শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

কংগ্রেসের ইস্তেহার নিয়ে মোদীর সঙ্গেই সুর মেলালেন মায়া

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশের পরে প্রথমেই তার কড়া সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেছেন, ওই ইস্তেহার মিথ্যা ও দ্বিচারিতায় ভরা।  বুধবার কার্যত তাঁর সঙ্গেই সুর মেলালেন বিএসপির সুপ্রিমো মায়াবতী। উত্তরপ্রদেশে বিজেপির অন্যতম প্রতিপক্ষ বিএসপির নেত্রী বলেন, কংগ্রেস অতীতে কোনও প্রতিশ্রুতি পালন করেনি। সুতরাং তাদের কথার বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।

অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে এক সাংবাদিক বৈঠকে মায়াবতী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিবার ভোটের আগে কংগ্রেস ইস্তেহার প্রকাশ করে। কিন্তু বাস্তবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালন করার জন্য সামান্যই আগ্রহ দেখায়। যখন ইন্দিরা গান্ধী বেঁচেছিলেন, তিনি ‘গরিবি হটাও’-এর স্লোগান দিয়েছিলেন। দারিদ্র দূরীকরণে বিশ দফা কর্মসূচি তৈরি করেছিলেন। কিন্তু তাতে সত্যিই দারিদ্র দূর হয়েছিল কি?

অন্ধ্রপ্রদেশে জন সেনা পার্টির হয়ে নির্বাচনী প্রচার চালাতে গিয়েছেন মায়াবতী। ওই দলের নেতার নাম পবন কল্যাণ। তিনি তেলুগু সিনেমার বিশিষ্ট অভিনেতা। জনসেনা পার্টির সঙ্গে সিপিআই, সিপিএম এবং বিএসপির জোট হয়েছে।

মায়াবতী এদিন একইসঙ্গে কংগ্রেস ও বিজেপির সমালোচনা করে বলেন, তারা উভয়েই বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তাঁর কথায়, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, প্রত্যেক গরিব লোকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। কিন্তু তিনি সেই প্রতিশ্রুতি পালন করার আগ্রহ দেখাননি। এখন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বলছেন, ন্যূনতম রোজগার নিশ্চয়তা প্রকল্প আনবেন। আমরা জানি না তিনি এই প্রতিশ্রুতি পালন করবেন কি না।

বিজেপি এখনও নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করেনি। মায়াবতী পরিষ্কার করে দিয়েছেন, তাঁর দল ইস্তেহার প্রকাশে বিশ্বাস করে না। তাঁর কথায়, আমরা প্রতিশ্রুতি দিই না। কাজ করে দেখাই। আমরা মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের কথা মাথায় রাখি।

মায়াবতীকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি উত্তরপ্রদেশ থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করলেন না কেন? তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তা নিয়ে আপনাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। প্রথম দফার ভোটে উত্তরপ্রদেশের খুব কম আসনেই ভোট হবে।

উত্তরপ্রদেশে প্রচার সম্পর্কে তিনি বলেন, ৭ এপ্রিল এক বিরাট জনসভা হবে। সেখানে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ সিং যাদব ও লোক দলের প্রধান অজিত সিং উপস্থিত থাকবেন।

তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, আপনার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি? তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই। আগে নির্বাচন হোক। পরে ভাবা যাবে।

Comments are closed.