বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৯

লোকসভায় লড়ব না, জানিয়ে দিলেন মায়া

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটে লড়বেন না মায়াবতী। বুধবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বহুজন সমাজ পার্টির নেত্রী। লখনউতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমি লোকসভা ভোটে লড়ছি না। আমি আত্মবিশ্বাসী যে, আমার দল আমার এই সিদ্ধান্তের কথা বুঝবে।” সেই সঙ্গে ‘বহিনজি’ আরও বলেন, “যদি মনে হয়, তাহলে পরে লড়ব।”

দলিত নেত্রী এ দিন জানিয়েছেন, ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও বিএসপি এবং এসপি জোটের হয়ে প্রচারে গোটা রাজ্য চষে বেড়াবেন তিনি। সমাজবাদী পার্টি সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি ভোটে লড়বেন না। এ দিন জোট শরিক দলের সর্বোচ্চ নেত্রীও জানিয়ে দিলেন একই কথা।

বিজেপি-জুজু প্রতিপক্ষ দুই দলকে এনে দিয়েছে এক সরল রেখায়। আড়াই দশক পর উত্তরপ্রদেশের মাটিতে জোট বেঁধেছে হাতি আর সাইকেল। উত্তরপ্রদেশের গত কয়েকটি উপনির্বাচন থেকেই ইঙ্গিত মিলেছিল, এ বার জোট হতে পারে দুই দলের। হয়েছেও তাই। বুয়া-বাবুয়া এক হয়ে পণ করেছেন, দেশের সবচেয়ে বড় রাজ্য থেকে বিজেপি-কে হঠাবেন।  পর্যবেক্ষকদের মতে, অখিলেশের পর মায়াবতীর ভোটে না লড়ার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। অনেকের মতে, কোনও একটি কেন্দ্রে ভোটে দাঁড়ালে মাথায় নিজের জেতা হারার চিন্তা থেকে যায়। এ ক্ষেত্রে দুই নেতাই ঝারা হাত পায়ে গোটা রাজ্যের ৮০টি আসনেই ছুটে বেড়াতে পারবেন।

আগেই ঠিক হয়েছিল ৮০টির মধ্যে সনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর জেতা আসন রায়বরেলি ও অমেঠিতে প্রার্থী দেবে না সপা-বসপা জোট।  কংগ্রেস প্রথমে বলেছিল ৮০টি আসনেই লড়বে। পরে ঠিক হয় ৭৩টি আসনে প্রার্থী দেবে সাবেক দলটি। মায়াবতীর ভোটে না লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেকে আবার এও বলছেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বই যদি ভোটের লড়াইয়ে না নামে তাহলে কর্মীরা উজ্জীবিত হবেন কী ভাবে? তাঁদের যুক্তি কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী নিজে ভোটের লড়াইয়ে নামবেন। তাঁর কাঁধে তো গোটা দেশের প্রচারের দায়িত্ব। অসুস্থ শরীরেও ভোটে লড়ছেন সনিয়াও। তাহলে মায়াদের সরে দাঁড়ানো কেন? তবে কৌশলগত দিক থেকে কোনটা ঠিক, তা বুঝতে অপেক্ষা করতে হবে ২৩ মে দুপুর পর্যন্ত।

Comments are closed.