বুধবার, নভেম্বর ২০
TheWall
TheWall

মমতার মন্ত্রিসভায় কি ফের রদবদল, সঙ্গে শোভনের ঘরে ফেরা নিয়ে জোর আলোচনা শাসক দলে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: খুব শিগগির কি ফের মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? সাত-আটজন মন্ত্রীকে কি অপসারণ পর্যন্ত করা হতে পারে মন্ত্রিসভা থেকে! পাশাপাশি বিজেপি-র খাতায় নাম লেখানো শোভন চট্টোপাধ্যায় ভাইফোঁটার ‘শুদ্ধিকরণের’ পর কি সরাসরি মন্ত্রিসভায় ফিরতে চলেছেন?

এই তিন প্রশ্নের কোনও স্পষ্ট উত্তর নেই দ্য ওয়ালের কাছে। তবে যে খবর রয়েছে, তা ঘোরতর বাস্তব। সেটা হল—বাংলায় শাসক দলের উপর তলায় গত কদিন ধরে এই তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি মন্ত্রিসভা থেকে কে কে বাদ পড়তে পারেন, কার গুরুত্ব বাড়তে পারে এবং নতুন কোন কোন মুখ মন্ত্রিসভায় সামিল হতে পারে কিনা তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলছে মন্ত্রী-নেতাদের মধ্যে। যে জল্পনা আমলা মহলের শীর্ষ স্তরেও সমানতালেই চলছে।

এ প্রসঙ্গে একটা কথা শুরুতেই বলে রাখা ভাল যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদৌ রদবদল করবেন কিনা বা করলে তা কেমন হতে পারে তার পরিষ্কার কোনও হদিশ তৃণমূলের একেবারে শীর্ষ সারির নেতা-মন্ত্রীর কাছেও অনেক সময় থাকে না। তাই দলের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনার বা জল্পনার প্রকৃতপক্ষে কতটা ভিত্তি রয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

তবে তা যেমন ঠিক, তেমনই এও ঠিক যে রদবদলের আগে মুখ্যমন্ত্রী বিক্ষিপ্ত ভাবে দলের কিছু নেতার সঙ্গে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কারও কারও সম্পর্কে মত জানতে চান। পুলিশ ও আমলাদের থেকেও রিপোর্ট নেন। সেই সব বিক্ষিপ্ত ঘটনাকে একত্রিত করলে অনেক সময়েই একটা সার্বিক ছবি-র ইঙ্গিত পাওয়া যায়। অনেকের মতে, এ বারও তেমনই একটা সার্বিক ছবির আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

এর আগে লোকসভা ভোটের পর পরই মন্ত্রিসভায় এক প্রস্ত দফতর বদল করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যার স্বরূপ দেখে বোঝা গিয়েছিল ভোট-ফলাফলের ধাক্কায় যেমন শুভেন্দু অধিকারীর মতো মন্ত্রীর কদর ও দায়িত্ব বাড়াতে হয়েছে, তেমনই হয়তো পরাজয়ের জন্য গুনাগার দিতে হয়েছে সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে। মন্ত্রিসভায় পদ থাকলেও দফতরই চলে গিয়েছে শান্তিরাম মাহাতো, বিনয়কৃষ্ণ বর্মনদের।

তবে এ বার দলের মধ্যে এখন যা কানাঘুঁষো তাতে নাকি বিপদসীমায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন কোচবিহার থেকে মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। কোচবিহার লোকসভা আসনে এ বার হেরেছে তৃণমূল। তার পর রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়েছেন দিদি। এ বার তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকেই সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা চলছে তৃণমূলে। অনেকের মতে, একই রকম পরিণতি হতে পারে বর্ধমানের জেলা সভাপতি স্বপন দেবনাথের। সেই সঙ্গে উত্তর চব্বিশ পরগনা থেকে এক সময়ের দাপুটে মন্ত্রীরও ডানা ছাঁটা হতে পারে বলে খবর। তুলনায় দায়িত্ব বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, ইন্দ্রনীল সেনের। সেই সঙ্গে বিনয়কৃষ্ণ বর্মন ও শান্তিরাম মাহাতো দফতর ফিরে পেতে পারেন।

যদিও এ সবের উপরে রয়েছে শোভন প্রসঙ্গ। দিদি-র খুব কাছের অনেক-নেতা মন্ত্রীই বোঝার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে দলে ও মন্ত্রিসভায় এখনই ফিরিয়ে নেওয়া হবে কিনা। রাজনৈতিক শিবিরকে অবাক করে দিয়ে এ বার ভাইফোঁটায় দিদি-র বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন শোভন। সঙ্গে ছিলেন বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর থেকেই তৃণমূলের একাংশ নেতা মনে করছেন, শোভনকে দলে ফিরিয়ে মন্ত্রিসভাতেও সামিল করে নিতে পারেন দিদি। সংগঠনে স্থান হতে পারে বৈশাখীরও।

যদিও দলের অনেক উপরের সারির নেতাই শোভনকে মন্ত্রিসভায় ফেরানোর ব্যাপারে ঘরোয়া আলোচনায় প্রশ্ন তুলছেন। তাঁদের মতে, কদিন আগেই টিভিতে সাক্ষাৎকার দিয়ে তৃণমূল সম্পর্কে কত না কটূ কথা বলেছেন, শোভন-বৈশাখী! তার পর তাঁদের দলে ফেরালে ভুল বার্তা যাবে। তা ছাড়া ওদের সম্পর্কে জনমানসে ধারনাও ইদানীং খুব ইতিবাচক নয় বলেই বিজেপি-র অনেকের মত।
এখন প্রশ্ন হল, সত্যিই রদবদল হলে তা কবে হতে পারে। তৃণমূলের অনেক নেতার মতে, এ ব্যাপারে বিশেষ দেরি হওয়ার কথা নয়। আজ বৃহস্পতিবার তপসিয়ায় তৃণমূল ভবনে দলের বিধায়ক সাংসদের মিটিংয়ে ডেকেছেন দিদি। কে বলতে পারে ওই মিটিংয়েই কোনও ইঙ্গিত দিয়ে দিতে পারেন মমতা।

পড়ুন: আগে যা হয়েছিল

Comments are closed.