে। সব ভাজা হয়ে গেলে কড়াই থেকে তেল ঢেলে নিন। তারপর হাফ কাপ জল এবং চিনি দিয়ে নাড়তে থাকুন। সিরা তৈরি করার জন্য গ্যাস মিডিয়াম রাখতে হবে। চিনির রস বা সিরা একটু মোটা হবে।কড়াইয়ের গায়ে সাদা সাদা রঙ দেখলে বুঝবেন সিরা ঘন হয়েছে। এরপর ভেজে রাখা গজাগুলোকে ভালো করে চিনির সিরায় ডুবিয়ে নিন। গরম গরম খেতে পারেন। ঠান্ডা করেও পরিবেশন করতে পারেন। তবে ফ্রিজে রাখবেন না। এতে স্বাদ একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়। 

Share.

Comments are closed.