মঙ্গলবার, মার্চ ১৯

ধর্মঘট রুখতে আরও কড়া মমতা-সরকার, এবার নির্দেশিকা জারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকেরও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের ডাকা দু’দিনের ধর্মঘট ব্যর্থ করতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। এই নিয়ে এবার লিখিত নির্দেশও জারি করল রাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। স্পষ্ট জানিয়ে দিল, আইনশৃঙ্খলার কোনও চ্যুতি বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশ এবং প্রশাসনকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হল নিরাপত্তা রক্ষার।

সমস্ত জেলাশাসক ও থানাকে এই প্রথম আলাদা করে নির্দেশ দেওয়া হল, কেন্দ্রীয় সরকারি অফিস, বিল্ডিং, রেল– এই সব সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করার। ধর্মঘট ঘিরে কোনও রকম বেআইনি কাজও বরদাস্ত করা হবে না বলেও জানানো হল।প্রশাসনকে আগেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কোনও ভাবেই যেন বনধ সফল করতে না দেওয়ার। নবান্নের তরফে ডিজি, এডিজি এবং ডিভিশনাল কমিশনারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সরকারি কর্মীদের নিরাপত্তা দিতে হবে। সরকারি অফিসগুলিতে যাতে কোনও রকম বনধ না হয় তা-ও নিশ্চিত করতে হবে। শুধু রাজ্য সরকার নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের অফিসগুলিতেও নিরাপত্তা দিতে হবে। সরকারি সম্পত্তি যাতে নষ্ট না হয়, নিশ্চিত করতে হবে সেটাও। বনধের দু’দিন রাস্তায় অতিরিক্তি পুলিশ বাহিনী মোতায়েন থাকবে বলে জানা গিয়েছে।

৮ ও ৯ জানুয়ারি সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন। বনধের আওতায় থাকছে রেল, সড়ক, বিদ্যুৎ পরিষেবা, ব্যাঙ্ক। কেন্দ্রের জনবিরোধী নীতি, কর্মসংস্থান-সহ ১২ দফা দাবিতে এ রাজ্যের বাম ট্রেড ইউনিয়ন, কো-অর্ডিনেশন কমিটি সহ অন্য শ্রমিক সংগঠনগুলি এই ধর্মঘটকে সমর্থন জানিয়েছে। যুক্ত হয়েছে আরও তিন দফা অতিরিক্ত দাবি। সেগুলি হল: বকেয়া ডিএ প্রদান করতে হবে, ষষ্ঠ বেতন কমিশন চালু করতে হবে এবং ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার দিতে হবে। মূলত বাম ট্রেড ইউনিয়নগুলি এই ধর্মঘট ডাকলেও তা সমর্থন করেছে একাধিক ডানপন্থী ট্রেড ইউনিয়নও। সমর্থন করেছে একাধিক কৃষক সংগঠনও। কিন্তু এ রাজ্যে এই বনধ ব্যর্থ করতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস সরকার।

আগের দিনই নবান্নের তরফে সরকারি নোটিস জারি করা হয়েছিল, সরকারি অফিসে কর্মীদের হাজিরা বাধ্যতামূলক। তাঁরা সাত তারিখ থেকে দশ তারিখের মধ্যে ছুটি নিতে পারবেন না। কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়, ধর্মঘটের দিন কাজের জায়গায় উপস্থিত না থাকলে এক দিনের বেতন কাটা যাবে। চাকরি জীবন থেকেও ছেদ হবে একটা দিন। এ দিনের রাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা নির্দেশিকাতেও স্পষ্ট, ‘চলছে না-চলবে না’ রাজনীতি বরদাস্ত করবে না মমতা সরকার।

প্রবীণ সিটু নেতা তথা সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্যামল চক্রবর্তী অবশ্য বলেন, “দুধ কা দুধ, পানি কা পানি স্পষ্ট হয়ে গেল। আগের দিন দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, বাঙালি প্রধানমন্ত্রী হলে মমতাই হবেন। আজ মমতার সরকার জানিয়ে দিল, কেন্দ্রীয় সরকারের দফতরগুলি পাহারা দেবে রাজ্যের শাসক দল। ফলে আঁতাঁতের ইঙ্গিত স্পষ্ট।”

কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে এই বনধ হলেও এ রাজ্যে ধর্মঘট বানচাল করতে চায় শাসকদল। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কর্মসংস্কৃতি বজায় রাখতে সব ধরনের বনধের বিরোধিতা করেছেন মমতা। এবারেও তার ব্যতিক্রম হল না। বাম শ্রমিক সংগঠনের তরফে তাঁকে বনধে সামিল হতে অনুরোধ জানানো হলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বরং উল্টো পথে হেঁটে কড়া হাতে বনধ সমর্থকদের দমনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন।

আগেই রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল, বনধের দু’দিন রাজ্যের সব রুটে চলবে অতিরিক্ত সরকারি বাস। শুধু তাই নয়, কোথাও বাস বা অন্য কোনও যানবাহন না পাওয়া গেলে, জানানো যাবে হোয়াটসঅ্যাপেও। সেই সঙ্গে, পরিবহণ কর্মীরা কাজে বেরিয়ে আক্রান্ত হলে, তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও ঘোষণা করে রাজ্য। সব মিলিয়ে, বনধ মোকাবিলায় কোমর বেঁধেই নামছে রাজ্য সরকার।

Shares

Comments are closed.