কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতে নয়া মোড়, এবার মমতার চিঠি মোদীকে

প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে মমতা এমনও লেখেন য, তিনি প্রতিদিন শয়ে শয়ে ইমেল পাচ্ছেন পড়ুয়া এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় যুক্তদের থেকে। সকলেই ইউজিসির নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়ার বিপক্ষে। সকলেই চাইছেন পড়ুয়াদের আগের পরীক্ষার ফল বিবেচনা করেই চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হোক।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া বাধ্যতামূলক। সম্প্রতি মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের এমন নির্দেশের পরে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত রাজ্য মানবে না এমন ইঙ্গিত দিয়ে আগেই মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রককে আপত্তি জানিয়ে চিঠি পাঠায় রাজ্য। এবার সেই সিদ্ধান্ত দ্রুত পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ওই চিঠিতে মমতা জানিয়েছেন, পড়ুয়াদের ঝুঁকি ও ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই করোনা সংক্রমণের এই পরিবেশে পরীক্ষা না নেওয়াই উচিত।

    এদিন প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে মমতা এমনও লেখেন য, তিনি প্রতিদিন শয়ে শয়ে ইমেল পাচ্ছেন পড়ুয়া এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় যুক্তদের থেকে। সকলেই ইউজিসির নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়ার বিপক্ষে। সকলেই চাইছেন পড়ুয়াদের আগের পরীক্ষার ফল বিবেচনা করেই চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হোক।

    আরও পড়ুন

    চিন সীমান্তে উত্তেজনার মাঝে ২২টি অ্যাপাচে, ১৫টি চিনুক যুদ্ধবিমান এল ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে

    কেন্দ্র রাজ্য এই সংঘাত মেটাতে একটি বৈঠক ডাকেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ও। সংঘাতের আবহে শুক্রবার আচার্যের ডাকা বৈঠকে হাজির হননি রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দফতরের প্রধান সচিব। পাশাপাশি রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্যদের সংগঠন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ইউজিসির নির্দেশ নয়, তারা মানবে রাজ্য সরকারের পরামর্শই।

    ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার পোষিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্যরাও জানিয়েছেন, তাঁরা ইউজিসির নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী চূড়ান্ত সেমেস্টারের পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষপাতি নন। শুক্রবারই এনিয়ে উপাচার্যরা বৈঠক করেন। সেখানে ঠিক হয়েছে, ইউজিসির নয়া গাইডলাইন মেনে নয়, রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া হবে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাজ্য সরকারের মতোই তাঁদের বক্তব্য, পড়ুয়াদের সুস্থ থাকার স্বার্থে এবং ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে তাঁরা চূড়ান্ত সেমেস্টারের পরীক্ষা নিতে চান না। ইউজিসির আগের নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্য সরকার মূল্যায়নের যে পদ্ধতির পরামর্শ দিয়েছে তার সঙ্গেই তাঁরা সহমত। রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়ায়, এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থী বা অভিভাবকরাও পরীক্ষার পক্ষে নয় বলেই তাঁরা জানিয়েছেন।

    রাজ্যের তরফে অ্যাডভাইজারি জারি করার পরপরেই রাজ্যের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যেই ছাত্র-ছাত্রীদের মূল্যায়ন নিয়ে নির্দেশিকা জারি করে দেয় । যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়গুলি মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে নির্দেশিকা জারি করে ছাত্র-ছাত্রীদের ফলাফল প্রকাশ করার প্রক্রিয়াও শুরু করে দিয়েছে বলে খবর। শুক্রবারের উপাচার্য পরিষদের বৈঠকে ঠিক হয়েছে রাজ্যের অ্যাডভাইজারি অনুযায়ী ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলি যে রেজাল্ট প্রকাশের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে তাও ইউজিসি-কে জানানো হবে।

    শুধু পশ্চিমবঙ্গই নয়, ইউজিসি এবং মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের নির্দেশ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে অনেক রাজ্যেই। এদিন মমতা চিঠিতে সেকথা উল্লেখ করে দ্রুত এই সিদ্ধান্ত দেশের সব পড়ুয়াদের সুরক্ষার কথা ভেবে নতুন করে ভাবার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা বাতিল করার দাবি তুলেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও। শুক্রবারই তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা বাতিল করে পড়ুয়াদের পুরনো ফলের ভিত্তিতে তাঁদের পরের পর্যায়ে উত্তীর্ণ করা হোক। রাহুলের বক্তব্য, কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়া মোটেই বাঞ্ছনীয় নয়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More