২ কোটি মেয়ের স্কুলে ফেরা বন্ধ হয়ে যেতে চলেছে করোনার কারণে! উদ্বিগ্ন মালালা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র ১৩ বছরের মেয়েটির মাথার খুলি ফুঁড়ে দিয়েছিল তালিবানি বুলেট। অপরাধ, পড়াশোনা করতে চেয়েছিল সে। তাই তাকে ‘উচিত শিক্ষা’ দিতে চেয়েছিল জঙ্গিরা। কিন্তু বাস্তবে ঘটল উল্টো। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে, সমস্ত ভয়, বাধা, প্রতিকূলতাকে উড়িয়ে দিয়ে, বিশ্বজুড়ে নারীশিক্ষার প্রসারে সরব হল সেই কিশোরী। একটানা ৪৯ দিন ধরে কঠিন এক লড়াই করে হার না মানা মালালা ইউসুফজাইয়ের গল্প নাড়িয়ে দিয়েছিল সারা বিশ্বকে। এবার মালালা বলছেন, করোনার কারণে কম করে ২ কোটি মেয়ে স্কুলছুট হতে চলেছে!

নারী শিক্ষার বিস্তারে মালালার গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে স্বীকৃতি জানাতে ২০১৪ সালে তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কারেও সম্মানিত করা হয়।

সেই নোবেলজয়ী মালালাই উদ্বিগ্ন নারীশিক্ষায় করোনা পরিস্থিতির কুফল নিয়ে। সম্প্রতি এই করোনা পরিস্থিতিতেই ২২ বছরের মালালা নিজে স্নাতক হয়েছেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে। কিন্তু তাঁর আশঙ্কা, এত মাস করোনার জেরে যে বিশ্বজোড়া স্তব্ধতা, তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলেও আগের সমস্ত মেয়েরা আর স্কুলে কলেজে নাও ফিরতে পারে। এই সংখ্যাটা ২ কোটির কম নয় বলে মনে কেরন তিনি।

করোনার প্রকোপে এখনও বিশ্বে আক্রান্ত হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। মৃত্যুমিছিলও থামছে না। আবিষ্কার হয়নি কোনও ওষুধ বা ভ্যাকসিন। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এখনও অনেকটাই সময় লাগবে। সে সময় পার করে যখন স্কুল–কলেজ খুলবে, তখন বহু ছাত্রীর স্কুলে যাওয়ার অভ্যেসই নষ্ট হয়ে যাবে। এই সময়ে বহু মেয়ে হিংসার শিকার হয়েছে, অনেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার। বহু ছাত্রী আবার পেটের দায়ে অন্য কাজ শুরু করে দিয়েছে।

রাষ্ট্রপুঞ্জের এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা রাখতে গিয়ে মালালা বলেন, মেয়েদের উন্নয়নের জন্য সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই যে লক্ষ্যমাত্রা এবং পরিকল্পনাগুলো স্থির করা হয়েছিল, করোনা পরিস্থিতির কারণে তার অনেকগুলোই থেমে গিয়েছে বা বাতিল হয়ে গিয়েছে।

মালালার কথায়, ‌‘‌‘করোনা কবে দূর হবে তা জানা নেই, তবে একথা বলতে পারি, এ অসুখ দূর হতে হতে শিক্ষাক্ষেত্রে আরও দু’‌কোটি মেয়ে স্কুলছুট হবে। অর্থাৎ করোনা মিটলেও তারা আর স্কুলেই ফিরবে না। ইতিমধ্যে‌ গোটা বিশ্বে শিক্ষাক্ষেত্রে ফান্ডিং কমে গিয়েছে ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।’‌’

তবে শুধু এই আশঙ্কা বা উদ্বেগেই শেষ নয়। রাষ্ট্রপুঞ্জের কর্তাদের উদ্দেশে ভর্ৎসনার সুরেই মালালা প্রশ্ন তোলেন, “সারা বিশ্বের শিশুদের শিক্ষায় সাহায্য করতে আর কবে নড়ে বসবে রাষ্ট্রপুঞ্জ? আর কবে বাস্তবায়ন হবে পরিকল্পনাগুলোর?”

গত পাঁচ বছরে নারীশিক্ষায় আশানুরূপ কাজ হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সেই সঙ্গে আক্ষেপ করেন, শান্তি এবং শরণার্থীদের সুরক্ষাকে এখনও পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলে।‌ পরিবেশ দূষণ রোধে রাষ্ট্রপুঞ্জের পদক্ষেপ না করা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More