রবিবার, অক্টোবর ২০

মমতা যাদবপুরে না যেতে বলেছিলেন, শোনেননি রাজ্যপাল, সরাসরি সংঘাতে তৃণমূল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনভর অশান্তির পরে শুরু হল রাজনৈতিক লড়াই। এদিন সাড়ে ছ’ঘণ্টা বন্দি থাকার পরে রাজ্যপালের কনভয়ে অবশেষে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হতে পেরেছেন বাবুল সুপ্রিয়৷ ঘুর পথে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের গাড়ি করেই ক্যাম্পাস ছাড়েন তিনি৷ ক্যাম্পাস ছাড়তে পারেন রাজ্যপালও। আর এসবের মধ্যেই তৈরি হয়ে গেল নতুন প্রশ্ন। তুললেন খোদ রাজ্যপাল। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কি সত্যই স্বাভাবিক?

এর জবাবে রাজ্য সরকারও অভিযোগ তুলল রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে। ‌শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারকে না জানিয়েই রাজ্যপাল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছেন। এমনকী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়ও সরকারকে না জানিয়ে ওখানে যান। একই সঙ্গে পার্থ চট্টোপাধ্যায় এও জানিয়েছেন যে, এদিন রাজ্যপাল রাজভবন ছাড়ার আগে সরকারকে কিছু না জানালেও রাস্তায় বেড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে বিষয়টি জানান। তখন মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে না যাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করেন। কিন্তু সেটা না শুনে রাজ্যপাল যাদবপুরে যান।

এদিন কার্যত বিক্ষোভরত বামপন্থী পড়ুয়াদের চোখে ধুলো দিয়ে চার নম্বরের বদলে তিন নম্বর গেট দিয়ে বাবুল সুপ্রিয় ও রাজ্যপালের কনভয় বের করে পুলিশ৷ তবে সেটা দীর্ঘ সময় কেটে যাওয়ার পরে। স্বাভাবিক ভাবেই উঠছে প্রশ্ন– রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান আটকে থাকার পরেও কেন এত সময় লাগল তৎপর হতে?

এই প্রসঙ্গে সরকারের দাবি, পুলিশ প্রথম থেকেই ঘটনার উপরে নজর রাখছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে মজুত ছিল বাহিনী। কিন্তু উপাচার্যের অনুমতি না মেলায় ভিতরে ঢুকতে পারেনি। এদিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের চার নম্বর গেটের পাশে ছাত্র সংসদ কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে এবিভিপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার কেন নিন্দা করলেন না রাজ্যপাল জগদীশ ধনকড় তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

Comments are closed.