মিস্টার ইলেকশন কমিশন, তুমি ৩২৪ দিয়েছ, জনতা ৩৫৬ দেবে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণে মুখে আর কোনও আগল রাখলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রবিবার লোকসভার শেষ দফার ভোট গ্রহণ হবে বাংলায়। তার আগে বুধবার সন্ধ্যায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ করে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব অত্রি ভট্টাচার্যকে ভোটের কাজে হস্তক্ষেপের জন্য রাতারাতি সরিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে এডিজি সিআইডি রাজীব কুমারকে বাংলা থেকে তুলে নিয়ে দিল্লিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেয় কমিশন।

তার পরই কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন মমতা। রাত ন’টায় তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, আমি ছেড়ে দেব না। সাহসের সঙ্গে লড়াই করব। মিস্টার ইলেকশন কমিশন, দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি তুমি পক্ষপাত দুষ্ট। তাঁর কথায়, আমি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কথা বলছি না। উনি গুডি গুডি ম্যান। কিন্তু ওনার সঙ্গে যে দু’জন রয়েছেন, তাঁরা গুডি গুডি নন, ব্যাড। আমি চাইলে সবার পর্দা ফাঁস করে দিতে পারি।

এর আগেও কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ করেছিলেন মমতা। বলেছিলেন, রাজনৈতিক প্রভুর নির্দেশে কাজ করছে তারা। এ দিনও তিনি বলেন, মুকুল রায়-অমিত শাহদের কথায় চলছে কমিশন। তাঁরা যেমন যেমন বলছেন, তেমন তেমন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গতকাল কলকাতায় বৈঠকের জন্য এসেছিলেন নির্বাচন কমিশনের ডেপুটি কমিশনার সুদীপ জৈন। তিনি জেলা শাসক এবং জেলার পুলিশ সুপারদের ফোন করে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সেই সঙ্গে দিদি বলেন, মিস্টার ইলেকশন কমিশন, তোমার কাছে ক্ষমতা রয়েছে তুমি ৩২৪ ধারা জারি করেছ (সংবিধানের ৩২৪ ধারা)। মানুষ তোমাকে জবাব দেবে। ১৯ তারিখ ভোটের দিন বাংলার মানুষ রায় দিয়ে ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ করে দেবে তোমার বিরুদ্ধে। আর বিজেপি-র জন্য ১৪৪ ধারা প্রয়োগ করে দেবে মানুষ।

মমতার এই কথাগুলি থেকেই পরিষ্কার যে কমিশনের উপর কতটা চটেছেন তিনি। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার ফলে বাংলায় বিজেপি-র বিরুদ্ধে প্রবল অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তার থেকে মুখ ঘোরানোর জন্যই এই পদক্ষেপ করেছে কমিশন।

তবে বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, যে দুই পুলিশ কর্তা ও আমলাকে কমিশন বদলি করেছে তারা সরকারের পেটোয়া বলেই পরিচিত। তাঁরা ভোটকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিলেন বলে করেছে বলেই হয়তো তাঁদের বদলি করে দিয়েছে কমিশন। বিজেপি সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় ভোটের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি করতেন। সেই তিনি এখন রাজ্য পুলিশ দিয়ে ভোট করাতে চাইছেন। কারণটা পরিষ্কার। রাজ্যের পুলিশ দিয়ে ভোট লুঠ করতে চাইছে তৃণমূল। সেই প্ল্যান বানচাল হওয়াতেই দিদি রেগে গিয়েছেন। মানুষও এখন বুঝে গেছেন, দিদিকো কিউ গুসসা আতা হ্যায়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More