পৃথিবীটা গোল নয় চ্যাপ্টা, প্রমাণ করতে গিয়ে রকেট দুর্ঘটনায় মরলেন শখের বিজ্ঞানী

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিজ্ঞানীদের ধারণা ভুল। পৃথিবীটা গোল নয়, চ্যাপ্টা। বাচ্চারা যেমন ফ্রিসবি নিয়ে খেলে, পৃথিবীর আকৃতি সেরকমই। এমনটাই বিশ্বাস করতেন আমেরিকার শখের জ্যোতির্বিদ মাইকেল হুগস। শুধু বিশ্বাস করা নয় তিনি উঠে পড়ে লেগেছিলেন, তাঁর তত্ত্ব প্রমাণ করেই ছাড়বেন। নিজের বাড়ির উঠোনে বানিয়ে ফেলেছিলেন আস্ত রকেট। তাঁর ধারণা ছিল, রকেটে চড়ে ১৫০০ মিটার অর্থাৎ প্রায় একমাইল উঠলেই বোঝা যাবে, পৃথিবীর আকৃতি আসলে কী রকম। কিন্তু রকেটে ওড়ার পরেই ভেঙে পড়ল। মারা পড়লেন মাইকেল।

    এক সায়েন্স চ্যানেলে রকেটের উড়ানের ছবি তুলেছিল। তারাই মাইকেলের মৃত্যুসংবাদ জানিয়েছে। ওই সায়েন্স চ্যানেল ডিসকভারি চ্যানেলের অংশ। তারা বিবৃতিতে বলেছে, মাইকেল ‘ম্যাড মাইক’ হুগস শনিবার বাড়িতে তৈরি রকেটে চড়ে উড়তে চেয়েছিলেন। রকেট ভেঙে পড়ায় তিনি মারা গিয়েছেন। তাঁর পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের সহানুভূতি জানাই।

    অনেকেই ভাবতেন, মাইকেল আজগুবি খেয়ালে মেতেছেন। তাঁরাই মাইকেলের নাম দেন ‘ম্যাড মাইক’। তাঁর বাড়ি ছিল ক্যালিফোর্নিয়ার বার্সটো অঞ্চলে। কয়েকটি কোম্পানি তাঁর রকেট বানানোর খরচ স্পনসর করেছিল।

    ৬৪ বছর বয়সী মাইকেল ঝুঁকি নিতে ভালবাসতেন। তিনি পেশায় ছিলেন স্ট্যান্টম্যান। তাঁর মুখপাত্র ড্যারেন শুসটার ‘লস এঞ্জেলিস টাইমস’-কে জানিয়েছেন, আসলে মাইক চেয়েছিলেন, তাঁর হোম মেড রকেট নিয়ে হইচই হোক। সেজন্যই রটিয়ে দিয়েছিলেন, ওই রকেটে উড়ে তিনি প্রমাণ করবেন, পৃথিবীটা চ্যাপ্টা।

    তাঁর কথায়, “আমার মনে হয় না মাইক সত্যি সত্যি বিশ্বাস করত যে, পৃথিবীটা চ্যাপ্টা। জনসংযোগের জন্য সে একটা স্ট্যান্ট দিয়েছিল।”

    রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা এক ছবিতে দেখা যায়, মরুভূমির মধ্যে থেকে উড়ল মাইকের রকেট। তার কিছুক্ষণের মধ্যে ছিঁড়ে গেল একটি প্যারাসুট। যেখান থেকে উড়েছিল, তার কিছু দূরে আছড়ে পড়ল রকেট।

    লস এঞ্জেলিস শহর থেকে ১৮০ কিলোমিটার দূরে এই দুর্ঘটনা হয়। সায়েন্স চ্যানেলে ‘হোমমেড অ্যাস্ট্রনট’ নামে এক অনুষ্ঠানে মাইকের রকেট ওড়ানো দেখানো হচ্ছিল। চ্যানেলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “মাইক বহুদিন ধরে স্বপ্ন দেখতেন, নিজের তৈরি রকেটে চড়ে উড়বেন। সেই উড়ান টিভির পর্দায় দেখানোর জন্য হাজির ছিল আমাদের ক্যামেরা।”

    মাইককে দেখা যায়, স্পেস স্যুট পরে দাঁড়িয়ে আছেন রকেটের সামনে। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, এত বড় মন ঝুঁকি নিচ্ছেন কেন? তিনি বলেন, “আমি সকলকে বোঝাতে চাই, খুব সাধারণ মানুষও চেষ্টা করলে অসাধারণ কিছু করে ফেলতে পারে। আমার রকেট যাত্রা হয়তো অনেককে অনুপ্রেরণা দেবে।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More