Latest News

উপন্যাস – অগ্নিঋষি

বই-কথা

১৯০৬ সালে হল কংগ্রেসের সুরাট অধিবেশন। সেই অধিবেশনেই চরমে উঠল নরমপন্থী বনাম চরমপন্থীদের মতানৈক্য। অরবিন্দ ঘোষের নেতৃত্বে চরমপন্থীরা ডাক দিলে পূর্ণ স্বরাজের।

বরোদার মহারাজার চাকরি ছেড়ে দিলেন অরবিন্দ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হলেন তিনি। একই সঙ্গে সম্পাদনা করছেন ‘বন্দেমাতরম্‌’ পত্রিকা ইংরেজি ভাষার সংস্করণের।  গুপ্ত সমিতি গঠনের জন্য তিনি বারবার ছুটে যাচ্ছেন মেদিনীপুর। সেইখানেই তাঁর কাছে অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষা দিলেন হেমচন্দ্রদাস কানুনগো। অরবিন্দর পরামর্শে বিদেশে গিয়ে বোমা বানানো শিখে এলেন তিনি। দেশে ফিরে তিনি উদ্ভাবন করলেন বইবোমার।

বারিন ঘোষদের অপরিণামদর্শিতায় এবং অরবিন্দ ঘোষের খানিকাটা দিশাহীন নেতৃত্বে কোনরকম বিপ্লব সংঘটিত হওয়ার আগেই শুরু হল আলিপুর বোমার মামলা । একের পর এক গ্রেপ্তার হলেন অরবিন্দ, বারিন, হেমচন্দ্ররা।

চিত্তরঞ্জন দাশের যুক্তিপূর্ণ ও আবেগদীপ্ত সওয়ালে অবশেষে মুক্ত হলেন অরবিন্দ। কিন্তু দ্বীপান্তরে যেতে হল বারিন, হেমচন্দ্র, উপেন্দ্রনাথদের। দ্বীপান্তরের মধ্যেই তাঁরা খবর পেলেন সাহিত্যে নোবেল পেয়েছেন ঠাকুরবাড়ির রবি।

এই দীর্ঘ কারাবাসের দিনগুলিতেই আবার এক অন্যরকমের ডাকের ইঙ্গিত পেলেন অরবিন্দ। এই বস্তুজগতের বাইরে এক অন্তর্জগতের আধ্যাত্মিকতার।

তিনি চন্দননগর থেকে নৌকোয় ভগিনী নিবেদিতার সাহায্যে নিরুদ্দেশে গেলেন। হয়তো ফরাসি অধিকৃত পণ্ডিচেরির দিকে যাত্রা করলেন । তবুও প্রজ্জ্বলিত রইল বিপ্লবের হোমাগ্নি।

সেই অগ্নিশিখার ধারক অরবিন্দ ও তাঁর নেতৃত্বে স্বাধীনতার জন্য সর্বাত্মক আন্দোলনের চরমপন্থী বিপ্লবীর দল এক অন্য অভিমুখ দেখাল। অগ্নিঋষির পদচিহ্ন ধরেই উত্তাল হল বাংলা এবং ভারতবর্ষ।

এই আশ্চর্য অগ্নিময় কাল নিয়েই অভিজিৎ চৌধুরীর উপন্যাস অগ্নিঋষি।

অগ্নিঋষি
অভিজিৎ চৌধুরী
পুনশ্চ
১৫০/-
কলকাতা বইমেলা স্টল নম্বর – ৪৭৫

You might also like