Latest News

বন্ধু সেজে চক্রান্ত, ব্রিটিশদের হিসেব উলটে দিয়েছিলেন এই ভারতীয় বীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৮৫৭ সাল। চর্বি মেশানো টোটো দিয়ে জাতিনাশের চেষ্টার অভিযোগ উঠল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উদ্দেশ্যে। রাগ অবশ্য জমছিল আগে থেকেই। লর্ড ওয়েলেসলির ‘অধীনতামূলক মিত্রতা’ আর লর্ড ডালহৌসির ‘স্বত্ববিলোপ নীতি’র আড়ালে কোম্পানি একের পর এক দেশিয় রাজার ডানা ছাঁটা শুরু করেছে তার কয়েক বছর আগে থেকেই। পাশাপাশি রয়েছে নীলকর সাহেবদের অত্যাচার। কালা আদমি, নেটিভ, বর্বর- সাহেবদের চোখে এই ছিল ভারতীয়দের পরিচয়। ফলে যা হবার তাই হল। ফুঁসে উঠল আসমুদ্রহিমাচল। ঠিক এমন সময় বিদ্রোহী সেনাদের দমন করতে ব্রিটিশদের সঙ্গে হাত মেলালেন এক দেশিয় পেশোয়া। তাঁর আসল উদ্দেশ্য বুঝতে পারেননি কোম্পানির দুঁদে অফিসারেরাও। বন্ধুতার আড়ালে বিদ্রোহের আগুনে ঘি ঢেলেছিলেন সেই অসীমসাহসী বীর ভারতীয়। ইতিহাস তাঁকে চেনে নানাসাহেব নামে। (Nanasaheb)

Image - বন্ধু সেজে চক্রান্ত, ব্রিটিশদের হিসেব উলটে দিয়েছিলেন এই ভারতীয় বীর

‘নানা সাহেব’ জন্মেছিলেন ১৮২৪ সালে মহারাষ্ট্রের ভেনুতে এক ব্রাহ্মণ পরিবারে। বাবার নাম নারায়ণ ভাট আর মা গঙ্গা বাই। পরবর্তীকালে নিজের সন্তান না থাকায় নানাসাহেব আর তাঁর ভাইকে দত্তক নেন মারাঠা পেশোয়া প্রথম বাজী রাও। পিতৃদত্ত নাম বদলে তাঁর নাম রাখা হয় বালাজী বাজী রাও।

কানপুরের কর সংগ্রাহক তখন চার্লস হিল্লারসডন। তাঁর বেশ কাছের মানুষ ছিলেন নানাসাহেব। কথা ছিল, সিপাহি বিদ্রোহ দমন করতে নানা তাঁর ১৫০০ সৈন্য নিয়ে যোগ দিবে ব্রিটিশ শিবিরে।

কিন্তু বাস্তবে নানাসাহেবের পরিকল্পনা ছিল একেবারে আলাদা। গোপনে শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহের হয়ে স্বাধীনতার লড়াই শুরু করেন তিনি। পরিকল্পনা মতো আগে ব্রিটিশদের বিশ্বাস জেতেন, তারপর কানপুর শহরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গোলাবারুদের ভাণ্ডার দখল করতে সৈন্যবাহিনী নিয়ে এগিয়ে যান নানাসাহেব। (Nanasaheb)

সিপাহি বিদ্রোহ

১৮৫৭ সালের ১০ জুন নানাসাহেবের নেতৃত্বে ১৫ হাজার সশস্ত্র সৈন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে কোম্পানির সেনাদের উপর। একটানা ১৩ দিন যুদ্ধ চলে।
জেনারেল হুইলারের ছেলে গর্ডন হুইলারের শিরোচ্ছেদের পর ব্রিটিশ বাহিনীর মনোবল তলানিতে ঠেকে। বাধ্য হয়ে এলাহাবাদের দিকে পিছু হটে কোম্পানির সৈন্য।

বালাজী বাজী রাও-এর স্বাধীনতা মন্ত্রে সেসময় উদ্বুদ্ধ হয়েছিল হাজারে হাজারে দেশিয় সেনা। ব্রিটিশ কোনওদিনই কারারুদ্ধ করতে পারেনি তাঁকে। তবে নানাসাহেবের শেষজীবন আজও রহস্যে ঢাকা। কেউ বলে সিপাহি বিদ্রোহ নিষ্ফল হওয়ার পর ম্যালেরিয়ায় ভুগে মারা যান নানাসাহেব। কেউ বলেন কোম্পানির অত্যাচার থেকে বাঁচতে নেপালে চলে যান তিনি, সেখানেই মৃত্যু ঘটে। আবার কারও মতে একশ বছর বেঁচেছিলেন নানাসাহেব।

You might also like