রবিবার, জুলাই ২১

পালিয়ে গিয়েও পাভলভেই ফিরতে হলো ‘সুস্থ’ মৈত্রেয়কে, দায়িত্ব নেননি আত্মীয়রা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মায়ের মৃতদেহ পাহারা দিয়ে রেখেছিলেন আঠারো দিন।গত ২৪ ডিসেম্বর রবিনসন কাণ্ডের ছায়া পড়েছিল সল্টলেকে।মায়ের মৃতদেহ আগলে  থাকা সেই মৈত্রেয় ভট্টাচার্যকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয় পাভলভে। শুক্রবার সকালে সেই পাভলভের পাঁচিল টপকে পালিয়ে আসেন মৈত্রেয়। পালানোর সময় গুরুতর জখম হন তিনি। হাত-পা কাটা অবস্থায় সারাদিন এদিক ওদিক ঘোরার পর সল্টলেকে নিজের বাড়ির সামনেই আসেন।তবে সন্ধ্যা গড়াতে মৈত্রেয়কে ফিরতে হলো সেই পাভলভেই।

রবিনসন স্ট্রিট কাণ্ডের ছায়া সল্টলেকে, ১৮ দিন মায়ের মৃতদেহ আগলে ছেলে

হাসপাতালে ফিরে ক্লান্ত মৈত্রের প্রশ্ন, ‘আমি তো সুস্থ, কেন থাকবো এখানে!’

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার সকালে। পাভলভ হাসপাতালের নিরাপত্তার ঢিলেমিকে সামনে এনেই, হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান মৈত্রেয় ভট্টাচার্য। পুলিশকে যে বয়ান মৈত্রেয় দিয়েছেন, তাতে স্পষ্ট শুক্রবার গোটা দিন তিনি সাহায্যের আশায় ঘুরেছেন।হাঁটতে হাঁটতে বেনিয়াপুকুর, সেখান থেকে ট্যাক্সি ধরে পাইকপাড়ায় আত্মীয়ের বাড়িতে যান। আত্মীয়রা মৈত্রেয়কে ফিরিয়ে দেন।  জানান, কোনওভাবেই পাগল ছেলের সাহায্য তাঁরা করবেন না।Image result for maitreya bhattacharyaপরিজনদের সাহায্য না পেয়ে আবার ট্যাক্সিতে চেপেই মাণিকতলার একটি রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্কে যান মৈত্রেয়। সেই ব্যাঙ্ক থেকেই টাকা তুলতেন তাঁর মা-বাবা। তবে, মৈত্রেয়কে টাকা দিতে চায়নি ব্যাঙ্ক। জানানো হয়, কোনওরকম প্রমাণ ছাড়া টাকা দেওয়া যাবে না।এরপর মাণিকতলা থেকে সোজা সল্টলেকে নিজের বি-ই ব্লকের বাড়ির সামনে আসেন ৩৮ বছরের মৈত্রেয়। তখন প্রায় বিকেল। শীতে কাঁপতে কাঁপতে প্রতিবেশীর বাড়ির বেল বাজান তিনি। আত্মীয়রা মুখ ফেরালেও সেই প্রতিবেশী তাঁকে গরম জামা, জল, খাবার দিয়ে নিজেদের বাড়িতেই বসান, খবর দেন বিধাননগর পুলিশকে।

খবর পেয়ে  পুলিশ আসে। পুলিশের মাধ্যমেই পাভলভ হাসাপতাল কর্তৃপক্ষ মৈত্রেয়র খোঁজ পায়। মৈত্রেয়র তীব্র অনিচ্ছাতেই তাঁকে পাভলভে ফেরত নিয়ে যাওয়া হয়। গোটা ঘটনায়, পুলিশকে একটা বিষয়ই অবাক করে। আর তা হলো, সকাল ১১টার সময় পাভলভ থেকে নিখোঁজ হন মৈত্রেয়। অথচ, পুলিশকে সেই বিষয়ে কোনও কিছুই জানায়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পুলিশের ফোন এলে মৈত্রেয়র নিখোঁজ হওয়ার কথা তারা স্বীকারও করে। নিজেদের দোষ ঢাকতেই কি বিষয়টি পুরোপুরি গোপন করা হয়। সেই তদন্ত জারি রাখছে পুলিশ।

বড় পর্দায় ফের শ্বশুর-বউমা, ১১ বছর পর স্ক্রিন শেয়ার করবেন অমিতাভ-ঐশ্বর্য

পাভলভে চেনা ঘরেই আপাতত শয্যাশায়ী মৈত্রেয়। তবে, এখনও মৈত্রেয়র কথা ভুলতে পারছনে না নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই প্রতিবেশী। তিনি জানান, হাসপাতালের গাড়িতে  ওঠার আগেও মৈত্রেয় বলে চলেন, ‘সিটি স্ক্যানের রিপোর্টে আমি সুস্থ, আমায় ওখানে তাহলে কেন পাগল, পাগল বলে ডাকা হয়, আমি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই। আমায় সাহায্য করুন।’

 

Image result for maitreya bhattacharya

হাসাপাতালে যাওয়ার আগে মৃত মায়ের সৎকার করার ইচ্ছেও প্রকাশ করেন তিনি। অবশ্য, ঘটনার পর মৈত্রেয়র খুড়তুতো ভাই সৎকারের দায়িত্ব নিয়েছেন। পাশপাশি, পাভলভে তাঁর ভাইয়ের চিকিৎসায় যেন কোনও খামতি না থাকে সেই দাবিও তুলেছেন। তবে, ভাইকে বাড়িতে ফেরাতে চাননি তিনি। 

এই ভাইকে  আগেও হাসপাতাল থেকেই ফোন করেছিলেন মৈত্রেয়। জানিয়েছিলেন, হাসপাতালের ফাইল থেকেই ভাইয়ের নম্বর তিনি পেয়েছেন। সুস্থ না থাকলে হাসপাতালের ফাইল থেকে ভাইয়ের ফোন নম্বর কীভাবে চিনলেন মৈত্রেয়। উঠছে সেই প্রশ্নও।

পড়ুন-

কংগ্রেসকে বাইরে রেখেই উত্তরপ্রদেশে জোট ঘোষণা অখিলেশ-মায়ার

Comments are closed.