সোমবার, আগস্ট ২০

ওবেসিটি নয়, হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে মাথা জোড়া টাক!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্য ত্রিশেই মাথায় টাক পড়তে শুরু করলে চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়ে জেন ওয়াইয়ের। সেই সঙ্গে গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো জুড়ে বসেছে অকালপক্কতা। আধুনিক লাইফস্টাইলে অনিয়ন্ত্রিত ডায়েট এবং স্ট্রেসের কারণে এই সমস্যায় ভুগছেন অধিকাংশ যুবকই। চিন্তার বিষয় হল, এই ঘনঘন চুল পড়ে যাওয়া বা পাকা চুলের সমস্যাই কিন্তু কারণ হয়ে উঠতে পারে হৃদরোগের। গবেষণায় এমনটাই জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

ভারতের কার্ডিওলোজি সোসাইটির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই গবেষণা চালিয়েছে ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব কার্ডিওলজি। দু’হাজারেরও বেশি ভারতীয় পুরুষের উপর নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, করোনারি আর্টারির রোগে আক্রান্ত এমন অধিকাংশ পুরুষেরই বয়স ৩০ থেকে ৪০-এর কোঠায়। তার থেকেও আশ্চর্যের বিষয় হল এই যুবকদের হয় মাথা জোড়া টাক রয়েছে, না হয় তাঁরা পাকা চুলের সমস্যায় ভুগছেন।

একই মত ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের (BHF) গবেষকেরদেরও। বিএইচএফের অ্যাসোসিয়েট মেডিক্যাল ডিরেক্টর মাইক ন্যাপটন বলেছেন, “অকালে চুল পড়ে যাওয়া বা চুল পেকে (Grey Hair) যাওয়া আসলে একটা উপসর্গ, যা ভবিষ্যতে হার্ট ফেলিওরের সম্ভাবনাকে আরও প্রবল করে তোলে।”

কার্ডিওলজি অব ইন্ডিয়ার বার্ষিক সম্মেলনে গবেষকেরা একটি রিপোর্ট পেশ করেন। তাতে দেখানো হয়, চল্লিশের নীচে বয়স এমন ৭৯০ জন পুরুষই করোনারি আর্টারির রোগে আক্রান্ত। এবং প্রত্যেকেই চুল পড়ে যাওয়া বা অকালপক্কতার শিকার।

এই গবেষণার অন্যতম মুখ্য উপদেষ্টা কমল শর্মা বলেছেন, “এই সমস্যার গোড়ার কারণ হল অ্যাডভান্সড এজিং (Ageing)। যার সমস্যায় ভুগছেন বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ।” একই মত ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের কার্ডিওভাসকুলার ফিজিওলজি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক অ্যালুন হুজেসেরও। তাঁর মতে, এজিংয়ের সমস্যায় ক্ষতি হচ্ছে জিনেরও (DNA)। ফলে নানা বিধ শারীরিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত স্ট্রেস, পুষ্টিকর খাবারের বদলে রেডিমেট ডায়েট বা বাজার চলতি প্যাকেটজাত খাবারের বাড়বাড়ন্ত, মানসিক অবসাদ ইত্যাদি নানা কারণে ত্রিশ পেরনোর পরেই বুরোটে দেখাতে শুরু করে অধিকাংশ পুরুষকেই। বাদ যান না মহিলারাও। ফলে বয়সের আগেই অধিকাংশেরই মুখে ছাপ ফেলছে বলিরেখা। চুল পাকা, শুষ্ক ত্বক, নখ ভেঙে যাওয়ার সমস্যাতেও ভুগছেন অনেকে। ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে কিডনি এবং হার্টেও।

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, জাপানে ৩৭,০০০ যুবকের উপর এই পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে ৩২ শতাংশের মধ্যে ভবিষ্যতে হৃদরোগের সম্ভাবনা প্রবল। একই পরীক্ষা চালানো হয়েছে জার্মানির ১০,৮৮৫ যুবকের উপরেও। দেখা গিয়েছে, শুধু হার্ট ফেলিওর নয়, নানা কার্ডিওভাসকুলার রোগও বাসা বাঁধতে পারে ওই যুবকদের মধ্যে।

আমদাবাদের ইউ এন মেহতা ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের অধ্যাপক ধামদীপ হুমানের কথায়, “বয়সের আগেই টাক এবং অকালপক্কতা ডেকে আনতে পারে হার্টের নানা রোগ। সমস্যার সমাধানে লাইফস্টাইলে বদল আনা প্রয়োজন। হেলদি ডায়েট, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টই হতে পারে মুক্তির একমাত্র পথ।”

জেনেভা ইউনিভার্সিটির কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক মারকো রফির মতে, হৃদরোগের উপসর্গগুলো দিন দিন আরও প্রকট হচ্ছে। বর্তমান প্রজন্মের উচিত বিশেষজ্ঞদের মত নিয়ে লাইফস্টাইলে প্রয়োজনীয় বদল আনা।

Shares

Leave A Reply