সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩

ভাটপাড়া, গারুলিয়া, হালিশহর…… দলে দলে দিল্লি চলো তৃণমূল নেতাদের, কেন?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গঙ্গাপারের একের পর এক পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলররা দিল্লির পথে। উদ্দেশ্য একটাই। জোড়া ফুল ছেড়ে পদ্মফুলে যোগ দান।

জানা গিয়েছে উত্তর চব্বিশ পরগনার কাঁচড়াপাড়া, ভাটপাড়া, গারুলিয়া, হালিশহর-সহ বিভিন্ন পুরসভার বহু কাউন্সিলর দিল্লির দিকে রওনা দিয়েছেন। দু’একদিনের মধ্যেই তাঁরা যোগ দেবেন বিজেপি-তে। শুধু উত্তর চব্বিশ পরগনা নয়, নদিয়ার রাণাঘাট ও অন্যান্য পুরসভা, হুগলির আদিসপ্তগ্রাম এলাকার কাউন্সিলররাও শিবির বদলাতে দিল্লি যাচ্ছেন।

ভোটের পর থেকেই একাধিক জায়গায় দল বদলের পালা শুরু হয়ে গিয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুরে দেখা গিয়েছে বিজেপি পার্টি অফিসের বাইরে লম্বা লাইন তৃণমূল কর্মীদের। এই সে দিনও যাঁদের মুখে শোনা যেত ‘মমতা ব্যানার্জি জিন্দাবাদ’, তাঁরাই হঠাৎ ‘জয় শ্রীরাম’ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত করতে শুরু করে দিয়েছেন।

কিন্তু কর্মীদের দলবদল আর লাইন দিয়ে কাউন্সিলরদের দলবদল এক ব্যাপার নয়। কারণ এমন যদি হয়, অধিকাংশ কাউন্সিলরই বিজেপি-র দিকে পা বাড়াচ্ছেন, তাহলে বোর্ড ভেঙে যেতে পারে। প্রসঙ্গত একদা তৃণমূলের দাপুটে নেতা অর্জুন সিং বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পরই ব্যারাকপুরের মহকুমা শাসকের কাছে তৃণমূল দাবি জানিয়েছিল, ভাটপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে অর্জুন সিংকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সেই মতো, আস্থা ভোটে অর্জুন সংখ্যা গরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন। কিন্তু চেয়ারম্যান চলে যাওয়ার পর ভাটপাড়া পুরসভার বাইরে দাঁড়িয়ে হাসতে হাসতে অর্জুন বলেছিলেন, “এটা কিছু দিনের জন্য। সারা জীবনের জন্য নয়। আগামী দিনেই দেখতে পাবেন।” দিল্লি যাওয়ার হিড়িক দেখে অনেকেই বলছেন, অর্জুনের সে দিনের কথাই হয়তো ফলতে চলেছে।

তৃণমূলের কোনও নেতা অবশ্য দলের কাউন্সিলরদের দিল্লি যাওয়া নিয়ে সরকারি ভাবে কোনও মন্তব্য করেননি। তবে দলের এক শীর্ষ নেতা ঘরোয়া আলোচনায় বলেন, “ওরা (পড়ুন বিজেপি) বস্তা বস্তা টাকা নিয়ে কাউন্সিলরদের কিনতে চাইছে।” এখন দেখার কোন পুরসভার, কতজন কাউন্সিলর দিল্লি পৌঁছন। তাতে কোনও বোর্ড চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে কিনা।

Comments are closed.