‘মে ডে, মে ডে! দুটো ইঞ্জিন খারাপ হয়ে গেল!’ শেষ মুহূর্তে আর্তনাদ করাচির ভেঙে পড়া বিমানের পাইলটের, সামনে এল রেকর্ডিং

করাচিতে যাত্রিবাহী বিমান ভেঙে পড়ে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় সামনে এল চালকের শেষ কথার রেকর্ডিং। সেটা শুনেই আরও বেশি করে নিশ্চিত হওয়া গেল, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই ভেঙে পড়েছে বিমিনটি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: করাচিতে যাত্রিবাহী বিমান ভেঙে পড়ে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় সামনে এল চালকের শেষ কথার রেকর্ডিং। সেটা শুনেই আরও বেশি করে নিশ্চিত হওয়া গেল, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই ভেঙে পড়েছে বিমিনটি।

    লকডাউন চলছিল পাকিস্তান জুড়ে। লকডাউন শিথিল হওয়ার পরে এটিই ছিল প্রথম উড়ান। শুক্রবার এয়ারবাস এ ৩২০ বিমানটি রওনা হয় লাহোর থেকে। ছিলেন ৯৯ জন যাত্রী, ৮ জন ক্রু সদস্য। বিমানের ধ্বংসাবশেষ থেকে বের করা হয় একের পর এক মৃতদেহ। শোকে ভেঙে পড়ে দেশবাসী।

    জানা গেছে, অবতরণের সময়ে বিমানের দু’টি ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়াতেই, বিমানের নির্দিষ্ট কিছু গিয়ার না খোলায় সেটি রানওয়েতে না নেমে বিমানবন্দরের নিকটবর্তী আবাসিক এলাকার একটি বাড়িতে ধাক্কা মেরে ভেঙে পড়ে। টুকরো টুকরো হয়ে পড়ে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে যায়।

    আরও পড়ুন

    করাচিতে বিমান দুর্ঘটনায় বিষ্ময়করভাবে বেঁচে গেলেন এক যাত্রী, তিনি পাঞ্জাব ব্যাঙ্কের শীর্ষ কর্তা

    পাক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শেষ মুহূর্তে পাইলটের কথার যে রেকর্ডিং পাওয়া গেছে, তাতে তাঁকে বলতে শোনা গেছে, “মে ডে, মে ডে! দুটো ইঞ্জিন খারাপ হয়ে গেল!”

    ‘মে ডে’ আসলে অ্যাভিয়েশনের একটি কোড। বিমান চালানোর সময় তীব্র কোনও বিপদের মুখে এই কোড ব্যবহার করেন পাইলট। বার্তা দেন কন্ট্রোল রুমে। চরম কোনও বিপর্যয়ে, প্রায় ভেঙে পড়ার মতো বা দুর্ঘটনা ঘটার মতো পরিস্থিতি হলে তবেই এই কোড ব্যবহার করেন পাইলটরা। ছোটখাটো কোনও ত্রুটি বা সমস্যায় নয়। এই কোডে চরম তৎপর হয় কন্ট্রোল রুমও, কারণ তাঁরাও বোঝেন, বিমান ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু এদিনের দুর্ঘটনায় সেই বার্তা পাওয়ার পরেও কিছুই করা গেল না। গোটা পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায় সকলের। মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয় বিমানটি।

    পাইলট ও এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের শেষ মুহূর্তের কথাবার্তার যে রেকর্ডিং পাওয়া গিয়েছে পাক মিডিয়া থেকে, তা হুবহু তুলে দেওয়া হল।

    পাইলট: পিকে ৮৩০৩ অ্যাপ্রোচ।
    এটিসি: জি স্যার।
    পাইলট: আমরা বাঁ দিকে যাব তাই তো?
    এটিসি: একদম তাই।
    পাইলট: আমরা যাচ্ছি, দুটো ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে গেল!
    এটিসি: বেলি ল্যান্ডিং করা হচ্ছে তো?
    পাইলট: (অস্পষ্ট গলার স্বর)
    এটিসি: রানওয়ে ২ আর ৫ রেডি আছে!
    পাইলট: রজার।
    পাইলট: স্যার! মে ডে, মে ডে, মে ডে, পাকিস্তান ৮৩০৩!
    এটিসি: পাকিস্তান ৮৩০৩, রজার স্যার। দুটো রানওয়েই রেডি আছে।

    এর পরেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, এবং ভেঙে পড়ে বিমানটি। এ দিন দুপুরে ১টায় লাহোর থেকে করাচির উদ্দেশে রওনা দেয় বিমানটি। দুপুর ২টো বেজে ৪৫ মিনিটে করাচি পৌঁছনোর কথা ছিল সেটির। কিন্তু দুপুর ২টো বেজে ৩৭ মিনিটে বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় কন্ট্রোল রুমের। তার কিছু ক্ষণ পরই দুর্ঘটনা ঘটে।

    করাচি বিমানবন্দর সংলগ্ন মডেল কলোনির কাছে জিনা গার্ডেন এলাকায় লোকালয়ে বিমানটি ভেঙে পড়ার খবর আসে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দুর্ঘটনার যে ভিডিও সামনে এসেছে, তাতে দেখা গিয়েছে, জনবহুল এলাকার মধ্যে বিমানের ধ্বংসাবশেষ থেকে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে চার পাশ। আতঙ্কে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছেন বহু মানুষ।

    সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছন উদ্ধারকর্মীরা। অ্যাম্বুল্যান্সও পৌঁছে যায়। পৌঁছে যায় পাক সেনার কুইক রেসপন্স ফোর্স। ভেঙে পড়ার পর প্লেনটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে থাকে। পাক মিডিয়াতে এও দেখা যায়, যেখানে বিমানটি ভেঙে পড়েছে সেখানে বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরে গিয়েছে।

    কালো ধোঁয়ার সেই কুণ্ডলীর মাঝে সাইরেন বাজিয়ে একের পর এক অ্যাম্বুল্যান্স ও দমকলের গাড়ি ঢুকতে দেখা যায়। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় উদ্ধারকাজ শুরু হয়। একের পর এক দেহ উদ্ধার হতে থাকে। করাচির সমস্ত হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সে দেশের স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণ মন্ত্রক।

    গত বছরেই এই একই পাক এয়ারলাইন্সের একটি বিমান দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছিল। গিলগিট বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ে চাকা পিছলে রানওয়ে থেকে ছিটকে বেরিয়ে গিয়েছিল বিমানটি। কোনও প্রাণহানি না হলেও, বিমানটির ক্ষতি হয়েছিল। অল্পের জন্য বেঁচেছিলেন যাত্রীরা।

    তার আগে, ২০১৬ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানের চিত্রাল থেকে ইসলামাবাদ যাওয়ার পথে ৪৮ জন যাত্রী এবং কয়েক জন বিমানকর্মী নিয়ে ভেঙে পড়ে পিকে ৬৬১ বিমান। সে বার দুর্ঘটনা থেকে কেউই রক্ষা পায়নি।

    এবার আবার ঘটল বড় দুর্ঘটনা। কোভিড আতঙ্কের মধ্যে এত বড় দুর্ঘটনা যেন গোটা দেশকে আরও বিপদের মুখে ঠেলে দিল।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More