বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮

দিদি-র সাফ নির্দেশ, দলকে না জানিয়ে রাজ্যের বাইরে যাওয়া যাবে না! কিন্তু কেন?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটে গেরুয়া ধাক্কায় বাংলায় বারোটি আসন কমে গিয়েছে তৃণমূলের। শুধু তা না, তার পর থেকে এক শ্রেণির বিধায়ক, কাউন্সিলর ও জেলার নেতা পা বাড়াতে শুরু করেছেন বিজেপি-র দিকে। কখন কে যে দিল্লি চলে যাচ্ছেন, বোঝা যাচ্ছে না!

অবশেষে বৃহস্পতিবার তপসিয়ায় তৃণমূল ভবনে দলের সমস্ত বিধায়ককে নিয়ে বৈঠক করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, দল ও বিধানসভার স্পিকারকে না জানিয়ে তৃণমূলের কোনও বিধায়ক যেন রাজ্যের বাইরে না যান, কিংবা বিদেশ সফরে না যান।

এ দিনের বৈঠকে দলের বিধায়কদের পাখি পড়ানোর মতো আরও অনেক কিছু বোঝানোর চেষ্টা করেছেন দিদি। কিন্তু বৈঠকের পর থেকে তাঁর এই কথাটারই বেশি অনুরণন হতে শুরু করেছে দলের মধ্যে।

তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতা জানান, দিদি বলেছেন, কোনও বিধায়ককেই কলকাতায় বেশি সময় দিতে হবে না। যে যাঁর নিজের এলাকায় যেন থাকেন, বুথ স্তরে সংগঠন শক্তিশালী করার চেষ্টা করেন এবং যেন জনসংযোগ বাড়ানোর আরও চেষ্টা করেন। এর পরেই রাজ্যের বাইরে যাওয়া-না যাওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন নেত্রী।

দলের একাধিক নেতার কথায়, অস্বীকার করার উপায় নেই দলের মধ্যে একটা তো ভীতি তৈরি হয়েছেই। কে কখন দল ছাড়বেন সেই আশঙ্কা যেন গ্রাস করছে। এই যেমন, লোকসভা ভোটের পর দিদি বিধায়কদের নিয়ে নবান্নের সভাঘরে এক প্রস্ত বৈঠক করেছিলেন। ওই বৈঠকে যে বিধায়করা ছিলেন, তাঁদের মধ্যে দু’জন তার পর পরই দিল্লিতে গিয়ে বিজেপি-তে যোগ দেন। সুতরাং এ দিনের বৈঠকে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ যে বিজেপি-র সঙ্গে যোগ রাখছেন না কে বলতে পারে!

সূত্রের খবর, এ দিনের বৈঠকে দলীয় বিধায়কদের মমতা আরও বলেন, বিরোধীদের সঙ্গে কোনওরকম হিংসার ঘটনায় যেন না জড়িয়ে পড়েন তৃণমূলের নেতারা। এ ব্যাপারে যেন সংযম বজায় রাখেন। তা ছাড়া যথাসম্ভব সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে বিধায়কদের। সেই সঙ্গে বলা হয়েছে, কোনও বিধায়ক কোনও ইস্যু নিয়ে দলের সঙ্গে কথা না বলে যেন আলটপকা মন্তব্য না করেন।

এ দিনের বৈঠক শুরু হওয়ার আগে তৃণমূলে ভবনে পৌঁছে গিয়েছিলেন প্রশান্ত কিশোর। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী আগে তাঁর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলেন। তার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনায় বসেন প্রশান্ত। পরে অভিষেক ও প্রশান্তকে এক সঙ্গে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।

Comments are closed.