শিল্পপতিরা হেনস্থার শিকার, চাপ সহ্য করতে পারছেন না, সিদ্ধার্থর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে বললেন মমতা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবার সকালে পাওয়া গিয়েছে ক্যাফে কফি ডে-র মালিক ভি জি সিদ্ধার্থের দেহ। তারপরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টুইট করে শোক প্রকাশ করেছেন। সেই সঙ্গে পরোক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, শিল্পপতিরা এখন নিয়মিত হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। তাঁদের অনেকে বিদেশে চলে গিয়েছেন। এমনকী বিরোধী দলের বিধায়ক কেনাবেচা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কথাও তিনি শোকবার্তায় উল্লেখ করেছেন।

টুইটে প্রথমেই মমতা লিখেছেন, ক্যাফে কফি ডে-র প্রতিষ্ঠাতা ভি জি সিদ্ধার্থ সম্পর্কে যে খবর পেলাম তাতে আমি গভীর শোক পেয়েছি। এরপর তিনি মৃত্যুর কয়েকদিন আগে সিদ্ধার্থের লেখা একটি চিঠির কথা পরোক্ষে উল্লেখ করেছেন। সেই চিঠিতে সিদ্ধার্থ অভিযোগ করেছিলেন, আয়কর দফতরের এক অফিসার তাঁকে নিয়মিত হেনস্থা করছেন।

মমতা টুইটারে লিখেছেন, সিদ্ধার্থ যা বলে গিয়েছেন, তাতে মনে হয়, তাঁকে বিভিন্ন সংস্থা নিয়মিত হেনস্থা করত। তিনি শান্তিতে ব্যবসা করতে পারছিলেন না। সেজন্য মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। এই অবসাদ শেষপর্যন্ত সহ্য করতে পারেননি।

এরপরে তিনি বলেন, আমি নানা সূত্র থেকে খবর পাচ্ছি, দেশের বড় শিল্পপতিরা সকলেই চাপে রয়েছেন। তাঁরা অনেকে দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছেন। অনেকে চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, তারা সকলেই বিধায়ক বা সাংসদ কেনাবেচার ভয় পাচ্ছে। তাদের যে কোনও সময় তারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

সাধারণভাবে দেশের অর্থনীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৮-১৯ সালে আর্থিক বিকাশের হার অনেকখানি নেমে গিয়ে ৫.৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গত পাঁচ বছরে বিকাশের হার কখনও এত কমেনি। দেশে বেকারত্ব এখন গত ৪৫ বছরের তুলনায় সবচেয়ে বেশি।

সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তারা সরকারি সম্পত্তি বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ড থেকে বিএসএনএল, এয়ার ইন্ডিয়া থেকে রেল, চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ থেকে দুর্গাপুরের অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট, সবই বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির অবস্থা খুব খারাপ। তাতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি।

কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, শিল্প, কৃষি এবং চাকরির সুযোগ, এই তিনটির ওপরে ভিত্তি করেই দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে। যদি শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে আর্থিক বিকাশ হবে না। চাকরির সুযোগও সৃষ্টি হবে না। ফলে আরও বেশি মানুষ বেকার হয়ে পড়বেন।

কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে মমতা বলেছেন, আপনারা যখন নির্বাচিত হয়েছেন, আপনাদের শান্তিপূর্ণ পথে কাজ করা উচিত। মানুষ যেন ভরসা পায় যে, কেউ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হবে না এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থা দেশের ভবিষ্যতকে ধ্বংস করবে না।

শেষে ফের সিদ্ধার্থের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁর পরিবারের সকলকে সহানুভূতি জানাই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More