বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২২

কোল বালিশ জড়িয়ে শুলে পেটের চর্বি কমে, জনসভায় হাফ ডজন ফিটনেস টিপস মমতার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতায় বিদ্যাসাগর কাণ্ডের চব্বিশ ঘণ্টা কাটেনি তখনও। বুধবার বিকেলে আগরপাড়া বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গনে জনসভা করতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন সভার শুরু থেকেই বিজেপি-র বিরুদ্ধে চাঁচাছোলা আক্রমণ করবেন দিদি। কিন্তু তা হল না। ভিড়ে ঠাসা মাঠ। আর মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তৃতা শুরুর অন্তত সাত মিনিট ব্যয় করলেন দলীয় কর্মীসমর্থকদের ফিটনেস টিপস দিতে। তিনি রোজ কতটা হাঁটেন, শরীর ফিট রাখতে কী কী করা উচিত, কীভাবে কোলবালিশ পেঁচিয়ে শুলে পেটের বাড়তি চর্বি ঝরে যায়, সব বললেন একে একে।

শুরুতে ইঙ্গিতে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহকেই কটাক্ষ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকেই ঢুকে পড়েন ফিটনেস প্রসঙ্গে। এ দিন আগরপাড়ার সমাবেশে মমতা বলেন, “এখান থেকে গিয়েই আমায় রোড শো করতে হবে। রোড শো মানে গাড়িতে চেপে নয়। আমি গাড়িতে চেপে রোড শো করি না। পায়ে হেঁটে করি।” এরপরই মমতা এক-দুই-তিন করে কী হলে কী করা উচিত তার ক্লাস নেওয়া শুরু করেন।

কী কী বললেন দিদি?

১. টানা দাঁড়িয়ে রোড শো করলে পা ফুলে যায়। তাতে কষ্ট বেশি। নড়তে পারে না।

২. আমি তো এক জায়গায় পাঁচ মিনিটের বেশি বসি না। নবান্নে যখন কাজ করি তখন চক্কর কাটি। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ফাইল দেখি।

৩. আগে মশলা বাটলে, তরকারি কাটলে, কাপড় কাচলে শরীরে এক্সারসাইজ হতো। কিন্তু এখন তো সব মেশিন। আমরা সব মেশিনে ঢুকে গেছি।

৪. আমি মনে করি ওল্ড ইজ গোল্ড। দেখবেন আগেকার লোকেরা সাজিয়ে ভাত খেতে দিত। আর বাড়ির অভিভাবককে মাছের মাথাটা দিত। কারণ ওই মাথায় ঘিলু থাকে, সেটা মাথায় গেলে ব্রেনটা কাজ করে। বাড়ির অভিভাবককে ঠিক থাকতে হবে। না হলে চলবে না। আগেকার লোকেরা কোল বালিশ নিয়ে শুতো। কারণ কোলবালিশ ইউজ করলে পেটের বাড়তি চর্বি কমিয়ে দেয়।

৫. আমি রোজ কুড়ি কিলোমিটার হাঁটি। আমি হাঁটলে আমার মাথা হাঁটে, ব্রেন হাঁটে। এটা আমি কবিতাতেও লিখেছি।

৬. দেড় মাস ধরে মিটিং করছি। অনেকে জিজ্ঞেস করে, দিদি আপনার গলা ভাঙেনি? আমি বলি না। ভেঙেছে। তবে অতটা ভাঙেনি। কারণ আমি গলাতেও এক্সারসাইজ করি। ওইরকম এক্সারসাইজ নয়। অন্যরকম।

তাঁর হাঁটার নেশা অনেকেরই জানা। সুযোগ পেলে নবান্নের ওই প্রকাণ্ড ছাদেও কয়েক পাক চক্কর কেটে নেন তিনি। নয়তো চলে যান কোনও পার্কে। তাঁর সঙ্গে থাকা বয়সে অনেক তরুণ ও তর নেতাকর্মীরাও হাঁফিয়ে ওঠেন দিদির স্টেপে স্টেপ মেলাতে। ঘরোয়া বৈঠকে প্রায়ই নেতাদের পরামর্শ দেন শরীরের প্রতি যত্ন নেওয়ার। শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভুঁড়ি নিয়ে একবার খুব বকুনি খেতে হয়েছিল দিদির কাছে। কিন্তু নির্বাচনী জনসভার মঞ্চ থেকে এমন ফিটনেস টিপস, আগে কখনও দেননি মমতা। সেখান থেকে ফিরে এসেই বেলেঘাটা থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত লম্বা হাঁটা দিদির।

Comments are closed.