Latest News

বাবার অমতেই যেতেন শ্রীরামকৃষ্ণের কাছে, স্বামীজির নাম শুনলে চোখে জল আসত তাঁর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছেলেবেলা থেকেই বেদান্ত উপনিষদ পুরাণে ছেলের আগ্রহ দেখে অবাক হতেন বাবা। তবে শুধুই হিন্দুধর্ম নয়, শাস্ত্রগ্রন্থ পড়ার পাশাপাশি রেভারেণ্ড ম্যাকডোরেণ্ড, রেভারেণ্ড কালীচরণ বন্দোপাধ্যায় প্রমুখদের প্রচার দেখে নব্য খ্রিষ্টধর্মের প্রতিও আকৃষ্ট হয় সে ছেলে। আবার ব্রাহ্ম কেশব সেন, প্রতাপচন্দ্র মজুমদারদের বক্তৃতা শুনতেও অ্যালবার্ট হলে যাওয়াআসা ছিল তার। এই পর্যন্ত মেনে নেওয়া গেছিল, কিন্তু ছেলে দক্ষিণেশ্বরে রানির মন্দিরে পাগলা ঠাকুরের কাছেও যেতে শুরু করেছে শুনে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল বাবা রসিকলালের। বাধ্য হয়েই একদিন হন্তদন্ত হয়ে আহিরিটোলা থেকে ছুটে গেলেন দক্ষিণেশ্বরে। শ্রীরামকৃষ্ণকে গিয়ে নিজের পরিচয় দিলেন। বললেন “আমার ছেলে যাতে মন দিয়ে লেখাপড়া করে, ঘর সংসার করে, আপনি দয়া করে ওকে একটু সেই উপদেশ দিন।”
কিছুক্ষণ চুপ থেকে ঠাকুর বললেন, “আপনার ছেলের মধ্যে যোগীর লক্ষণ রয়েছে। ও যোগ-সাধনার জন্য অধীর হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় ওর বিয়ে দিলে তার ফল কি ভাল হবে?” এমন স্পষ্ট কথার পর আর কী বা বলার থাকে! একরকম শূন্য হাতেই দক্ষিণেশ্বর থেকে চলে এসেছিলেন বাবু রসিকলাল। উত্তর কলকাতার চন্দ বাড়ির সেই খ্যাপা ছেলে আর কেউ নয়, শ্রীয়ারমকৃষ্ণের সাক্ষাৎ শিষ্য স্বামী অভেদানন্দ। (Swami Abhedananda)

Image - বাবার অমতেই যেতেন শ্রীরামকৃষ্ণের কাছে, স্বামীজির নাম শুনলে চোখে জল আসত তাঁর

১৮৬৬ সালের ২ অক্টোবর উত্তর কোলকাতার এক সম্ভ্রান্ত বাড়িতে জন্ম স্বামী অভেদানন্দের। জন্মসূত্রে পাওয়া নাম কালীপ্রসাদ। বাবা রসিকলাল চন্দ্র, মা নয়নতারা দেবী। প্রথমে সংস্কৃত বিদ্যালয় ও পরে ওরিয়েন্টাল সেমিনারি থেকে এনট্রান্স পাশ করেন কালীপ্রসাদ। ধর্ম নিয়ে তাঁর আগ্রহ ছেলেবেলা থেকেই। ইস্কুলের টিফিনের পয়সা জমিয়ে একসময় কিনে ফেলেছিলেন পাতঞ্জল দর্শন। সেই আত্মানুসন্ধানের পথ বেয়েই একদিন পৌঁছে গেছিলেন দক্ষিণেশ্বরে, শ্রীরামকৃষ্ণ দেবের পদমূলে।

ঠাকুরের মৃত্যুর পর বরাহনগর মঠের একটি ঘরে নিজেকে আবদ্ধ করে ধ্যানে ডুবে থাকতে শুরু করেছিলেন কালীপ্রসাদ। এই জন্য তাঁর গুরুভাইয়েরা তাঁকে ‘কালী তপস্বী’ নাম দেয়। রামকৃষ্ণের মৃত্যুর পরে বিবেকানন্দ এবং অন্যান্যদের সঙ্গে কালীপ্রসাদও আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ন্যাসী হয়ে ওঠেন এবং ‘স্বামী অভেদানন্দ পুরি’ (Swami Abhedananda) নামে পরিচিতি লাভ করেন।

শিকাগো ধর্মমহাসভার পর তখন বিদেশের মাটিতে সনাতন ধর্মের প্রচারে আত্মনিয়োগ করেছেন বিবেকানন্দ। একা একা সবদিক সামলে উঠতে পারছিলেন না স্বামীজি। ডাক পড়ল গুরুভাই ‘কালুয়া’র। স্বামীজির ডাক পেয়ে সোজা লন্ডন চলে যান কালীপ্রসাদ। সেখানে নিয়মিত রাজযোগ, জ্ঞানযোগ ও বেদান্ত সম্বন্ধে বক্তৃতা দিতেন তিনি। সে সময়ে ম্যাক্সমুলার, ডয়সনের মত একঝাঁক দিকপাল দার্শনিকের সঙ্গে আলাপ পরিচয় হয় অভেদানন্দের। পরে বিবেকানন্দের নির্দেশে তিনি নিউইয়র্কে বেদান্ত আশ্রমের ভার গ্রহণ করেন। সেখানেও গীতা, উপনিষদ, সাংখ্য, পাতঞ্জল প্রভৃতি বিষয়ে বক্তৃতা দেন। অদ্ভুত স্নেহপ্রীতির সম্পর্ক ছিল দুজনের। স্বামীজী সম্পর্কে কিছু বলতে গেলেই চোখে জল আসত অভেদানন্দের।

পাশ্চাত্যে থাকাকালীন প্রায়শই প্ল্যানচেটের আসরে বসতেন স্বামী অভেদানন্দ। মৃত্যু পরবর্তী দশা নিয়ে তাঁর আগ্রহ একসময় অ্যাডিকশনের পর্যায়ে পৌছেছিল। সেই কৌতূহলের হাত ধরেই জন্ম নেয় ‘মরণের পারে’। ১৯৩৯ সালের সেপ্টেম্বরে রামকৃষ্ণ বেদন্ত মঠে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কর্মযোগী গ্রন্থপাগল ‘কালী তপস্বী’ অভেদানন্দ (Swami Abhedananda)।

You might also like