বুধবার, মার্চ ২০

ভাতিজা ভয় পেও না, সিবিআই তদন্ত নিয়ে অখিলেশকে বরাভয় ‘বুয়া’ মায়াবতীর  

দ্য ওয়াল ব্যুরোলোকসভা ভোটের আগে উত্তরপ্রদেশে মহাজোট গঠনের জন্য শুক্রবার দিল্লিতে বৈঠক করেছিলেন মায়াবতী-অখিলেশ। তার পর চব্বিশ ঘন্টা না কাটতেই কাকতালীয় ভাবে উত্তরপ্রদেশে বেআইনি বালি খাদান মামলা নিয়ে রাজ্য জুড়ে তল্লাশি অভিযান ও ধরপাকড়ে নেমে পড়ে সিবিআই। সেই সঙ্গে সিবিআই সূত্রে এও বলা হয়, বালি খাদান মামলায় তদন্ত পৌঁছতে পারে অখিলেশের দরজা পর্যন্তও।

কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সির এই ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ জানিয়ে সোমবার সংসদের দুই কক্ষে তোলপাড় ফেলে দেন সপা, বসপা ও কংগ্রেসের সাংসদরা। তাঁরা অভিযোগ করে প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকার। বিরোধী স্বর বন্ধ করতে সিবিআই-কে লেলিয়ে দিচ্ছে। এমনকি যে কংগ্রেসকে উত্তরপ্রদেশে মহাজোটের বাইরে রাখতে চাইছেন অখিলেশ-মায়াবতী তারাও এ দিন সরব ছিল। রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা গুলাম নবি আজাদ বলেন, বালি খাদান নিয়ে দুর্নীতির তদন্ত গত সাড়ে চার বছর কেন করেনি সিবিআই। তল্লাশি ও ধরপাকড়ের সময় দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে এর নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। এ ধরনের স্বৈরাচার দেশে চলবে না।

হট্টোগোলের জেরে এ দিন সংসদের দুই কক্ষেই কিছুক্ষণের জন্য সভা মুলতবি হয়ে যায়। তার পর অখিলেশকে ফোন করেন মায়াবতী। বলেন, সিবিআই তদন্ত নিয়ে এত ভয় পাওয়ার বা ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু হয়নি। এগুলো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র মাত্র। তাই রাজনৈতিক ভাবেই এর মোকাবিলা করতে হবে।

মায়াবতী যে অখিলেশকে ফোন করেছিলেন তা বসপা থেকেই জানিয়ে দেওয়া হয় সংবাদমাধ্যমকে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এর মাধ্যমে মায়াবতী এ দিন এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন যে ভয় দেখালেও মহাজোট হচ্ছেই। সিবিআইকে লেলিয়ে দিয়ে তা থামানো যাবে না।

সিবিআই সূত্রে বলা হচ্ছে, অখিলেশ জমানায় এমন সময়ে খননের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল যখন সামগ্রিক ভাবে খনন কাজের উপরেই নিষেধাজ্ঞা ছিল। শুধু মাত্র কয়েক জন অফিসার, খনি দফতরের কর্মী, ও নিচু তলার নেতার যোগসাজসে এই বেআইনি কারবার হতে পারে না। হতে পারে আরও উপর থেকে তাঁদের বরাভয় বা মদত দেওয়া হয়েছিল। যে ১১ জনের বাড়িতে তল্লাশি ও জেরা চলছে, সেখান থেকে তদন্তে নতুন অভিমুখ মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে। সিবিআই কর্তাদের বক্তব্য, যে সময়ে এই বেআইনি কারবার হয়েছে তখন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন অখিলেশ। খনি দফতর ছিল তারই অধীনে। সেই কারণেই তাঁকে জেরা করা হতে পারে।

সিবিআইয়ের এই বক্তব্যই আন্দোলিত করে দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ তথা সর্বভারতীয় রাজনীতি। এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে সোমবার সাহসী মুখ দেখিয়েছেন অখিলেশও। তিনি বলেন, সিবিআইয়ের অফিসাররা জেরা করতে এলে আপত্তি নেই। এটাই তো জানতে চাইবেন যে মহাজোটে আসন ভাগাভাগির সূত্র কী?সপা-বসপা কে কটা আসনে লড়বে? ঠিক আছে ওঁদের জানিয়ে দেব।

Shares

Comments are closed.