Latest News

অঙ্কের পরীক্ষায় ১০০ তে ১১০, বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানীর আড়ালে কে এই আত্মভোলা বন্ধুপাগল মানুষ

দ্য ওয়াল ম্যাগাজিন ব্যুরো: বাংলা বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাসে তাঁর অবস্থান প্রায় এভারেস্টের মতো। শুধু বাংলাতেই নয়, ভারতবর্ষের বুকে আধুনিক বিজ্ঞানের চর্চা ও গবেষণায় তিনি আজও এক অবিস্মরণীয় নাম। পদার্থবিদ্যার অন্যতম জটিল শাখা, গাণিতিক পদার্থবিজ্ঞান ছিল তাঁর গবেষণার মূল ক্ষেত্র। পরমাণুর চেয়েও ছোট পূর্ণসংখ্যক স্পিনবিশিষ্ট মৌলিক কণিকার আরেক নাম ‘বোসন কণা’। এই ‘বোসন’ বা ‘ঈশ্বর’ কণার আবিষ্কারে বিশ্বখ্যাত আইনস্টাইনের সঙ্গে একযােগে উচ্চারিত হয় বাংলার সেই স্বনামধন্য বিজ্ঞানীর নাম। তিনি, বিজ্ঞানাচার্য সত্যেন্দ্রনাথ বসু। (Satyendranath Bose)

Image - অঙ্কের পরীক্ষায় ১০০ তে ১১০, বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানীর আড়ালে কে এই আত্মভোলা বন্ধুপাগল মানুষ

ছাত্র হিসাবে গোড়া থেকেই অসম্ভব মেধাবী ছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ। স্কুল জীবনে অঙ্কের পরীক্ষায় একবার তো ১০০ তে ১১০ পেয়েছিলেন। ভাবছেন কী করে সম্ভব? আসলে পরীক্ষার খাতায় ঠিক উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি জ্যামিতির উপপাদ্যগুলো আবার একাধিক পদ্ধতিতে আলাদা আলাদাভাবে সমাধান করে দেখিয়েছিলেন তিনি। সেই খাতা এক্সামিন করতে গিয়ে ছাত্রের প্রতিভা দেখে হতবাক হয়ে যান অংকশিক্ষক উপেন্দ্রনাথ বক্সী। শোনা যায়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় তাঁর প্রাপ্ত নম্বর আজ এতবছর পরেও টপকাতে পারেনি কেউ। এ হেন সত্যেন্দ্রনাথ বসু বিজ্ঞানের সেবায় নিরলস কাজ করে গেছেন সারা জীবন। মাতৃভাষায় বিজ্ঞান চর্চার প্রবল সমর্থক ছিলেন তিনি। ছিলেন বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চার অন্যতম পথিকৃৎও। কিন্তু বিজ্ঞানসাধনায় মনোনিবেশ করতে গিয়ে নিজেকে জীবনবিচ্ছিন্ন করে ফেলেননি সত্যেন্দ্রনাথ। মানুষ হিসেবেও তিনি ছিলেন খাঁজকাটা হিরের মতো। নানা গুণের পাশাপাশি রসবোধও প্রবল ছিল তাঁর। বিশ্ববন্দিত বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর আড়ালে লুকিয়ে ছিলেন এক অজানা সত্যেন্দ্রনাথ (Satyendranath Bose)। কেমন ছিলেন সেই রসিক মানুষটা?

আইনস্টাইন ও সত্যেন্দ্রনাথ

‘বোসন কণা’ আবিষ্কার হয়ে গেছে ততদিনে, পদার্থবিদ্যার তাবড় বিজ্ঞানীদের মুখে মুখে ফিরছে বসু-আইনস্টাইন পরিসংখ্যান। এরকম একটা সময় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আলোচনা সভায় আমন্ত্রিত হয়ে ভারতে এলেন বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী পল ডির‍্যাক। একটা গাড়ি ভাড়া করে কয়েকজন প্রিয় ছাত্রকে নিয়ে সত্যেন্দ্রনাথ গেছেন দমদম বিমানবন্দরে, ডির‍্যাককে সসম্মানে নিয়ে আসার জন্য। ডির‍্যাকের সঙ্গে আছেন তাঁর স্ত্রী ম্যান্সি। ফেরার পথে সত্যেন্দ্রনাথ ছাত্রদের গাড়ির পিছনে বসার নির্দেশ দিয়ে ডির‍্যাক ও তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে উঠলেন গাড়ির সামনে। কিছুক্ষণ পরে কী মনে হওয়ায় খানিক অস্বস্তি নিয়েই ডির‍্যাক বলে উঠলেন, “মিস্টার বোস, আমার মনে হয় গাড়িটা আমাদের জন্য বড্ড ছোট হয়েছে। আপনার ছাত্ররা গাড়ির পিছনে ভালো করে বসতেও পারছে না।” উত্তরে সকৌতুকে সত্যেন্দ্রনাথ বলেছিলেন, “আমার ছাত্ররা সব বোসন তো, ওরা ওই অল্প জায়গাতেই দিব্যি নিজেদের ব্যবস্থা করে নেবে।’ প্রসঙ্গত বোসন কণা হল একাধিক কণা যাদের আলাদাভাবে চেনা অসম্ভব এবং যাদের মধ্যে কোন মিথস্ক্রিয়া (Interaction) নেই।

ছোটবেলা থেকেই গানবাজনার প্রতি এক অদ্ভুত টান ছিল সত্যেন্দ্রনাথের। বাবা সুরেন্দ্রনাথ বসু ছিলেন বেশ গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ। এসব গান-বাজনা মোটেও পছন্দ ছিল না তাঁর। তবে তিনি ছেলের শখ-আহ্লাদে বিশেষ হস্তক্ষেপ করতেন না। নিখাদ বাঙালি পরিবারের বড় ছেলে সত্যেন স্কুল পেরিয়ে কলেজে ঢুকে আরও বেশি করে জড়িয়ে ধরলেন বন্ধুদের, আড্ডা-আসরে জড়িয়ে ধরলেন গানকেও। পদার্থবিদ্যা আর গণিতচর্চার পাশাপাশি শিখলেন এসরাজ বাজানো, শিখলেন বেহালাও। ছাত্রাবস্থায় হেদুয়ার ধারে বন্ধুদের আড্ডার মূল আকর্ষণ ছিলেন হরিৎকৃষ্ণ দেব। কলেজের দিনগুলোয় সত্যেন আর হরিৎ ছিলেন যেন হরিহর আত্মা। যদিও দু-জনের কলেজ আলাদা, সত্যেন্দ্রনাথের প্রেসিডেন্সি, আর হরিৎকৃষ্ণের স্কটিশ চার্চ। অংকের সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে গাঢ় হল বন্ধুত্ব, আর তাতে অনুঘটকের ভূমিকায় জুড়ে গেল গান। সন্ধের আড্ডায় সেসময় বন্ধু সত্যেনের অনুরোধে একের পর এক রবীন্দ্রসঙ্গীত গেয়ে শোনাতেন হরিৎকৃষ্ণ। কম যেতেন না সত্যেন্দ্রনাথ নিজেও। (Satyendranath Bose)

Image - অঙ্কের পরীক্ষায় ১০০ তে ১১০, বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানীর আড়ালে কে এই আত্মভোলা বন্ধুপাগল মানুষ
এসরাজ হাতে সত্যেন্দ্রনাথ

পরবর্তীকালে অধ্যাপনা, গবেষণা আর হাজার ব্যস্ততার মধ্যেও গানের প্রতি অনুরাগ একটুও কমেনি সত্যেন্দ্রনাথের। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা করার সময় এক মজার ঘটনা ঘটেছিল। ক্লাসের মাঝে সত্যেন্দ্রনাথ বসু একদিন হঠাৎ জানতে পারলেন তাঁর এক ছাত্র খুব ভালো সেতার বাজায়। ছাত্রটিকে ডেকে তিনি বললেন, ‘তোমার বাজনা শোনাও।’ উত্তরে ছাত্রটি বলল, ‘স্যার আমি তো যন্ত্রটা সঙ্গে আনিনি, না হয় পরে একদিন আপনার বাড়ি গিয়ে শুনিয়ে আসব।’ কিন্তু সেসব কথায় কর্ণপাত করার মানুষই নন সত্যেন্দ্রনাথ। তিনি ছাত্রটিকে প্রায় বগলদাবা করে নিজের ঘরে বসিয়ে রাখলেন। তারপর লোক দিয়ে তার বাড়ি থেকে নিয়ে এলেন সেতারটা, সেই সঙ্গে ডেকে আনলেন একজন ভালো তবলা বাদককেও। এরপর, দু’জনকেই বসিয়ে দিলেন নিজের টেবিলে। সেতার না শুনে তিনি এক পা-ও নড়বেন না। সুরের গুঁতো বোধহয় একেই বলে।

বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে কী যে ভালোবাসতেন সত্যেন্দ্রনাথ। সত্যিকারের বন্ধুঅন্তপ্রাণ মানুষ ছিলেন। তাঁর বন্ধুবান্ধবের সংখ্যাটিও ছিল বিশাল। নিজের বিয়েতে অদ্ভুত একটা দাবি পেশ করেছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ। ১৯১৪ সালে যখন ঊষাবতী দেবীর সঙ্গে বিয়ে হয়, সেই সময় তিনি ঊষাবতী দেবীর বাবা যোগীন্দ্রনাথ ঘোষকে বলেছিলেন, বিয়েতে তিনি কোনওভাবেই টাকা-পয়সা পণ হিসাবে নিতে পারবেন না। তবে তাঁর একশোজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে যাবেন বরযাত্রী হিসাবে। বন্ধুদের খাতিরে যেন কোনও ত্রুটি না থাকে।

গোড়াতেই বলেছি মাতৃভাষায় বিজ্ঞান চর্চার ব্যাপারে অসম্ভব উদযোগী ছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ। শুধু বিজ্ঞানচর্চাই নয়, বাংলা সাহিত্যের উপরেও অগাধ পড়াশুনা ছিল তাঁর। জ্ঞানার্জনের ঝোঁক তো ছিলই, তার সঙ্গে জুড়েছিল সাহিত্যানুরাগও। এ নিয়ে একটা গল্প বেশ প্রচলিত আছে। একবার অন্নদাশঙ্কর রায় গিয়েছিলেন সত্যেন্দ্রনাথের ঢাকার বাড়িতে। গিয়ে দেখেন মশারির ভেতরে শুয়ে শুয়ে ‘প্রোফেসর’ বই পড়ছেন। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে তাঁর পড়া বইগুলোর কোনোটিই কিন্তু বিজ্ঞানের বই নয়। আরেকদিন তাঁকে দেখেছিলেন খুব মনোযোগ দিয়ে একটা বই পড়ছেন সত্যেন্দ্রনাথ। অমন বাহ্যজ্ঞানশূন্য হয়ে বই মুখে ঘুরতে দেখে আপাতভাবে মনে হতেই পারে সায়েন্সের কোনও থিওরি নোট পড়ছেন বিজ্ঞানী। কিন্তু মজার কথা, সেই বইটা ছিল প্রাকৃত ভাষায় লেখা একটা ব্যাকরণের বই। পড়াশোনার ব্যাপারে কোনওদিনই বাছবিচার করতেন না বসু। নানারকম বই পড়ার পাশাপাশি নিয়মিত লেখালিখিও করতেন। তাঁর লেখালেখিতে যে একজন পুরোদস্তুর সাহিত্যিকের ছোঁয়া পাওয়া যায়, তার অনেকটাই এই পাঠাভ্যাসের ফল।

Image - অঙ্কের পরীক্ষায় ১০০ তে ১১০, বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানীর আড়ালে কে এই আত্মভোলা বন্ধুপাগল মানুষ

শিক্ষকজীবনে খুবই ছাত্রদরদী ছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ। যেকোনও প্রয়োজনে প্রায় বন্ধুর মতো ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে এসে দাঁড়াতেন তিনি। ছাত্র আর অতিথিদের জন্য সবসময় খোলা থাকত তাঁর ঘরের দরজা। মজার ছলেই একবার প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশের স্ত্রী নির্মলকুমারীকে তিনি বলেছিলেন “আমার ঘর তো শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়, যখন খুশি চলে আসা যায়।” শুধু ঘরে নয়, বিশ্ববন্দিত এই বিজ্ঞানীর হৃদয়েও অবাধ জায়গা ছিল প্রিয় ছাত্রছাত্রীদের।

এ প্রসঙ্গে একটা গল্পের কথা না বললেই নয়। ১৯২১ থেকে ১৯৪৫, প্রায় পঁচিশ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন সত্যেন্দ্রনাথ বসু। সেসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন অভিনেতা ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়। পদার্থবিদ্যার ক্লাসঘর থেকে কলেজ সোশ্যাল অনুষ্ঠান সবেতেই অধ্যাপক সত্যেন বসুর সঙ্গে হৃদতা গড়ে ওঠে ভানুর। ঢাকায় একবার সরস্বতী পুজোতে পঙ্গু ভিখারিকে খেতে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক গণ্ডগোলে জড়িয়ে পড়েন ভানু বন্দোপাধ্যায়। ছাত্র ভানুর বিপদে সেসময় তাঁর পাশে অভিভাবকের মতো এসে দাঁড়িয়েছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ স্বয়ং। ছাত্র-শিক্ষকের এই সম্পর্কে টান পড়েনি কখনও। অভিনয়-জীবনে খ্যাতির মধ্যগগনে তখন ভানু। ঢাকার পাট চুকিয়ে কলকাতায় পাকাপাকিভাবে ফিরেছেন সত্যেন্দ্রনাথও। এসময় স্যারের কলকাতার বাড়িতে প্রায়ই ডাক পড়ত ভানু বন্দোপাধ্যায়ের। বসু মাঝেমধ্যেই মজার ছলে ছাত্রকে ডেকে বলতেন, ‘মাথাটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছে, একটু রস ঢেলে দিয়ে যা তো বাবা’।

গুরু শিষ্য সম্পর্ক

একেবারে আত্মভোলা স্বভাবের মানুষ ছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ। পোশাক পরিচ্ছদের ব্যাপারেও ছিলেন মাত্রাতিরিক্ত উদাসীন। প্রায়শই পরনের ফতুয়া ভুল করে গায়ে না জড়িয়ে কাঁধে চাপিয়ে রাখতেন। জুতোর ব্যাপারেও অন্যমনস্ক ছিলেন, প্রায় সময়ই দু’পায়ে দু’রকম জুতো গলিয়ে সব জায়গায় ঘুরে চলে আসতেন। অথচ এই খেয়ালি মানুষটি যখন অঙ্ক কষতে বসতেন তখন আর সময়জ্ঞানের হিসেবে থাকত না তাঁর। এই অংক কষা নিয়েও একটা মজার ঘটনা রয়েছে। তখনও দেশভাগ হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াচ্ছেন সত্যেন্দ্রনাথ। একদিন বাবার সঙ্গে সিনেমা দেখতে যাওয়ার বায়না ধরল বসুর মেয়ে। বসু তখন গণিতের একটা জটিল সমস্যা সমাধানে চিন্তামগ্ন। মেয়ের জোরাজুরিতে শেষ পর্যন্ত রাজি হলেন বাবা। মেয়েকে নিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে গেলেন সিনেমা হলে। গাড়ি থেকে নেমে গাড়োয়ানকে টাকা দিতে গিয়ে দেখেন মানিব্যাগ বাসায় ফেলে এসেছেন। চিন্তিত মুখে মেয়েকে সিনেমা হলের সামনে অপেক্ষা করতে বলে একই ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে বাসায় ফিরে এলেন। টেবিলের ওপর থেকে মানিব্যাগটা তুলতে গিয়ে হঠাৎ তাঁর চোখ পড়ল কিছুক্ষণ আগে শেষ করতে না পারা বৈজ্ঞানিক সমস্যাটির ওপর। খাতার উপর ঝুঁকে পড়ে নিমেষেই বিস্মৃত হলেন সিনেমা দেখার কথা। মেয়েকে যে সিনেমা হলের সামনে একা ফেলে এসেছেন সেকথাও বেমালুম ভুলে গেলেন। অঙ্কের খাতাতেই আবার ডুব দিলেন আত্মহারা হয়ে।

এদিকে গাড়োয়ান বেচারা তো পড়েছে মহা বিপদে। সত্যেন্দ্রনাথ সেই যে ঘরে ঢুকেছেন, বেরোনোর নাম নেই। মানিব্যাগ খুঁজতে একজন মানুষের কত সময় লাগে রে বাবা! এত বড় বিজ্ঞানীর বাড়িতে হাঁকডাক করারও জো নেই। কাউকে যে সে বলবে তাকে গাড়িভাড়া দিয়ে বিদায় করতে, তেমন কোনও মানুষের দেখাও মিলছে না। এমন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে প্রায় ঘণ্টা দুয়েক অপেক্ষা করার পরে সাহস সঞ্চয় করে গাড়োয়ান নিজেই সটান ঢুকে পড়ে বসুর ঘরে। সত্যেন বসু তখনও চেয়ারে বসে অংক কষে চলেছেন। গাড়োয়ানের হাঁকডাকে ভারী বিরক্ত হয়ে তাকেই বকা লাগাতে যান আর কি! শেষমেশ অবশ্য সম্বিৎ ফেরে বিজ্ঞানীর। সিনেমায় যাওয়ার কথা আর মেয়েকে পথে একা দাঁড় করিয়ে রাখার কথা মনে পড়তেই উঠে বসেন তাড়াতাড়ি। তারপর সেদিন অপেক্ষারত মেয়ের কাছে ভুলোমনা বাবা কতখানি বকা খেয়েছিল সেটা অবশ্য জানা যায়নি।

You might also like