অখিলেশ-মায়া রাহুলের পাশে, উত্তরপ্রদেশে মহাজোট এখন সময়ের অপেক্ষা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশের ফলাফলের ট্রেন্ড মঙ্গলবার দিনভর যখন ওঠা নামা করছে, তখনও হাতের তাস লুকিয়ে রেখেছিলেন মায়াবতী-অখিলেশ। দেখতে চাইছিলেন, কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হয়, নাকি বিজেপি! কিন্তু ছত্তীসগড়, রাজস্থানের পর মধ্যপ্রদেশেও সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসাবে কংগ্রেস নির্বাচিত হতেই রাতারাতি ভোল পাল্টে ফেললেন উত্তরপ্রদেশের যুযুধান এই দুই আঞ্চলিক নেতা নেত্রী। জানিয়ে দিলেন, মধ্যপ্রদেশে বিজেপি-কে রুখতে কংগ্রেসকে সমর্থন জানাতে প্রস্তুত তাঁরা।

    আপাত দর্শনে ব্যাপারটা এতোটাই সোজাসাপ্টা হলেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা দিব্য বুঝতে পারছেন এর বৃহত্তর অর্থ কী? এমন কী অশনিসংকেত দেখতে শুরু করে দিয়েছেন মোদী-যোগী শিবিরও।

    ২৩০ আসনের মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য ১১৬ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। মধ্যপ্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসাবে কংগ্রেস নির্বাচিত হলেও সেই ম্যাজিক সংখ্যার তুলনায় মাত্র ২টি আসন কম পেয়েছে। সেক্ষেত্রে কংগ্রেসের দুই বিক্ষুব্ধ বিধায়ককে ফিরিয়ে এনে প্রয়োজনীয় সংখ্যার ব্যবস্থা মঙ্গলবার রাতেই সেরে ফেলেছে কংগ্রেস। ফলে অখিলেশের সমাজবাদী পার্টির এক জন বিধায়ক বা বহুজন সমাজপার্টির দুই বিধায়কের সমর্থন না পেলেও সরকার গড়ে ফেলতেন কমলনাথরা।

    কিন্তু তার পরেও এক প্রকার আগ বাড়িয়েই সমর্থন ঘোষণা করেন মায়াবতী-অখিলেশ। অথচ মধ্যপ্রদেশে নির্বাচনের সময় এই দুই শক্তিই কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে সামিল হতে চাননি। উল্টে কংগ্রেসের সমালোচনাই করেছিলেন।

    প্রশ্ন হল, কেন কংগ্রেসকে সমর্থন জানালেন অখিলেশ, মায়াবতী?

    পর্যবেক্ষকদের মতে, একে তো কংগ্রেসকে সমর্থন না জানালে সপা ও বসপার ওই তিন বিধায়ক এমনিতেই কংগ্রেসে সামিল হয়ে যেতে পারতেন। যে আশঙ্কা এখনও রয়েছে। দ্বিতীয়ত, উত্তরপ্রদেশের এই বুয়া-বাবুয়া বুঝতে পারছেন, মঙ্গলবারের ফলাফলের পর কংগ্রেস তথা রাহুলের গ্রহণযোগ্যতা জাতীয় রাজনীতিতে কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। এর পর কংগ্রেসের সঙ্গে তালমিল না করে চললে তাঁদের ক্ষতি। উত্তরপ্রদেশে পরস্পরের হাত না ধরলে তাঁদের দু’জনেরই যে অস্তিত্ব সংকট হতে পারে তা এতোদিনে বুঝে গিয়েছেন মায়াবতী ও অখিলেশ। কিন্তু সেই জোটে কংগ্রেসকে সামিল করা হবে কিনা তা নিয়ে এতোদিন ধরে ধানাই পানাই চলছিল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, গো বলয়ের তিন রাজ্যে কংগ্রেসের উত্থানের পর বুয়া-বাবুয়া বুঝতে পারছেন সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্কের মধ্যে কংগ্রেসের প্রতি আস্থা এর ফলে বাড়বে। কারণ, তাঁরা দেখতে পাচ্ছেন মোদী-অমিত শাহকে রুখে দেওয়ার ক্ষমতা রাহুল রাখেন। সুতরাং উত্তরপ্রদেশে বিরোধী জোটে কংগ্রেসকে না নিলে সংখ্যালঘু ভোটের ভাগাভাগি হবে। তাতে অমঙ্গল হতে পারে দু’জনেরই। বরং উত্তরপ্রদেশে মহাজোট করলেই মোক্ষলাভ সম্ভব। ফলে বুধবার অখিলেশ ও মায়া যে পদক্ষেপ করেছেন তার অর্থ সুদূরপ্রসারী। উত্তরপ্রদেশে বিজেপি বিরোধী মহাজোটের ঘোষণা এখন হয়তো সময়ের অপেক্ষা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More