বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪

রেলমন্ত্রীকে চিঠি মমতার: ডানকুনি পর্যন্ত পণ্যবাহী করিডরের কাজ কি অনিশ্চিত, একটু দেখুন!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবারই সোশাল মিডিয়ায় একটি গ্রাফিক ভিডিও ছেড়েছিলেন রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তার পর লিখেছিলেন, খুব শীঘ্রই কলকাতায় হুগলি নদীর তলায় মেট্রো রেল যাত্রা শুরু করতে চলেছে। দেশের মধ্যে প্রথম আন্ডার ওয়াটার মেট্রো শুরু হবে কলকাতায়!

তার পর চব্বিশ ঘন্টাও কাটল না, রেলমন্ত্রীকে চিঠি লিখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন করলেন, পূর্বাঞ্চলের পণ্যবাহী রেল করিডরের যে ডানকুনি পর্যন্ত সম্প্রসারণের কথা ছিল, তা কি অনিশ্চিত? এ ব্যাপারে রাজ্য সরকার জমি অধিগ্রহণ শুরু করে দিলেও রেল মন্ত্রক কেন সাড়া শব্দ করছে না!

মুখ্যমন্ত্রী চিঠিতে লিখেছেন, পূর্বাঞ্চলের পণ্যবাহী রেল করিডর প্রথম পর্যায়ে লুধিয়ানা থেকে মোগলসরাই পর্যন্ত আসার কথা। তার পর দ্বিতীয় পর্যায়ে সেই করিডর আরও ১২৬ কিলোমিটার সম্প্রসারিত করে বিহারের সোননগর পর্যন্ত যাবে। সেখান থেকে আরও ৫৩৮ কিলোমিটার পর্যন্ত তার সম্প্রসারণ ঘটিয়ে ডানকুনি পর্যন্ত পৌঁছনোর কথা ছিল। কিন্তু দেখে মনে হচ্ছে, তৃতীয় পর্যায়ের কাজ একেবারেই অনিশ্চিত।

চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী এও লিখেছেন, অথচ রেলের অনুরোধে রাজ্য সরকার জমি অধিগ্রহণের কাজও শুরু করে দিয়েছিল। প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ৭০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ হয়ে গিয়েছে। ৬০ শতাংশ জমি রেলকে হস্তান্তরও করা হয়েছে। কিন্তু প্রথম দুই ধাপে প্রকল্পের রূপায়ণ যখন মূলত সরকারি টাকায় হচ্ছে, তখন বলা হচ্ছে তৃতীয় পর্যায়ের কাজ হবে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে! কী ভাবে তৃতীয় পর্যায়ের কাজ হবে সে ব্যাপারেও কোনও স্পষ্ট দিশা নেই।
মমতার কথায়, পশ্চিমাঞ্চলের পণ্যবাহী রেল করিডরের কাজ শেষ করে ২০২১ সালের মধ্যে শুরু হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু পূর্বাঞ্চলের প্রকল্পটি নিয়েই যেন দোদুল্যমানতা চলছে।

পীযূষ গোয়েল মমতাকে জবাব দেন সেটা দেখার। তবে মমতার চিঠি নিয়ে দিল্লির কিছু রেল কর্তার পাল্টা বক্তব্য রয়েছে। তাঁদের কথায়, পণ্যবাহী করিডরের মূল উদ্দেশ্য হল শিল্পাঞ্চল থেকে পণ্য পরিবহণ করে বন্দরে পৌঁছে দেওয়া এবং সেখানে শিল্পাঞ্চলে কাঁচা মাল সরবরাহ করা। পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের ছবিটা দুর্বল। সুতরাং করডরটি ডানকুনি পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা তা বাণিজ্যিক ভাবে সঙ্গত হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

মমতার চিঠির মধ্যে রাজনীতিও দেখছেন কেউ কেউ। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, কেন্দ্রে বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলছেন মমতা। আগে বামেরাও ধারাবাহিক ভাবে এই রাজনীতিই করেছেন। আবার কারও কারও মতে, পীযূষ গোয়েল মেট্রো রেলের যে ভিডিও প্রকাশ করেছেন, তার মধ্যে বাংলার মানুষকে বার্তা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। পাল্টা চিঠি দিয়ে সেটাই হয়তো কাটতে চেয়েছেন মমতা।

Comments are closed.