বুধবার, মার্চ ২০

দুর্বলরা চাকরিতে সংরক্ষণ পেলে খুশি হবো, কিন্তু ভোটের নামে লোক ঠকানোর মানে কী: মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরোঅর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পড়া উঁচু জাতের ছেলেমেয়েদের জন্য মোদী সরকারের সংরক্ষণ প্রস্তাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরসারি আপত্তি করলেন না ঠিকই। কিন্তু এই প্রস্তাবের বাস্তবায়ন আদৌ সম্ভব কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তাঁর কথায়, সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী সরকারি চাকরি ও শিক্ষাক্ষেত্রে ৫০ শতাংশের বেশি সংরক্ষণ দেওয়া সম্ভব নয়। তা হলে কি ভোটের নামে দেশের যুব সমাজকে ঠকানো হচ্ছে?

প্রসঙ্গত, লোকসভা ভোটের আগে সোমবার বিকেলে বড় চমক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এ দিন বিকেলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সরকারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, সমাজে অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে জেনারেল কাস্ট তথা সাধারণ শ্রেণির ছেলেমেয়েরা শিক্ষা ও সরকারি চাকরিতে ১০ শতাংশ সংরক্ষণ পাবে। সে জন্য কালই সংসদে সংবিধান সংশোধন বিল পেশ করতে পারে সরকার।

মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্ত সোমবার আন্দোলিত করে দেয় সর্বভারতীয় রাজনীতি। এমনিতে সংরক্ষণ বিষয়টি বরাবরই জাতীয় স্তরে স্পর্শকাতর বিষয়। এ ব্যাপারে সমাজের একাংশের মধ্যে যতই উষ্মা থাকুক রাজনৈতিক ভাবে সংরক্ষণের বিরোধিতা করার ঝুঁকি কোনও দলই নেয় না। স্বাভাবিক ভাবেই মোদী সরকার এ দিন যে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন, সরাসরি তার বিরোধিতা করে হাত পোড়াতে চাইছে না কোনও রাজনৈতিক দলই। তা সে কংগ্রেসই হোক বা তৃণমূল। বরং তাঁরা একটি মৌলিক প্রশ্ন তুলতে শুরু করে দিয়েছেন। তা হল, এই ঘোষণার বাস্তবায়ন করতে পারবেন তো মোদীনাকি এটা শুধু জুমলা।

কী কারণে প্রশ্ন তুলছেন রাহুল বা মমতা?

এ দিন সন্ধ্যায় নবান্ন থেকে বেরোনোর সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দুর্বলরা চাকরি পেলে আমি খুবই খুশি হবো। কিন্তু সংরক্ষণের প্রশ্নে বহু আগে সুপ্রিম কোর্ট একটি মাইলফলক রায়ে জানিয়ে দিয়েছিল, সরকারি চাকরি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে সংরক্ষণ কোনও ভাবেই যাতে ৫০ শতাংশ অতিক্রম করতে না পারেন। বর্তমানে তফসিলি জাতি, উপজাতি এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির জন্য মোট ৫০ শতাংশ সংরক্ষণের বিধি রয়েছে। অর্থনৈতিক ভাবে অনগ্রসরদের জন্য আরও ১০ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করতে মোট সংরক্ষিত আসনের পরিমাণ দাঁড়াবে ৬০ শতাংশ। তা সুপ্রিম কোর্টের রায়কে লঙ্ঘন করবে। ফলে এ ধরনের কোনও নির্দেশ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল হলেই সর্বোচ্চ আদালত সরকারের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেবে।

এ দিন দিল্লিতে একই কথা বলেন, কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালা। অন্যদিকে মমতা আরও বলেন, ভোটের আগে যদি যুব সম্প্রদায়কে ভাঁওতা দেওয়া হয় তা হলে মানুষই সাজা দেবেন।

বিজেপি-র অবশ্য বক্তব্য, কংগ্রেস ও তৃণমূল হতাশা থেকেই এ সব কথা বলছে। এ দিন বিকেলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিজয় সম্পলা বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় সম্পর্কে সরকার ভালমতোই অবগত। সেই কারণেই সংবিধান সংশোধন বিল আনার কথা ভাবা হয়েছে। বিরোধীদের কিছু বলার নেই বলেই ইনিয়ে বিনিয়ে বিরোধিতা করছে। অন্যদিকে রাজ্য বিজেপি-র এক মুখপাত্র বলেন, ভাঁওতা তো দিচ্ছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। যুব সম্প্রদায়ের জন্য যখন বাংলায় কোনও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না তখন কলেজ শিক্ষকদের অবসরের মেয়াদ দুম করে বাড়িয়ে দেওয়া হল। এতে যুব সম্প্রদায় হতাশ হবে নাতাঁরা কি তৃণমূলকে সবক শেখাবে না! বোঝাই যাচ্ছে, দিদি ভয় পেয়েছেন মোদীর সিদ্ধান্ত দেখে। 

পড়ুন-

উঁচু জাত কিন্তু গরিব, মোদীর সৌজন্যে ওঁদেরও সংরক্ষণ শিক্ষা ও চাকরিতে

Shares

Comments are closed.