বুধবার, জুলাই ১৭

যারা টাকা নিয়েছে তারা ফেরৎ দাও, কাউন্সিলারদের বললেন মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগেও অনেক বকুনি, অনেক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কিন্তু এবার যেন অন্য রূপে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার কাটমানি ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ। কাউন্সিলরদের উদ্দেশে দিদির নির্দেশ, যারা টাকা নিয়েছে তারা ফিরিয়ে দাও।

দলে দুর্নীতি বাসা বেঁধেছে তা প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিলেন মমতা। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের কাটমানি নেওয়ার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। এবার পুর প্রতিনিধিদের নিয়ে সভায় স্পষ্ট ভাষায় বলে দিলেন সাধারণ মানুষের থেকে নেওয়া কাটমানি ফিরিয়ে দিতে হবে।

তৃণমূল কংগ্রেসের নীচর তলায় যে পাহাড় প্রামাণ দুর্নীতি চলছে সে অভিযোগ অনেক এসেছে দলনেত্রীর কাছে। তিনি মাঝে মাঝেই সরব হয়েছেন তা নিয়ে কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। এবার লোকসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পরে তিনি যে দুর্নীতি-মুক্ত সংগঠন গড়তে চান তা বোঝাতে এদিন কোনও রাখঢাকই করেননি মমতা। তিনি বলেন, অনেকেই যে কোনও সরকারি কাজে ২৫ শতাংশ করে নেয় সে খবর তাঁর কাছে আছে। এমন কি ‘সবার বাড়ি’ প্রকল্পের আওতায় গরীব মানুষকে সুবিধা করে দেওয়ার নাম করেও অনেকে টাকা তুলেছে। এবার তাদের সবাইকে টাকা ফিরিয়ে দিতে হবে। তিনি বলেন, কারও অধিকার নেই সরকারি কাজের বা সাধারণ মানুষের প্রাপ্য টাকা নেওয়ার। মমতা বলেন, কন্যাশ্রী থেকে সবুজসাথী সব প্রকল্প থেকেই অনেকে কাটমানি খাচ্ছে। এমনকী শব সৎকারের সমব্যথী প্রকল্পের ২০০০ টাকা থেকেও ২০০ টাকা কেটে নিচ্ছে অনেকে।

চোরেদের যে তিনি আর দলে রাখতে চান না এদিন তা স্পষ্ট করে দিয়ে মমতা বলেন, “অর্ধেক লোক সারা বছর কাজ করে না। শুধু বাড়ি আর প্রোমোটিং করে। অডিটে ধরা পড়লেই অন্য রাজনৈতিক দলে চলে যাচ্ছে। ভাবছে পার পেয়ে যাবে। ওখানে যাওয়া মানে আরও ফেঁসে গেলেন!”

এখন প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও পঞ্চায়েত থেকে পুরসভায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যাওয়ার হিড়িক বাড়ছে। ইতমধ্যেই বেশ কিছু পঞ্চায়েত, পুরসভা তৃণমূলের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি। বেশ কয়েকজন বিধায়ক শিবির বদল করে ফেলেছেন। নেত্রী এ দিন বলেন, “যাঁরা যাওয়ার, তাড়াতাড়ি চলে যান। একজন গেলে আমি ৫০০ জন তৈরি করব। তবু চোরেদের দলে রাখব না।” মমতার আরও দাবি, কাটমানি কাউন্সিলাররাই এখন বিজেপিতে যাচ্ছে। কিন্তু যাঁরা এখনও যায়নি তাঁরা যেন টাকা ফিরিয়ে দেয় বলে নির্দেশ দিয়েছেন মমতা।

Comments are closed.