সোমবার, এপ্রিল ২২

গণতন্ত্রের জয়! এক জনের ভোট নিতে ছ’জন ভোটকর্মী মিলে পাহাড়ে হাঁটলেন দু’দিন

দ্য় ওয়াল ব্যুরো: এক জন নাগরিকও যেন বাদ না পড়েন! মানুষের মধ্যে ভোট-সচেতনতা বাড়ানোর জন্য এমনটাই প্রচার করে প্রশাসন। সকলকে বোঝায়, যে ভোট দেওয়া প্রত্যেক নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার। আর সেই কারণেই, প্রত্যেক নাগরিক যাতে সহজে এবং সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও নিতে হয় প্রশাসনকে। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই বড় ঝক্কি পোহাতে হল অরুণাচলের জনা পাঁচেক সরকারি কর্মী এবং দু’জন নিরাপত্তাকর্মীকে। কারণ মাত্র এক জন ভোটারের জন্যই তাঁদের পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘ পথ।

উত্তর-পূর্ব ভারতের অরুণাচল প্রদেশের ছোট্ট এক গ্রাম মালোগাম। তিব্বত সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত সেই মালোগামে পৌঁছনোর একমাত্র উপায় হচ্ছে দু’দিন ধরে পাহাড়ি পথে ট্রেকিং করা। সেই গ্রামেই থাকেন গামের একমাত্র নথিভুক্ত ভোটার। মহা ঝামেলা করে সেখানে পৌঁছনোর পরে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ন’টার সময়ে বুথে এসে তিনি তাঁর নিজের মূল্যবান ভোটটি দিয়ে গিয়েছেন।

৩৯ বছর বয়সী সোকেলা ট্যায়াং ওই মালোগামের একমাত্র নথিভুক্ত ভোটার বলে জানা গিয়েছে। ২০১১ সালের আদমসুমারি অনুযায়ী, ওই গ্রামে একটি মাত্র পরিবার বাস করেন। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের সময়ে সেখানকার নথিভুক্ত ভোটার ছিলেন দু’জন। সোকেলা ট্যায়াং ও তাঁর স্বামী। কিন্তু, এবারে সোকেলার স্বামী তাঁর ভোটটি অন্য কোথাও ট্রান্সফার করিয়ে নিয়েছেন।

ফলে একমাত্র ভোটার হিসেবে রয়ে গিয়েছেন সোকেলা। তাঁরই ভোটদান নিশ্চিত করার জন্য পাঁচ জন ভোটকর্মী এবং দু’জন নিরাপত্তাকর্মী এবং কয়েক জন গাইডকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জেলা প্রশাসন।

যানবাহন চলাচল করে না, প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পাহাড়ি চড়াই-উৎরাই পথ পেরিয়ে পৌঁছতে হয় মালোগামে। সেখানে নেই কোনও স্কুল, বা হাসপাতালের মতো সরকারি জায়গা। তাই অস্থায়ী একটি ভোটকেন্দ্র তৈরি করতে পাঠানো হয়েছিল কয়েকজন শ্রমিককেও। পাহাড়ি পথে ওঠা-নামা করতে দক্ষ, এমন পাঁচ জনের একটি দলকে বেছে নেওয়া হয়েছিল নির্বাচন কমিশনের তরফে। তাঁরাই দু’টি ইভিএম নিয়ে সেই ভোটকেন্দ্রে যান ভোট নিতে।

তবে দু’দিন ধরে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে মালোগামে পৌঁছে আবার আর এক বিপত্তি। খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না একমাত্র ভোটারকে! অনেক কষ্টে কোনও ক্রমে খোঁজ মেলে সোকেলা ট্যায়াং-এর। একটি অস্থায়ী টিনের পোলিং বুথ তৈরি করা হয়। বৃহস্পতিবার সেখানে এসেই সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ একই সঙ্গে লোকসভা এবং বিধানসভার ভোট দেন তিনি।

তবে ট্যায়াংয়ের ভোট সকাল সকাল হয়ে গেলেও, খারাপ নেটওয়ার্কের জন্য জেলা প্রশাসনকে জানাতে জানাতে সন্ধে হয়ে যায়। ফলে সন্ধেবেলায় সেখান থেকে ফেরেন বুথকর্মীরা।

তাঁরা অবশ্য বলছেন, একটু ঝক্কি হল তো কী হয়েছে? শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রেরই তো জয় হল!

আরও পড়ুন…

ভিআইপি ভোটার, একার জন্যই গভীর জঙ্গলে বুথ, একার জন্যই ভোট কর্মীদের গোটা দল

Shares

Comments are closed.