রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ, সুপার ওভারে রোহিতদের টেক্কা ব্যাঙ্গালোরের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

অশোক মালহোত্রা

এটাই ক্রিকেট, এটাই টি ২০ ক্রিকেটের সেরা বিজ্ঞাপন। ২০০-র একটা ম্যাচ টাই হওয়ার পরে খেলা গড়াল সুপার ওভারে। সেখানে মুম্বইকে হারিয়ে শেষ হাসি হাসলেন কোহলিরাই। তাঁর  ব্যাট থেকেই এলো সুপার ওভারে জয়ের রান।

মুম্বই অধিনায়ক রোহিত কেন পোলার্ড ও ঈশানকে ব্যাটিং করতে নামাল না, সেটাই অবাক লাগছে। কারণ ওই দুই জুটি তো জমে গিয়েছিল, তারপর ঈশান সেঞ্চুরি মিস করল, সেই আক্ষেপ মেটাতে পারত সুপার ওভারে দুরন্ত খেলে, তারপরেও পোলার্ডের সঙ্গে হার্দিক কেন?  তবে নভদীপ সাইনি দারুণ বোলিং করে সাত রানে বেঁধে রেখেছে পোলার্ডদের।

রবিবারের শারজায় অত্যাশ্চর্য্য রাজস্থান ও পাঞ্জাবের মধ্যে ম্যাচ দেখার পরে এখন আইপিএল নিয়ে কেউ সচরাচর আগাম কথা বলতে সাহস পাবে না। সঞ্জু স্যামসন, রাহুল তেওটিয়াদের ইনিংস দেখার পরে জীবন সম্পর্কেই একটা স্পষ্ঠ ধারনা গড়ে ওঠে। মনে হয় যতক্ষণ শ্বাস, ততক্ষণ আঁশ। মানে শ্বাস যতক্ষণ চলবে, আশা ততক্ষণ পর্যন্ত।

মুম্বই ও ব্যাঙ্গালোর ম্যাচে পোলার্ড ও ঈশান কিশানের ব্যাটিং দেখার পরে গতকালের ম্যাচের ছবিটা মনে পড়ছিল। বারবার মন বলছিল আজ এমন কিছু হবে না? যেভাবে শিরশিরানি জাগিয়ে তুলেছিল এই দুই জুটি, তাতে ১২ বলে ৩১ রানের লক্ষ্য দাঁড়াল। যে ম্যাচটা ছিল ৩৬ বলে ৮২ রান করতে হবে।

ভাবা যায়, পোলার্ডের ব্যাটিং যেন অতিমানবের মতো লাগছিল। রাসেল, পোলার্ডরা এমনই হয়, ২০ বলে ৫৩ রান করল। চাহাল, জাম্পাদের মতো বিশ্বত্রাস স্পিনারদের যেভাবে তুলছিল, পোলার্ডের খেলা দেখলে মনে হয় ক্রিকেট কত সোজা।

পোলার্ড করল ২৪ বলে ৬০ রান, যার মধ্যে রয়েছে তিনটি চার ও ৫টি ছয়। এবং ঈশান কিশান হয়তো ৯৯ রানে ফিরল, কিন্তু তার জন্যই খেলা গড়িয়েছে সুপার ওভারে। বোল্টকে দুটি ছয় ও একটি চার মেরে খেলাকে নিয়ে গেল জয়ের দোরগোড়ায়, তারপর নির্ধারিত ওভারের শেষ বলে পোলার্ডের চারে খেলা টাই হয়ে সুপার ওভারে গিয়েছে। ঈশানের নামের পাশে ৫৮ বলে ৯৯ রান। ইনিংসে রয়েছে নয়টি ওভার বাউন্ডারি ও দুটি মাত্র চার।

এবার দেখছি আইপিএলে নতুনরা দারুণ খেলছে। কত নাম বলব, স্যামসন, পাল্লিকাল, তেওটিয়া, নতুন তারকারা ম্যাচ বের করে দিয়ে চলে যাচ্ছে। সেই কারণেই ঈশানের মধ্যে নায়ক হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলাম। দারুণ টানল ছেলেটা, এমনভাবে ৫টি ছয় মারল, মনে হবে কত সহজ ব্যাটিং ওর কাছে।

রোহিত শর্মা দ্রুত আউট হয়ে গেলে একটা দলের বাকিদের ওপর চাপ পড়ে। কারণ রোহিতের ক্যারিশমা, আর চাপ নেওয়ার ক্ষমতা। কোহলির মতো এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে রোহিতও ব্যর্থ, ফিরল আট রানে। কুইন্টন ডি’ককও ফিরল ১৪ রানে। তারপর ঈশানের জন্যই মুম্বই লড়াই করেছে।

আমার কাছে বাঙ্গালোরের ব্যাটিং লাইনআপের নেতা মনে হল এবি ডি’ভিলিয়ার্সকে। কতটা দায়িত্ব নিয়ে খেলেছে, এমনকি এমনভাবে দুবেকে নিয়ে ইনিংসটাকে টানল, আমার দারুণ লেগেছে। নিজে ২৪ বলে ৫৫ রানের হার না মানা ইনিংস খেলে গিয়েছে, যার মধ্যে ছিল চারটি বাউন্ডারি ও চারটি ছয়।

ডি’ভিলিয়ার্সের শরীরি ভাষাতেই দলের ইতিবাচক মানসিকতা ধরা পড়েছে। সেদিক থেকে আমি বলব বিরাটকে কেমন যেন ডাউন লাগছে! ফিল্ডিংয়ের সময় হয়তো চনমনে ব্যাপার দেখেছি, কিন্তু কোহলি ব্যাটিং করলে একটা সমীহ ভাব থাকে বিপক্ষ দলের, সেটাই আমি এবার দেখছি না। তিন রানে আউট হল আজ, যা কোহলিচিত নয়।

ব্যাঙ্গালোর দলের ছন্দ ধরে রাখার মূল কারণ যদিও দলের দুই ওপেনারদ্বয়। কী অসাধারণ শুরু করেছিল দেবদূত পাল্লিকাল (৪০ বলে ৫৪) ও অ্যারণ ফিঞ্চ (৩৫ বলে ৫২)। এরকম শুরু হলে চাপমুক্ত থাকা যায়। তারপর বাকি কাজটি সেরেছে ডি’ভিলিয়ার্স ও দুবে। এবি এত সুন্দরভাবে দুবেকে গাইড করল, তাতে আত্মবিশ্বাস পেয়ে গিয়েছে। সুপার ওভারেও তো তাই করে গেল।

আবার এও ঠিক, মুম্বইয়ের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে পোলার্ড ও ঈশান কিশান যা খেলে দিয়েছে, তাতে করে ওদের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে গিয়েছে। এও প্রমাণ হল, এবারের ২০০ কিংবা তার বেশি রানও সুরক্ষিত নয়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর : রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর :  ২০ ওভারে ২০১/৩। ডি’ভিলিয়ার্স ৫৫, পাল্লিকাল ৫৪, ফিঞ্চ ৫২, দুবে ২৭, বোল্ট ২/৩৪। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স : ২০ ওভারে ২০১/৫। ঈশান ৯৯, পোলার্ড ৬০, উদানা ২/৪৫।
ম্যাচ টাই।
সুপার ওভারে : মুম্বই : ৬ বলে ৭ রান।
ব্যাঙ্গালোর : ৬ বলে ১১ রান।
সুপার ওভারে জয়ী ব্যাঙ্গালোর।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More