Latest News

আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেবেন না, আমায় দেখুন, দুই হাতেই আমি বিশ্বসেরা

Zion Clark, the incredible Story of the Wrestler Born Without Legs

Zion Clark

রূপাঞ্জন গোস্বামী

লাখে এক

আমেরিকার কলম্বাস শহরের মফঃস্বল এলাকায়, ১৯৯৭ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জন্ম নিয়েছিল এক কৃষ্ণাঙ্গ শিশু। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর শিশুটিকে দেখে কেঁদে ফেলেছিলেন শিশুটির বাবা মা। কারণ শিশুটির কোমরের নীচের অংশ ছিল না। যদিও শরীরের  ঊর্ধ্বাংশ ছিল স্বাভাবিক।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, মাতৃগর্ভেই শিশুটি এক বিরল গঠনগত ত্রুটির শিকার হয়েছিল। যার নাম caudal regression syndrome। প্রতি একলাখ শিশুর মধ্যে মাত্র একজনের এই ত্রুটি দেখা যায়।

আপদ বিদায়  করেছিল বাবা মা

বছর তিনেক পর অসহায় শিশুটিকে তার বাবা মা ফেলে দিয়ে গিয়েছিলেন এক অনাথ আশ্রমের দরজায়। পরিত্যক্ত শিশুটির নাম অনাথ আশ্রম রেখেছিল ‘জিওন’। অনাথ আশ্রমের ছত্রছায়ায় থাকা আরও কিছু ছেলের সঙ্গে বেড়ে উঠছিল জিওন। বাকিরা ছিল স্বাভাবিক । একমাত্র জিওনই ছিল ‘বিশেষভাবে সক্ষম শিশু’, আগে যাদের বলা হতো প্রতিবন্ধী।

Zion Clark
অনাথ আশ্রমে জিওন

যতদিন জিওনকে কোলে করে খাটে শুয়ে দেওয়া যেত, ততদিন সে খাটে শুত।  তারপর ক্রমশ বড় ও ভারী হতে থাকা জিওনওকে শুতে দেওয়া হত মেঝেতে পাতা ম্যাট্রেসে। বড় গেঞ্জি পরতো জিওন, বুকের পাঁজরের নীচ অবধি তুলে নিত প্যান্ট। প্যান্টের পা দুটোকে জড়িয়ে গিঁট বেধে দিত। কারণ তার পা নেই, তাই ও দু’টোরও  প্রয়োজন ছিল না।

দুই হাতের সাহায্যে দেহটাকে টানতে টানতে শিশু জিওন ঘুরত সারা অনাথ আশ্রম।  বিকেলে অনাথ ছেলেরা মাঠে খেলতে যেত। পিছন পিছন যেত জিওনও। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় গড়িয়ে পড়ে অনেকবার মাথা ফেটেছে। তবুও মাঠে যাওয়ার নেশা কমেনি জিওনের। যদিও স্বাভাবিক গঠনের ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল বা বাস্কেটবল খেলা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না।

আরও পড়ুন: আফগান মোনালিসা, বিশ্ববিখ্যাত ছবি যাঁকে দিয়েছিল এক অভিশপ্ত জীবন

 সইতে হয়েছিল অমানুষিক অত্যাচার

অনাথশ্রমের বেশিরভাগ বালক ও কর্মী জিওনকে আপদ বলে মনে করত। তাই জিওনকে প্রতিনিয়ত সইতে হত তাচ্ছিল্য ও অবহেলা। তার জামা প্যান্ট খুলে দেওয়া হত, তার পুরুষাঙ্গ আছে নাকি তা দেখার চেষ্টা করা হত। বাধা দিতে গেলেই জুটত মার। অত্যাচার সইতে সইতে ক্রমশ হিংস্র হয়ে উঠছিল জিওন।

৬ বছর বয়সে জিওনকে স্কুলে ভর্তি করে দেওয়া হয়েছিল। স্কুলের আঁকার শিক্ষক জিওনকে খুব ভালবাসতেন। কারণ জিওন সেই বয়সেই খুব ভাল ছবি আঁকত এবং পড়াশোনাতেও ভাল ছিল। একদিন সেই শিক্ষক  জিওনকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, জিওন স্কুলে সবসময় মনমরা হয়ে থাকে কেন। জিওন বলেছিল, স্কুল থেকে ফিরলেই মার খেতে হবে সেই আতঙ্ক তাকে তাড়া করে বেড়ায়।

স্কুলের ছাত্রদের কুস্তিও শেখাতেন সেই শিক্ষক। তিনি জিওনকে বলেছিলেন, বাঁচতে গেলে পাল্টা মার দিতে হবে। এটাই পৃথিবীতে টিকে থাকার আদিম নিয়ম। পরদিন থেকেই জিওনকে কুস্তি শেখাতে শুরু করেছিলেন সেই শিক্ষক। কিছুদিন পর থেকেই পাল্টা মার দিতে শুরু করেছিল জিওন। ফলে বদলে গিয়েছিল তার ঠিকানা। জিওনকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল ওহায়োর অন্য আরেকটি অনাথ আশ্রমে।

ঠিকানা বদলালেও, বদলায়নি অবস্থা।  জিওনের থালায় দেওয়া হত অর্ধেক খাবার। শরীরের অর্ধেক অংশ নেই, তাই পুরো খাবার দেওয়ার দরকার নেই। প্রতিবাদ করলে, জিওনকে অভুক্ত রাখা হত সারাদিন। নিস্ফল আক্রোশে উন্মাদ হয়ে উঠত ক্ষুধার্ত জিওন। আক্রমণ করে বসত কাউকে। জেগে থাকা অবস্থায় জিওনকে মারা সম্ভব নয়, তাই ঘুমন্ত জিওনের ওপর আক্রমণ চালানো হত দলবেঁধে। ঘর অন্ধকার করে।

‘মা’ বলে ডাকার জন্য প্রাণ কাঁদত

এভাবেই ভাগ্যের ও মানুষের হাতে মার খেতে খেতে জিওন ঘুরেছিল আট-ন’টি অনাথাশ্রম। যেগুলিতে সন্তান দত্তক নেওয়ার জন্য নিয়মিত আসতেন প্রচুর নিঃসন্তান দম্পতি। কিন্তু জিওনের দিকে ফিরেও তাকাতেন না তাঁরা। অথচ কাউকে ‘মা’ বলে ডাকার জন্য প্রাণ কাঁদত জিওনের।

নতুন বাবা মায়ের হাত ধরে অনাথ আশ্রমের গেটের বাইরে চলে যেত অনাথ আশ্রমের কত ছেলে। দৃশ্যগুলি দেখার পর, বাথরুমের ট্যাপ খুলে তার নীচে দাঁড়িয়ে পড়ত জিওন। শরীর বেয়ে গড়াতে থাকা জলের সঙ্গে মিশে থাকত চোখের জলও। এভাবেই কাঁদত জিওন, যাতে কেউ যেন বুঝতে না পারে।

প্রতীকী ছবি

জীবনে দেবদূত হয়ে এসেছিলেন ডোনাহিউ

ওহাইয়োর ম্যাসিলন শহরের অনাথ আশ্রমে যাওয়ার পর, জিওন ভর্তি হয়েছিল ওয়াশিংটন হাইস্কুলে। স্কুলের কুস্তির কোচ ছিলেন গিল ডোনাহিউ। একদিন স্কুলের ইন্ডোর স্টেডিয়ামে প্র্যাকটিস ম্যাচ হচ্ছিল, জিওন ছিল দর্শকের আসনে। রিঙে  চলছিল কুস্তি, সে দিকে মনোযোগ না দিয়ে, জিওনের দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়েছিলেন ডোনাহিউ। উত্তেজিত জিওন পারলে যেন এখনই নেমে পড়ে রিঙে।

ম্যাচ শেষে জিওনকে ডেকে নিয়েছিলেন ডোনাহিউ। সব জানার পর, জিওনকে নিয়মিত প্র্যাকটিসে আসতে বলেছিলেন। পরদিন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল জিওনের ট্রেনিং। এতদিন কুস্তির কোনও কৌশলই জানত না জিওন। বিপক্ষের পা ধরে টেনে  মাটিতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করত। কিন্তু ডোনাহিউ জিওনকে ধরে ধরে শিখিয়ে ছিলেন কুস্তির সর্বাধুনিক প্যাঁচ পয়জার। যে প্যাঁচগুলিতে জিওনের  শরীরের ঊর্ধ্বাংশকে একশো শতাংশ ব্যবহার করা যাবে, সেগুলিই জিওনকে শেখাতে শুরু করেছিলেন ডোনাহিউ। বয়সের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও একসময় দুজনের মধ্যে গড়ে উঠেছিল এক অকৃত্রিম বন্ধন ও বন্ধুত্ব। এভাবেই কেটেছিল প্রায় তিন বছর।

জিওন ও গিল ডোনাহিউ

জীবনে এসেছিল প্রথম জয়

ছ’বছর বয়সে জিওন কুস্তি শুরু করলেও, দশ বছরে জিততে পারেনি কুস্তির একটাও ম্যাচ। দর্শকেরা তার ম্যাচ দেখতে যেতেন, সার্কাস দেখার আনন্দ পাওয়ার জন্য। দুই হাতে ভর দিয়ে কুস্তির রিঙে জিওন যখন ঘুরত, দর্শকেরা ‘জোকার’ বলে চিৎকার করে উঠতেন। প্রতিপক্ষের প্যাঁচের ঝাপটায় ভারসাম্য হারিয়ে যখন ম্যাটে গড়িয়ে পড়ত জিওন, আনন্দে হাততালি দিয়ে উঠতেন দর্শকেরা।

ডোনাহিউয়ের প্রশিক্ষণে নতুনভাবে নিজেকে আবিষ্কার করেছিল জিওন। তার বয়স তখন ষোলো। ডোনাহুয়ের অক্লান্ত চেষ্টা ও  কুস্তির রিঙে জিওনের অমানুষিক পরিশ্রম এনে দিয়েছিল সাফল্য।  শক্তিশালী ও পেশিবহুল দেহের অধিকারী জিওনের জীবনে এসেছিল প্রথম জয়। ওজন  ৪০ কেজি হওয়ার পর, জিওন নেমেছিল আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায়।

ফেদারওয়েট ক্যাটাগরিতে থাকা অন্যান্য প্রতিযোগীর ওজন ছিল ৫০ কেজি এবং তাদের শারীরিক গঠনও ছিল স্বাভাবিক। এই প্রতিযোগিতায় জীবনের প্রথম ম্যাচ জিতে অবাক হয়ে গিয়েছিল জিওন। চোখ থেকে গড়িয়ে পড়েছিল জল। ম্যাচ হেরে অবাক হয়ে গিয়েছিল তার দুই বাহুর মধ্যে ছটফট করতে থাকা প্রতিপক্ষও। অবাক হয়ে গিয়েছিলেন দর্শকেরাও। এরপর থেকে আর কোনও দর্শক কোনওদিন জিওনকে  জোকার বলার সাহস পাননি।

জিওন হয়ে উঠেছিলেন অপরাজেয়

পূর্ণ হয়েছিল ‘মা’ বলে কাউকে ডাকার  স্বপ্ন

ম্যাসিলনের অনাথ আশ্রমে ২০১৬ সালে এসেছিলেন কিম্বারলি ক্লার্ক হকিন্স নামে এক নিঃসন্তান মহিলা। ষোলো বছর বয়সের জিওনকে দেখে এগিয়ে এসেছিলেন। জিওনের পাশে বসে অনেকক্ষণ গল্প করেছিলেন। জিওনকে দিয়েছিলেন ফল ও কেক। গল্প করতে করতে জিওন কিম্বারলিকে বলেছিল, সে শুধু কুস্তিই করে না, পড়াশোনাতেও ক্লাসে সে প্রথম পাঁচে থাকে।

এর ঠিক এক বছর পর, জিওনকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন কিম্বারলি। জিওনকে দত্তক নেওয়ার আগে, আরও দুই অনাথ কন্যাকে দত্তক নিয়েছিলেন তিনি। বাড়িতে ঢুকেই কিম্বারলিকে জড়িয়ে ধরে জিওন কান্নাধরা গলায় বলেছিল, “মা, সবাই আমায় ঘৃণা করে, তুমিও আমায় আসল মায়ের মত ক’দিন পরে ছুঁড়ে ফেলে দেবে না তো! কিম্বারলি জিওনের কপালে চুমু দিয়ে বলেছিলেন, “তুমি দেবদূত, তাই তো তোমায় ঘরে নিয়ে এলাম।”

মায়ের সঙ্গে জিওন

দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল জিওনের নাম

মায়ের ভালবাসা ও নিরাপত্তা পেয়ে কুস্তি ও পড়াশুনায় আরও মনোযোগ দিয়েছিল জিওন। স্কুলস্তরের রাজ্য প্রতিযোগিতায়, কুস্তির ৩৩ ম্যাচের মধ্যে ১৫ টি ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠেছিল জিওন। ফাইনাল ম্যাচে, দশ কেজি বেশি ওজনের প্রতিপক্ষের সঙ্গে টানা ৬ মিনিট লড়েছিল সে। ম্যাচ ড্র হওয়ার পর, শুরু হয়েছিল এক্সট্রা টাইম। সব শেষে শুরু হয়েছিল সাডেন ডেথ। হেরে গিয়েছিল জিওন। উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়েছিল সারা স্টেডিয়াম। দর্শকেরা গ্যালারি থেকে নেমে জিওনকে কোলে তুলে নিয়েছিলেন।

এর কয়েকমাস পরেই, রাজ্যস্তরের ‘হুইলচেয়ার রেসিং’ প্রতিযোগিতায়,  ১০০ মিটার ও ৪০০ মিটারে প্রথম ও  ৮০০ মিটারে তৃতীয় হয়েছিল জিওন। ঘণ্টায় ৩২ কিলোমিটার বেগে হুইল চেয়ার নিয়ে ছুটতে পারত জিওন। এছাড়া, দুই হাতে ভর  দিয়েও হাওয়ার বেগে ছুটতে পারত জিওন। ওহাইয়োর  বিশেষভাবে সক্ষম ক্রীড়াবিদদের মধ্যে ‘দ্রুততম ক্রীড়াবিদ’ হওয়ার পুরস্কার পেয়েছিল সে।

হুইল চেয়ার রেসে জিওন

ব্যর্থতার জন্য অজুহাত দিও না

জিওনের জীবনের আদর্শ ছিলেন বিশেষভাবে সক্ষম অভিযাত্রী ও কুস্তিগীর কাইল মেনার্ড। তিনি লিখেছিলেন ‘No Excuses’ নামে একটি বই। যে বইটি ছিল জিওনের ধর্মগ্রন্থ। বইটিতে মেনার্ড  লিখেছিলেন, জীবনে অসফল হওয়ার জন্য কোনও অজুহাত দেওয়া চলবে না। শরীরের কোনও অংশ নেই বলে, নিজেকে অক্ষম ভাবা চলবে না।  শরীরের যেটুকু অংশ আছে, সেটা দিয়েই অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়।” কথা গুলো গেঁথে গিয়েছিল জিওনের মনে। ‘No Excuses’ ট্যাটু করিয়েছিলেন পিঠে।

জিওনের চোখে আদর্শ জীবনযোদ্ধা কাইল মেনার্ড

অজুহাত না দেওয়ার কথা বলেছিলেন, কোচ ডোনাহিউও। ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় একটি ম্যাচের প্রথম রাউন্ডে, জিওনের সঙ্গে কুস্তির প্যাঁচে না পেরে, সরাসরি তার মাথায় আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিল প্রতিপক্ষ। চোখ নাক মুখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছিল রক্ত। আহত হওয়ার অজুহাতে ম্যাচ ছাড়তে চেয়েছিলেন রক্তাক্ত জিওন। ডোনাহিউ বলেছিলেন, কোনও অজুহাত দিও না। এত দূর এসেছো, তোমার কাজ তোমাকে করে যেতে হবেই।” পরের রাউন্ডেই সেই প্রতিপক্ষকে তুলে আছাড় মেরে ম্যাচ শেষ করেছিল জিওন।

জিওন জানত না, হতাশার অন্ধকার থেকে জয়ের আলোয় ফেরা জিওনকে ক্যামেরায় ধরে রাখছিল হলিউডের একটি টিম। ২০১৮ সালে মুক্তি পেয়েছিল ১১ মিনিটের ডকুমেন্টারি সিনেমা ‘ZION’।  আমেরিকা এক ডাকে চিনলেও, রাতারাতি বিশ্ববিখ্যাত হয়ে গিয়েছিল জিওন।

সেই সিনেমার পোস্টার

 এক অবিশ্বাস্য লক্ষ্যের দিকে 

বিশ্বের প্রথম মানুষ হিসেবে জিওন ক্লার্ক একইসঙ্গে নামতে চেয়েছিলেন টোকিও-২০ অলিম্পিক ও প্যারা অলিম্পিকে। অলিম্পিকে জিওন লড়বেন কুস্তি ও প্যারা অলিম্পিকে দৌড়াবেন হুইল চেয়ার নিয়ে। এর জন্য তিনি সাহায্য নিয়েছিলেন অলিম্পিক ও বিশ্বচাম্পিয়ন কুস্তিগীর জর্ডান বরো ও জো ডেভিসের।

শরীর আরও পেশিবহুল করার জন্য শুরু হয়েছিল পাওয়ার লিফটিং। হাসতে হাসতে ১৪০ কেজি ওজন তুলে ফেলতেন, ৩ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতা ও  ৩৯ কেজি ওজনের জিওন। কিন্তু প্র্যাকটিসে পাওয়া চোট ভেঙে দিয়েছিল স্বপ্ন। তখনই আবার কাঁধে হাত রেখেছিলেন দেবদূত  ডোনাহুয়ে। বলেছিলেন ভুলে যাও টোকিও। লক্ষ্য হোক প্যারিস-২০২৪।

লক্ষ্য প্যারিস-২০২৪

গড়ে ফেলেছিলেন বিশ্বরেকর্ড

সারা বিশ্বকে জিওন চমকে দিয়েছিলেন ২০২১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি।  ম্যাসিলন স্কুলের ট্র্যাকে, দুই হাতে ভর দিয়ে মাত্র ৪.৭৮ সেকেন্ডে জিওন দৌড়েছিলেন ২০ মিটার। এর আগে বিশ্বের কোনও মানুষ এত দ্রুত হাতে ভর দিয়ে দৌড়তে পারেননি। বিশ্বরেকর্ডটিকে স্বীকৃতি দিয়েছিল ‘গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’। কান্নাভেজা গলায় পুরস্কারটি  মায়ের হাতে তুলে দিয়ে জিওন অস্ফুটে বলেছিল, “সামান্য উপহার তোমার জন্য”। কিছুই বলেননি মা, জিওনের জামা ভিজে গিয়েছিল মায়ের চোখের জলে।

বিশ্বরেকর্ড গড়ার মুহূর্ত

দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলেছেন জিওন

জিওনের পাখির চোখ এখন প্যারিস-২০২৪ অলিম্পিক। একই সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছেন হুইলচেয়ার রেসিং, হুইলচেয়ার বডিবিল্ডিং ও মার্শাল আর্ট। কেন্ট ইউনিভার্সিটি থেকে  ডিগ্রি করে নিয়েছেন বিজনেস ম্যানেজমেন্টে। খেলা থেকে অবসরের পর শুরু করতে চান নিজের ব্যবসা। নিজের অফিসে চাকরি দিতে চান তাঁরই মতো বিশেষভাবে সক্ষম নারী পুরুষদের। নিজের রোজগারের টাকায় ইতিমধ্যেই জিওন কিনে ফেলেছেন বিরাট এক ডিপার্টমেন্টাল স্টোর্স।

প্র্যাকটিস ও কাজের অবসরে জিওন সময় কাটান ওহাইয়োর স্কুল, কলেজ, অনাথ আশ্রম ও হাসপাতালগুলিতে। হতাশায় ডোবা মুখ দেখলেই জিওন বলে ওঠেন, জীবনে মসৃণ পথ সব সময়ে আসবে না, একটু চেষ্টা করে দেখো, তোমার চেষ্টাতেই মসৃণ হয়ে উঠবে অমসৃণ পথ।

আত্মহত্যাপ্রবণ যুবক যুবতীদের  উদ্দেশে জিওন বলেন, আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমার কথা একবার ভাবো। স্কুল থেকে শুরু হয়েছিল আমার লড়াই। দশ বছর কুস্তিতে জিততে পারিনি। মার দেওয়ার থেকে খেতাম বেশি। জীবনযুদ্ধের ময়দানে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া, দশ বছর ধরে হারতে থাকা ছেলেটাই কিন্তু আজ খাঁচায় (রিঙে) ঢুকলে বাঘের মতোই রক্তের গন্ধ পায়। আজ আমার বিরুদ্ধে রিঙে নামার আগে সবাই দশবার ভাবে, জিতে ফিরতে পারব তো!

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like