ছয় জেলা, ১৩ আসন: দিদির ভরসা শুভেন্দুকেই

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পঞ্চায়েত ভোটের ফল ঘোষণার পর এক প্রস্ত পদোন্নতি হয়েছিল পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। পরিবহণের সঙ্গেই তাঁকে পরিবেশ দফতরের দায়িত্বও দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কাঁধ চওড়া বুঝে, শুক্রবার কোর কমিটির বৈঠক ডেকে শুভেন্দুর উপর সংগঠনের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিলেন তৃণমূলনেত্রী। এমনিতে দলীয় তরফে মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও উত্তর দিনাজপুর জেলার পর্যবেক্ষক শুভেন্দু। তাঁকে এ বার নদীয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলার পর্যবেক্ষকের দায়িত্বও দিলেন মমতা। তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পাশাপাশি নদীয়া জেলার পর্যবেক্ষক পদে থাকবেন শুভেন্দু। একই ভাবে রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর পাশাপাশি তাঁকে ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরের সংগঠন দেখতে হবে।

আরও পড়ুন শোভনকে সরিয়ে শুভাশিসকে দক্ষিণ ২৪ পরগণার জেলা সভাপতি করলেন মমতা

শুধু তাই নয়, মোদী বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে এককাট্টা করে ১৯ জানুয়ারি ব্রিগেডে যে সমাবেশ ডেকেছেন মমতা, তার প্রচার কমিটির আহ্বায়কও করা হল শুভেন্দুকে। যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে করা হয়েছে ওই কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক। তা ছাড়া সংগঠনে অভিষেকের গুরুত্ব বাড়িয়ে তাঁকে কোচবিহার জেলার পর্যবেক্ষক করা হয়েছে। কিছুটা দায়িত্ব বেড়েছে পুর মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমেরও। দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার জেলার দলীয় পর্যবেক্ষক করা হয়েছে ফিরহাদকে। তাঁর পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগণার জেলার পর্যবেক্ষক থাকবেন অভিষেকও।

এ দিন কোর কমিটির বৈঠকের পর সংগঠনে দায়িত্ব বন্টনের কথা তৃণমূলনেত্রীই সাংবাদিক সম্মেলন করে ঘোষণা করেন। যদিও তিনি ব্যাখ্যা করেননি, কেন এই সিদ্ধান্ত নিলেন?

আরও পড়ুন কয়েক জনকে বিজেপি রোজ ফোন করছে, কি সফিদা তাই তো: কোর কমিটিতে মমতা

তবে শুধু তৃণমূল নয়, শুভেন্দুর ব্যাপারে মমতার ঘোষণা যে গোটা রাজ্য রাজনীতির নজর কেড়েছে তাতে সন্দেহ নেই। এমনিতেই নন্দীগ্রাম আন্দোলনের পর থেকে বাংলার রাজনীতির আলোচনায় উপরের সারিতে উঠে এসেছেন শুভেন্দু। শুক্রবার তাঁকে যে ভাবে নতুন তিন জেলার দায়িত্ব দেওয়া হল, অনেকের মতে তার অর্থ বৃহত্তর। উনিশের ভোটে বড় চাপ সামলাতে হবে তাঁকে।

মুর্শিদাবাদ, মালদহ, এবং উত্তর দিনাজপুর মিলিয়ে এমনিতে ৬টি লোকসভা আসনের দায়িত্ব ছিল পরিবহণ ও পরিবেশ মন্ত্রীর উপর। সেই সঙ্গে কাঁথি লোকসভা কেন্দ্র ও তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের দায়িত্বও বলতে গেলে তাঁরই। এর পর শুক্রবার তাঁর উপর নদীয়ার দুটি লোকসভা কেন্দ্র, ঝাড়গ্রাম লোকসভা কেন্দ্র এবং মেদিনীপুর, ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের দায়িত্বও চাপল। অর্থাৎ রাজ্যের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে একা শুভেন্দুর উপরেই দায়িত্ব রইল ১৩টি লোকসভার। সাংগঠনিক ভাবে এত বড় দায়িত্ব হালফিলে মমতা কাউকে দিয়েছেন বলে স্মরণ করতে পারছেন না তৃণমূল নেতারা।

অতীতে পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের সাংগঠনিক দায়িত্ব ছিল শুভেন্দুর উপরেই। মাওবাদী হুমকি উপেক্ষা করে সেখানে পড়ে থেকে সংগঠন সাজিয়েছিলেন তিনি। পরে তাঁর হাত থেকে ওই দুই জেলার সাংগঠনিক দায়িত্ব নিয়ে মমতা তৃণমূল রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে দিয়েছিলেন। কিন্তু পঞ্চায়েত ভোটে ঝাড়গ্রামে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। পশ্চিম মেদিনীপুরেও পায়ের তলায় মাটি সরছে। মমতার এ দিনের ঘোষণাতেই পরিষ্কার ওই দুই জেলায় সুব্রত বক্সীর উপর আর ভরসা করতে পারছেন না তিনি। একই ভাবে নদীয়ার দায়িত্ব পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে দিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারছেন না তিনি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More