শুক্রবার, নভেম্বর ১৬

নোটবন্দি অর্থনীতিকে ঘেঁটে দিয়েছে, সময়ের সঙ্গে আরও প্রকট হচ্ছে ক্ষত: মনমোহন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’বছর আগে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকার নোটবন্দির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা পরেই সংসদের উচ্চকক্ষে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ। বলেছিলেন, নোটবন্দি হল সংগঠিত লুঠ। ফাঁপা অ্যাডভেঞ্চারিজম দেখাতে গিয়ে অর্থনীতির বড় সর্বনাশ করে দিলেন নরেন্দ্র মোদী। এর ফলে দেশের গড় উৎপাদনে বড় রকমের ধাক্কা লাগার আশঙ্কা রয়েছে।

গত চব্বিশ মাসে মনমোহনের ভবিষ্যদ্বাণী হুবহু মিলে গিয়েছে। নোটবন্দিতে দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও উতপাদনে যে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে তা বাস্তব। বৃহস্পতিবার নোটবন্দির দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির দিনে এ ব্যাপারে ফের মোদী সরকারের বিরুদ্ধে ঝলসে উঠলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।

এ দিন এক বিবৃতিতে বলেন, “কথায় বলে সময়ের সঙ্গে সব নিরাময় হয়ে যায়। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে নোটবন্দির ক্ষত তত প্রকট হচ্ছে। দেশের অর্থনীতি নিয়ে ফাটকা খেলা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে কী ভাবে ঘেঁটে দিতে পারে তা এ ঘটনা থেকেই পরিষ্কার।”

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, দেশের গড় উৎপাদনে বৃদ্ধির হার নোটবন্দির ফলে কমেছে। তা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। কিন্তু আরও কত যে ক্ষতি হয়ে গিয়েছে তার সবটা এখনও হিসাবনিকেশ করা যায়নি। যেমন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ভারতীয় অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ। নোটবন্দির ফলে এরা সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ধাক্কা এরা এখনও পুরোপুরি সামলে উঠতে পারেনি। ফলে কর্মসংস্থানের উপর তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে। একই ভাবে বাজারে নগদ টাকার সংকটও তৈরি হয়েছে।

বস্তুত অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ হিসাবে মনমোহনের গ্রহণযোগ্যতা বরাবরই উচ্চ স্থানে রয়েছে। তাঁর উদারীকরণ তথা মুক্ত অর্থনীতির দাওয়াইয়ের পর থেকে যা শুরু হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে মনমোহনের এ দিনের সমালোচনা যে কেন্দ্রে সরকারের গায়ে কাঁটার মতো ফুটছে সংশয় নেই।

এই অবস্থায় নোটবন্দি নিয়ে সমালোচনা সামাল দিতে এ দিন ময়দানে নামেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। তিনি বলেন, অর্থনীতিতে একটা ঝাঁকুনি দেওয়া দরকার ছিল। নোটবন্দির ফলে কালো টাকার লেনদেন কমেছে, ডিজিটাল মাধ্যমে অনেক বেশি লেনদেন হচ্ছে, ফলে কর আদায় বেড়েছে।

কিন্তু মনমোহনের মতে, যে কথা বলে নোটবন্দি করা হয়েছিল তার কোনও উদ্দেশ্যই সিদ্ধ হয়নি। উপরি এখন মুদ্রার অবমূল্যায়ণ হয়েছে, অপরিশোধিত তেলের দামও অর্থনীতির উপর চাপ তৈরি করেছে। ফলে স্বল্প মেয়াদের অর্থনীতি নিয়ে আর কোনও দুঃসাহস না দেখানোই ভাল। বরং রক্ষণশীল পদক্ষেপ করে ক্ষত নিরাময়ে মন দিতে হবে সরকারকে

 

Shares

Comments are closed.