সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩

দিঘায় হোটেল ভাড়া কমাতে উদ্যোগ মমতার, টাস্ক ফোর্স গঠনের নির্দেশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যবিত্তের পর্যটন কেন্দ্র দিঘাকে আরও বেশি করে মধ্যবিত্তের হাতের নাগালে করে দিতে চান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার হোটেল ভাড়া কমানোর উদ্যোগ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এর জন্য মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি টাস্ক ফোর্স গঠনের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

বুধবার পূর্ব মেদিনীপুরের প্রশাসনিক বৈঠকে দিঘাকে ঢেলে সাজার একগুচ্ছ পরিকল্পনা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তারই মধ্যে স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক হোটেল অনায্য ভাড়া নিচ্ছে। এর ফলে পর্যটকরা সমস্যায় পড়ছেন। হোটল ভাড়ায় নিয়ন্ত্রণ দরকার।

এদিন মমতা বলেন, “এবার পুজোয় মানুষ কাশ্মীরে বেড়াতে যাবে না। দিঘায় আসবে বেশি বেশি করে। এখন দিঘার যে ভাবে জনপ্রিয়তা বাড়ছে তাতে পর্যটকের সংখ্যাও বাড়ছে। তিনি বলেন, দিঘা হল অল্প পয়সায় মধ্যবিত্তের গোয়া।” মমতা বলেন, মানুষ এখানে আসে, স্নান করে, মজা করে, সমুদ্রের পাশে বসে, চলে যায়। আগে শুধু শনি-রবিতে ভিড় হত আর এখন উইক ডেজেও ভিড় হচ্ছে। অনেকে আগে থাকতে হোটেল বুকিং করে আসেন। অনেকেই আবার ‘ইমারজেন্সি’ হিসেবে দিঘা চলে আসেন।

এসবের সঙ্গেই তিনি সভায় উপস্থিত হোটেল মালিক সংগঠনের এক সদস্যকে বলেন, “দিঘায় অনেক হোটেলে বেশি ভাড়া নিচ্ছে। রেট বাড়াবেন না।” মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ মেনেও নেন হোটেল মালিক সংগঠনের ওই কর্তা। এর পরেই মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচবি মলয় দে-কে নির্দেশ দেন সবাইকে নিয়ে টাস্ক ফোর্স তৈরি করুন। সেই টাস্ক ফোর্সে জেলাশাসক, পুলিশ সুপার থেকে স্থানীয় বিধায়ক, সাংসদদেরও রাখতে বলেন। শুধু দিঘা নয়, শঙ্করপুর, মন্দারমণি, তাজপুর এলাকাতেও যাতে হোটেল ভাড়া নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে তার নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ জন্য হোটেল মালিক সংগঠনকে ডেটাব্যাঙ্ক করে ওয়েবসাইট তৈরির পরামর্শও দিয়েছেন মমতা। তিনি বলেন, কাস্টমারকে লক্ষ্মী ভাবুন। একজন একবার এলে সে যেন বারবার আপনার হোটেলে আসে সেটা নজর রাখুন।”

তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে হোটেল ব্যবসায়ীদের একাংশের। তাঁদের বক্তব্য, সরকার কী করে ঠিক করবে হোটেলের ভাড়া। গোটা বিশ্বজুড়েই হোটেল ব্যবসায় ভাড়া নির্ভর করে চাহিদা ও জোগানের উপরে। চাহিদার সময়ে হোটেল ভাড়া বাড়াই স্বাভাবিক। তাছাড়া কোনও নায্য ভাড়া, আর কোনটা অনায্য তা সরকারি টাস্ক ফোর্স কী ভাবে ঠিক করবে?

Comments are closed.