জঙ্গলমহলে ফের মাওবাদী কায়দায় পোস্টার-কার্তুজ, চলছে পুলিশি টহল

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দেবব্রত সরকার, শালবনি:  পঞ্চায়েত ভোটের মুখে ফের মাওবাদী কায়দায় পোস্টার পড়ল জঙ্গলমহলে। অকুস্থল সেই শালবনি থানা এলাকার গরমাল!

কী ঘটেছে সেখানে?

শনিবার সকালে শালবনি থানার গরমাল, কালিভাসা, পাথর কুমকুমি গ্রামের মানুষ ঘুম থেকে উঠে দেখেন এক্কেবারে মাওবাদীদের মতো কেউ বা কারা পোস্টার সেঁটে গিয়েছে দেওয়ালে। পোস্টারের নিচে এক জায়গায় আবার পড়ে রয়েছে গুলি। তাতে লেখা রয়েছে,”পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের একশ দিন নয়, ৩৬৫ দিনের কাজ দিতে হবে। নইলে গদি ছাড়তে হবে।“ পোস্টার ছাড়াও আতঙ্ক ছড়ায় বোমের। লোকের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে যে রাস্তার ধারে জঙ্গলের মধ্যে বোমা রাখা রয়েছে। সে খবর পাওয়া মাত্র মেদিনীপুর সদর থেকে বম্ব ডিস্পোজাল স্কোয়াড রওনা হয়ে যায় শালবনির উদ্দেশে। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁরা দেখেন, বোমা নয়,  টিফিন বাক্সের মধ্যে বেশ কিছু গুলি-কার্তুজ। কিন্তু তাই বা কম কীসে!

স্থানীয়দের কথায়, দশ বছর আগে ঠিক এ ভাবেই কিন্তু শুরু হয়েছিল মাওবাদীদের কার্যকলাপ। ২০০৮ সালে এই গরমাল গ্রামেই একশ দিনের কাজ করার সময় তিন জন গ্রাম বাসীকে মাথায় গুলি করে মারা হয়েছিল। তার পর থেকেই জনসাধারণের কমিটি মাথা তুলতে শুরু করে দেয়। ২০০৯ এর গোড়া থেকে ছত্রধর মাহাতোর গ্রাম আমলিয়াতে ক্রমশ তীব্র হয় জন সাধারণের কমিটির আন্দোলন। তাদের সঙ্গে মাওবাদী যোগ পাওয়া যায়। ওই বছরের এর শেষ দিকে সেই আন্দোলনের ঝাঁঝ আরও বাড়ে। মধুপুরের সভায় তা প্রথম সামনে আসে। এ দিন সেই গরমালেই ফের পোস্টার ও গুলি মেলায় লাগোয়া জঙ্গলগুলিতে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ ও সিআরপিএফ।

বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর জঙ্গলমহলে শান্তি কায়েম করেছিলেন তা নয়, সেখানে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজও কম হয়নি। সেই সঙ্গে খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় ২ টাকা কেজি চাল সহ সামাজিক সুরক্ষার বেশ কিছু প্রকল্পও বাস্তবায়িত হয়েছে সেখানে। জঙ্গলমহলে নিরাপদে যাতায়াত করছিল মানুষ। এমনকি রাজ্য সরকার সেখানে পর্যটনেও উৎসাহ দেওয়া শুরু করেছিল। সন্দেহ নেই শনিবারের ঘটনায় ফের সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছেন স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তা ও গ্রামবাসীরা।

 

 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More