সোমবার, আগস্ট ২৬

কাজের বেলা নেই, শুধু কাটমানি খাওয়া! হুগলির নেতাদের ধমক মমতার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেলার তিনটি আসনের মধ্যে একটি গিয়েছে বিজেপি-র দখলে। আরামবাগের মতো শক্ত ঘাঁটিতে জয় এসেছে সুতোর ব্যবধানে। ভদ্রস্থ ফলাফল বলতে শুধু শ্রীরামপুর। এ হেন হুগলি জেলার পর্যালোচনা বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তুমুল রোষের মুখে পড়তে হল জেলার নেতাদের।

সূত্রের খবর মমতা এ দিন বলেন, “সবাই নেতা হয়ে গিয়েছে। কর্মী নেই। আমার এত নেতার দরকার নেই।” ক্ষোভের সঙ্গে দিদি নাকি বলেন , “কেউ কোনও কাজ করে না! শুধু বসে বসে কাটমানি খায়। এ সব আর চলবে না। যে সাধারণ মানুষের থেকে টাকা তুলবে, প্রশাসনের থেকে খবর নিয়ে আমি গ্রেফতার করাব।”

বলাগড় থেকে সপ্তগ্রাম, পুরশুড়া থেকে গোঘাট— ব্লকের পর ব্লকে এ বার হারতে হয়েছে তৃণমূলকে। এই সে দিনও যে জায়গাগুলি ছিল তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গ সেগুলিতেই ফুটেছে পদ্মফুল। ফলে যারপরনাই ক্ষুব্ধ মমতা।

সূত্রের খবর, জেলার যুব সভাপতি তথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ নেতা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়কে চরম ভর্ৎসনা করেন মমতা। বলেন, “তুমি নিজের জায়গা বলাগড়ে নজর দাও। বেশি আরামবাগ, খানাকুল দেখতে যেও না। নিজের জায়গায় হারো আবার বড় বড় কথা!” প্রসঙ্গত শান্তনুর জায়গা বলতে বলাগড় বিধানসভা। সেখানকার জিরাট থেকেই রাজনৈতিক উত্থান তাঁর। আর এই বিধানসভাতেই ৩০ হাজারের বেশি ভোটে পিছিয়ে পড়েছে তৃণমূল।

তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরনো নেতাদের দলে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন দিদি। এ দিন নাকি মমতা বলেন, “যাঁরা ৯৮ থেকে তৃণমূল করেছে তাঁরা কোথায়? এই জেলায় তো কত ভাল কর্মী ছিল। তাঁরা সব কোথায়? মনে রাখবেন এটা আকবর আলি খন্দকারের জেলা।” পর্যবেক্ষকদের মতে, নব্য তৃণমূলীদের দাপটে যে দুর্দিনের বহু কর্মী নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন, এ কথা ভালই জানেন দিদি। তাই তাঁদের ফেরাতে এই দাওয়াই দিয়েছেন নেত্রী।

অন্য জেলায় যেমন তৃণমূল গোষ্ঠী কোন্দল প্রবল, তেমন হুগলিতেও। অনেকে বলেন, জেলায় যতজন বিধায়ক ততগুলি গোষ্ঠী। এ দিন মমতা সে ব্যাপারেও সতর্ক করেন জেলার নেতাদের। বলেন, “এক হয়ে কাজ করুন। আমার লোক, তোমার লোক করবেন না।”

এর আগেও হুগলির গোষ্ঠী কোন্দল নিয়ে দলের কোর কমিটির বৈঠকে সমঝে চলতে বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু জেলায় ফিরে গিয়ে নেতারা আবার যেই কে সেই। এখন দেখার বিপর্যয়ের পর কতটা সম্বিত ফেরে নেতাদের।

Comments are closed.