বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮

সংখ্যালঘু প্রধান স্কুলে ডাইনিং হল নয়, রাতারাতি নোটিশে বাতিলের নির্দেশ মমতার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: যে সব স্কুলে ৭০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু পড়ুয়া, সেখানে ডাইনিং হল বানানোর নির্দেশ বিতর্কের মুখে বাতিল করল রাজ্য সরকার। সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের জন্য এই প্রকল্পের চিঠি জেলায় জেলায় পাঠিয়েছে রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতর। আজই তেমন স্কুলের তালিকা জমা দেওয়ার শেষ দিন। সেই খবর ‘দ্য ওয়াল’ প্রকাশ করার পরেই হইচই পড়ে যায় রাজ্য রাজনীতিতে। ঝড় ওঠে বিধানসভাতেও। আর তাতেই পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। খোদ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই নির্দেশ বাতিল করা হবে। ধর্মের ভিত্তিতে ডাইনিং হল না বানিয়ে সব ছাত্রছাত্রীদের জন্যই ব্যবস্থা হবে। ইতিমধ্যেই শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ওই নির্দেশ বাতিল করার নির্দেশও দিয়েছেন মমতা।

বৃহস্পতিবারই ওই সরকারি নির্দেশ নিয়ে খবর প্রকাশিত হয় ‘দ্য ওয়াল’ পোর্টালে। এর পরেই এই ইস্যুতে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বিরোধী দলেরা সরব হয়। রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ ধর্মের ভিত্তিতে স্কুল পড়ুয়াদের ভাগ করা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার সময়েই বিষয়টি উত্থাপন করেন বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান। আর তার জবাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এটা হবে না। এই নির্দেশ তিন বছর আগের। সংখ্যালঘু দফতরের হাতে থাকা টাকা খরচের জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে এখন আর তা করা হবে না। বদল করা হবে। সব পড়ুয়ার জন্যই হবে ডাইনিং হল।

মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় নির্দেশে বদল আনার কথা বললেও পরে তা বাতিলেরই সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ মেনেই কোনও দফতরের হাতে টাকা থাকলে সেটা ব্যবহার করার জন্য বিভিন্ন দফতরকে একই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সেই ভাবেই সর্বশিক্ষা অভিযানের প্রকল্পে অর্থ খরচ করবে সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতর। মমতার এই ব্যাখ্যাকে অপযুক্তি বলে সমালোচনা শুরু হয় বিরোধীদের মধ্যে। বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান বলেন, “এই ধরনের উদ্যোগ নিয়ে হয় মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির হাতে তামাক খাচ্ছেন অথবা বিজেপির হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছেন।” সমালোচনা করে বিজেপিও। রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, “তোষণের এমন নজির গড়ার পরে এখন শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওনার যুক্তি শুনে মনে হচ্ছে, দুর্জনের ছলের অভাব হয় না।”

এমন সমালোচনার মধ্যেই সিদ্ধান্ত বদল করেন মমতা। জানিয়ে দেন ওই চিঠিতে বদল নয়, নির্দেশটাই বাতিল করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

সংখ্যালঘু বেশি হলে স্কুলে ডাইনিং হল, সরকারি নির্দেশ গেল জেলায় জেলায়

 

Comments are closed.