শুক্রবার, জুন ২১

এতদিনে জেগে উঠেছে নির্বাচন কমিশন, মায়ার আর্জি খারিজ করে বলল সুপ্রিম কোর্ট

দ্য ওয়াল ব্যুরো : অভিযোগ, বিএসপি প্রধান মায়াবতী ভোটের প্রচারে এমন ভাষণ দিয়েছিলেন, যাতে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হতে পারে। সেজন্য সোমবার নির্বাচন কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, ৪৮ ঘণ্টা তিনি ভাষণ দিতে পারবেন না, সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলতে পারবেন না। এই নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানিয়েছিলেন মায়াবতী। কিন্তু বিচারপতিরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা এই শাস্তি সমর্থন করেন।

রাজনীতিকরা শাস্তি পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেন, মনে হচ্ছে এতদিনে জেগে উঠেছে নির্বাচন কমিশন। তারা বিভিন্ন রাজনীতিকের ভাষণ বন্ধ করে দিয়েছে।

কিছুদিন আগে দেওবন্দে মায়াবতী ভাষণে বলেন, তাঁদের জোট ও কংগ্রেসের মধ্যে যেন মুসলিম ভোট ভাগ না হয়। কিন্তু আদর্শ আচরণবিধি অনুযায়ী জাতপাত বা ধর্মের নামে ভোট চাওয়া নিষিদ্ধ।

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকেও তিন দিন মুখ খুলতে নিষেধ করেছে নির্বাচন কমিশন। যোগী এক জনসভায় বলেছিলেন কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি এবং বিএসপি আলির অপর বিশ্বাস রাখে। আমরা বিশ্বাস রাখি বজরংবলীর ওপরে। মুসলিমরা আলিকে প্রফেট বলে মনে করেন। অন্যদিকে রামভক্ত হনুমানের আর এক নাম বজরংবলী। বিরোধীরা অভিযোগ করেছিলেন, শাসক দল বার বার আদর্শ আচরণবিধি ভাঙছে কিন্তু নির্বাচন কমিশন কিছু বলছে না। এর পরে গত সোমবার বেশ কয়েকজন রাজনীতিকের বিরুদ্ধে শাস্তি ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

যাঁরা শাস্তি পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে আছেন সমাজবাদী পার্টির আজম খান। তিনি কয়েকদিন আগে রামপুরে প্রচারের সময় বিরোধী প্রার্থী জয়া প্রদার বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। সাম্প্রদায়িক প্রচার করার জন্য ৪৮ ঘণ্টা প্রচার করতে বারণ করা হয়েছে বিজেপির প্রার্থী মানেকা গান্ধীকেও।

গত সপ্তাহের শেষে সুপ্রিম কোর্ট অসন্তুষ্ট হয়ে মন্তব্য করে, ভোটের প্রচারে প্রার্থীরা বার বার আচরণবিধি ভাঙছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন কিছু বলছে না। তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচন কমিশন কি জানে অবাধ্য রাজনীতিকদের শায়েস্তা করার ক্ষমতা তার আছে?

রাজনীতিকরা আদর্শ আচরণবিধি ভাঙছেন অভিযোগ করে কিছুদিন আগে একটি মামলা হয় সুপ্রিম কোর্টে। শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের কৌঁসুলি বলেন, আমাদের কোনও ক্ষমতা নেই। আমরা কারও নির্বাচনে লড়া বন্ধ করে দিতে পারি না। একথা শুনে বিচারপতিরা অসন্তুষ্ট হন। পরে অবশ্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা সাক্ষাৎকারে বলেন, নির্বাচন কমিশন চাইলে কোনও প্রার্থীর ভোটে দাঁড়ানো বন্ধ করতে পারে।

Comments are closed.