Latest News

Mona Lisa: ছবির আড়ালে গোপন কোড, ছায়ায় ঢাকা মুখ, কোন রহস্য লুকিয়ে আছে ক্যানভাসে?

দ্য ওয়াল ম্যাগাজিন ব্যুরো: মোনা লিসা। লিওনার্দো দা ভিঞ্চির সেই অনবদ্য সৃষ্টি। শুধু পটে আঁকা ছবি নয়, এক অজানা রহস্যের হাতছানি সে। তার চোখের তির্যক চাহনি, চাপা হাসি আর রহস্যে ভরা মুখ একঝলক দেখার আশায় আজও পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন কোটি কোটি মানুষ। ফ্রান্সের ল্যুভ মিউজিয়ামে প্রতিদিন ভিড় জমে যায় শুধু মোনালিসার রহস্যময় হাসি দেখতে। মুগ্ধতার পাশাপাশি বিতর্ক আর রহস্যও সেই প্রথম দিন থেকেই মোনালিসার নিত্যসঙ্গী। সেই বিতর্ক মোনালিসার আবেদনকে বাড়িয়ে তুলেছে শতগুণে। ছবিটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে আপামর মানুষের চোখে। (Mona Lisa)

Image - Mona Lisa: ছবির আড়ালে গোপন কোড, ছায়ায় ঢাকা মুখ, কোন রহস্য লুকিয়ে আছে ক্যানভাসে?

কেমন সে রহস্য? শুনলে অবাক হবেন, মোনালিসার ওই বিখ্যাত ছবির ক্যানভাস জুড়ে আছে অজস্র গোপন কোড। যেন ছবি নয়, ‘মোনালিসা আসলে এক ভয়ংকর ধাঁধাঁর গোপন চাবিকাঠি। ঠিকঠাক রহস্যভেদ হলেই হয়তো খুলে যাবে অজানা এক জগতের দরজা। যেন ছবি আঁকার ছলে আগামী পৃথিবীর দিকে একের পর এক সংকেতের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ভিঞ্চি। সে এমনই চ্যালেঞ্জ যার গোলকধাঁধায় আজও হাবুডুবু খায় বিশ্বের তাবড় তাবড় শিল্পরসিক। (Mona Lisa)

প্রথমেই আসি দা ভিঞ্চির বার্তা প্রসঙ্গে। আলট্রা ভায়োলেট পদ্ধতি ব্যবহার করে মোনা লিসার ছবিটিকে স্ক্যান করার সময় ক্যানভাসের বাঁদিক থেকে ভিঞ্চির লেখা একটি বার্তা উদ্ধার করা হয়। সেখানে লেখা ছিল “লা রিস্পোসতা শি ট্রোভা কুই” (La Risposta Si Trova Qui), ইতালীয় ভাষায় লেখা এই বাক্যটির অর্থ -The answer is here- ‘উত্তর এখানেই আছে’। কিন্তু কীসের উত্তর? পাইন কাঠের টুকরোর উপর ১৬ শতকে আঁকা এই পেইন্টিং-এ সে কোন প্রশ্নের উত্তর জানানোর চেষ্টা করেছিলেন দা ভিঞ্চি? না কি এ নিছকই শিল্পীর এক রসিকতা! সে রহস্যের সমাধান হয়নি আজও।

লিওনার্দো দা ভিঞ্চি মানুষটা এমনিও বেশ গোলমেলে। প্রতিভাবান মানুষেরা যা হয় আর কী! ইতালীয় রেনেসাঁস পর্বের এই বিখ্যাত মানুষটি নিছকই চিত্রশিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন একাধারে একজন বিজ্ঞানী, স্থপতি, ইঞ্জিনিয়ার, আবিষ্কারক, তাত্ত্বিক এবং লেখক। রহস্য জিনিসটা যে তাঁর অত্যধিক পছন্দের ছিল, তার প্রমাণ মেলে ভিঞ্চির বিখ্যাত নোটবইটির পাতা ওল্টালেই। সে খাতায় লেখা প্রতিটি শব্দই তিনি লিখে গেছেন মিরর রাইটিং পদ্ধতিতে। অর্থাৎ সোজাসাপটা সে লেখা পড়ার যো নেই, একমাত্র আয়নার সামনে ধরলেই সেই নোটবই পড়া সম্ভব। এমন রহস্যপ্রিয় মানুষের চিত্রকর্মের মধ্যে কোনও না কোনও রহস্যের বার্তা যে লুকিয়ে থাকবে তাতে আর আশ্চর্য কী!

Image - Mona Lisa: ছবির আড়ালে গোপন কোড, ছায়ায় ঢাকা মুখ, কোন রহস্য লুকিয়ে আছে ক্যানভাসে?
লিওনার্দো দা ভিঞ্চি

ফিরে আসা যাক মোনালিসার রহস্যময় জগতে। নিঃসন্দেহে পৃথিবীর সবথেকে বিখ্যাত চিত্রকর্ম এটি। ১৫০৩ থেকে ১৫০৬ খ্রিস্টাব্দ ৪ বছর ধরে এই রহস্যময় ছবিটি এঁকেছিলেন দা ভিঞ্চি। ১৭৫৭ সালে এই পেইন্টিং ফ্রান্সের ল্যুভ মিউজিয়ামে পাওয়া যায়। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার, মোনা লিসা কীভাবে সেখানে এল সে ব্যাপারে কেউই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারে না। ইতালিয়ান ভাষায় “মোনা লিসা” কথাটির অর্থ হলো “মাই লেডি”। ছবিটির নাম মোনালিসা (Monalisa) নয়, এই বানান অশুদ্ধ, ভুল। ঠিকঠাক বানানে ছবিটির প্রকৃত নাম Mona Lisa, ইতালিয়ান ভাষায় যার অর্থ একটু আগে বলা হল।

প্রথম জীবনে চিত্রশিল্পী হিসাবে খ্যাতি পেলেও লিওনার্দো দা ভিঞ্চি ছিলেন একজন বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও গবেষক। কিন্তু মজার কথা তিনি তাঁর অন্যতম প্রিয় সৃষ্টি মোনালিসাকে নিয়ে কোথাও একটিও বাক্যব্যয় করেননি। তবে মোনালিসা ছিল দা ভিঞ্চির অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি এবং তিনি নিজে মুখেই সে কথা বলতেন। ছবিটা তাঁর এত পছন্দের ছিল, যে কোনওভাবেই এটিকে হাতছাড়া করতেন না। কোথাও গেলে ‘মোনা লিসা’-কেও সঙ্গে করে নিয়ে যেতেন।

কিন্তু কে এই মোনা লিসা? এ প্রশ্ন নিয়েও তাত্ত্বিকমহলে ধোঁয়াশা কম নয়। অনেকে মনে করেন এই মোনা লিসা আসলে লিওনার্দো দা ভিঞ্চির বন্ধু ফ্লোরেন্টাইনের বণিক ফ্রান্সিসকো দ্য গিওকন্ডোর স্ত্রী লিসা গেরাদিনির প্রতিকৃতি। স্ত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হবার আনন্দে ভিঞ্চির বন্ধু ভিঞ্চিকে ডেকে বউয়ের একটা ছবি এঁকে দিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু এ যুক্তি অনেকেরই মনঃপূত নয়। অনেক গবেষক মনে করেন এই পেইন্টিং আসলে লিওনার্দোর নিজেরই প্রতিকৃতি, অর্থাৎ এই ছবিতে তিনি নিজেকে এক নারী রূপে কল্পনা করেছেন। ভিঞ্চি ও মোনালিসার ছবি পাশাপাশি রেখে তাঁরা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন স্রষ্টা আর সৃষ্টির অবয়বের আশ্চর্য মিল। দুজনেরই চোখ, ঠোঁট, মুখ, চোয়ালের গঠন অনেকটা একই রকম। কম্পিউটার গ্রাফিক্সের মাধ্যমে মোনা লিসা-র মুখে দাঁড়ি ও ভ্রু লাগালে যে ছবি পাওয়া যায় তা বহুলাংশেই মিলে যায় দা ভিঞ্চির চেহারার সঙ্গে। আবার কারও কারও মতে মোনা লিসা আসলে মাদার মেরির কল্পিত পেইন্টিং। কেউ কেউ এটাও বলেন যে লিওনার্দো দা ভিঞ্চি এই ছবিতে নিজের মাকে এঁকেছেন। শিল্পের পৃথিবীতে এ যেন এক চিরন্তন তর্ক। আসলে মোনা লিসা কে? কবির কল্পনা, না বাস্তবে সে সত্যিই ছিল, আজ বোধহয় আর জানা সম্ভব নয়।

দা ভিঞ্চির প্রতিকৃতির উপর মোনালিসার ছবি বসালে ঠিক এভাবেই হুবহু মিলে যায় চোখ, নাক, থুতনির গঠন

ভালো করে ছবিটা লক্ষ করলে দেখা যাবে মোনালিসার কপালে ভ্রু নেই, চোখের পাতাও নেই। এত নিখুঁত করে পুরো ছবিটা আঁকা হল চার বছর ধরে, অথচ দ্য ভিঞ্চি মোনালিসার ভ্রু আর চোখের পাতাই আঁকলেন না? কেন? এ প্রশ্নের উত্তর নিয়েও জলঘোলা কম হয়নি। তবে ২০০৪ সালে বিজ্ঞানী প্যাসকেল স্কটে মোনালিসার পেইন্টিংকে স্পেক্টার লাইটিং প্রযুক্তি, হাই ইনটেনসিটি লাইট এবং হাই ইনটেনসিটি ক্যামেরার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করেন এবং এই ছবির শরীরে বিভিন্ন লেয়ার আবিষ্কার করেন। এরপর সেটিকে প্রায় ২৪ গুণ ম্যাগনিফাই করে যা দেখেন, তাতে প্রমাণ হয় মোনা লিসার কপালে একসময় ভ্রু ছিল, কিন্তু একাধিকবার পরিচর্যার জন্য নানা রাসায়নিকের ব্যবহারে তা মুছে যায়। তিনি আরও জানতে পারেন, এই ছবি আঁকতে যে রঙের ব্যবহার করা হয়েছিল তার ঘনত্ব মাত্র ৪০ মাইক্রোমিটার অর্থাৎ একটি চুলের থেকেও সূক্ষ্ম সে রং। এই উপাদানের মধ্যে কয়লাও ছিল। আশ্চর্যের ব্যাপার, এত পাতলা রঙের ব্যবহার করার পরেও পাঁচশো বছর ধরে এ ছবি কীভাবে টিকে আছে তা জানা নেই। এমনকি আজকের গবেষকেরা এমন দাবিও করেন মূল মোনা লিসা ছবির নীচে আরও তিনটি ছবির খসড়া লুকিয়ে আছে। কেন অন্য ছবির খসড়ার উপর মোনালিসা আঁকলেন দ্য ভিঞ্চি? রহস্য এখানেও।

Image - Mona Lisa: ছবির আড়ালে গোপন কোড, ছায়ায় ঢাকা মুখ, কোন রহস্য লুকিয়ে আছে ক্যানভাসে?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মান নাজিদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য ‘মোনা লিসা’কে ৬ বার তার জায়গা থেকে সরানো হয়। ১৫১৯ সালে দা ভিঞ্চির মৃত্যুর পর থেকেই ছবিটা ফ্রান্সের রাজাদের ব্যক্তিগত সংগ্রহের অংশ হয়ে গেছিল। শোনা যায় এই ছবি সম্রাট নেপোলিয়নের এতটাই পছন্দ ছিল যে তিনি এটিকে নিজের শয়নকক্ষের দেওয়ালে বিশেষ যত্নে সাজিয়ে রেখেছিলেন। শুধু নেপোলিয়ন নন, যুগ যুগ ধরে মোনালিসা তার হাসি দিয়ে উন্মাদ করে গেছে অনেককেই। ২৩ শে জুন ১৮৫২ সালে লুই মাসফেরো নামে এক ফরাসি তরুণ শিল্পী প্যারিসে এক বাড়ির ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। মৃত্যুর আগে নিজের সুইসাইড নোটে তিনি লিখে রেখে গেছিলেন এক আশ্চর্য কথা। লিখেছিলেন, তাঁর মৃত্যুর জন্য দায়ি মোনা লিসার হাসি।

হ্যাঁ, এ কথা সত্যি, মোনা লিসার হাসি বড় রহস্যমেদুর। কেউ বলেন তা বিষাদের হাসি, কেউ বলেন আনন্দের। আবার আপনি যদি সরাসরি মোনালিসার ঠোঁটের দিকে তাকান, তাহলে কিন্তু মনে হবে না সে ঠোঁটে হাসির চিহ্নমাত্র আছে। কিন্তু যদি ফোকাস তার ঠোঁট থেকে সরিয়ে সামগ্রিক মুখে, বা মুখের অন্য যে কোনো অংশে করা হয় তাহলে মনে হবে তার ঠোঁট হাসছে। আশ্চর্য না!

Image - Mona Lisa: ছবির আড়ালে গোপন কোড, ছায়ায় ঢাকা মুখ, কোন রহস্য লুকিয়ে আছে ক্যানভাসে?
আলাদা করে দেখলে দৃষ্টি কাড়বে চোখে ঠোঁটের আপাত বিষাদ

২০০০ সালে বিজ্ঞানী ডক্টর মার্গারেট এ বিষয়ে একটি জার্নাল লেখেন। তাঁর মতে মোনালিসার হাসি বদলায় না, বদলায় আসলে মানুষের মাইন্ডসেট। অর্থাৎ আপনি তাকে যেভাবে দেখতে চান ঠিক সেভাবেই আপনার কাছে ধরা দেয় মোনা লিসা। তাহলে দা ভিঞ্চির কাছে কীভাবে ধরা দিয়েছিল সে? কোন ইশারায় এমন রহস্যময় হাসি ফুটিয়ে তুললেন শিল্পী? জানলে অবাক হবেন, মোনা লিসাকে গড়ে তোলার বছরগুলোতে দা ভিঞ্চি রাত কাটাতেন তার স্টুডিওর কাছে এক হাসপাতালে। যেখানে তিনি মানুষের ত্বক, পেশী ও স্নায়ু নিয়ে গবেষণা করতেন। এর প্রভাব পড়েছে মোনালিসার হাসির ওপর। হাসির সময় পেশীর নিয়ন্ত্রণ, নড়াচড়ার সূক্ষ্ম রসায়ন এই ছবির অবয়বে ফুটে উঠেছে বলে গবেষকরা মনে করেন।

নেহাত ছবি তো নয়, মোনা লিসা এক রহস্যের খনি। কিন্তু তার আগে সংক্ষেপে জেনে নেয়া যাক কীভাবে বিশ্ব জুড়ে এত বিখ্যাত হল মোনালিসা? ছবি হিসাবে নিঃসন্দেহে এটি প্রথম শ্রেণীর চিত্রকলা, কিন্তু সাধারণ মানুষ শিল্পের আর কতটুকু বোঝে! সেখানে মোনা লিসার এই জনপ্রিয়তা বেশ অবাক করা বৈ কি! আসলে এই ছবি তার জন্মলগ্ন থেকেই শিল্পরসিকদের লোভের জিনিস। বিশেষত ল্যুভ মিউজিয়াম থেকে চুরি যাওয়ার পর বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এই ছবির নাম। ভিনসেঞ্জো পেরুগিয়া নামে এক কর্মচারী প্রায় প্রাণের ঝুঁকি নিইয়ে মিউজিয়াম থেকে মোনা লিসা-কে চুরি করে কোর্টের নীচে লুকিয়ে তাকে নিয়ে ইতালিতে পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। পেরুগিয়ার মতে, দ্য ভিঞ্চি যেহেতু ইতালিয় নাগরিক তাই বিখ্যাত এই পেইন্টিংও আদতে ইতালির সম্পত্তি। জাতীয় সম্পত্তি চুরি করার অপরাধে ফ্রান্সের সরকার তাঁকে এক বছরের সাজা দিলেও ইতালিতে দেশপ্রেমিক বীরের খ্যাতি পান তিনি। মজার ব্যাপার হল এই বিখ্যাত ছবি চুরির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরেক বিখ্যাত আর্টিস্ট পাবলো পিকাসোর নামও। মোনা লিসা চুরির ব্যাপারে পিকাসোকেও দায়ি করেন অনেকে। এই চুরির পরে পরেই হু হু করে বেড়ে যায় মোনা লিসার জনপ্রিয়তা, আকাশচুম্বী হয় তার দামও। শিল্পের বাজারে মোনা লিসার এই ছবিটির মূল্য নির্ধারণ করা হয় প্রায় ৮৩০ মিলিয়ন ডলার যা আজকের দিনে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার সমান।

ভিনসেঞ্জো পেরুগিয়া- চোর, না দেশপ্রেমিক?

আসুন এবার চোখ রাখি মূল রহস্যে। ২০১০ সালে ইতালির জাতীয় সাংস্কৃতিক সংঘ মোনালিসা পেইন্টিং-এর চুলচেরা বিশ্লেষণ করে। গবেষণায় উঠে আসে আরেক চমকপ্রদ তথ্য। তাঁরা এই ছবিতে মোনা লিসার অবয়বে দা ভিঞ্চির লেখা একটি কোড খুঁজে পান। হাইটেক ম্যাগনিফাইং গ্লাসের সাহায্যে তাঁরা দেখতে পান মোনালিসার ডান চোখে লেখা রয়েছে LV এবং বাম চোখে রয়েছে CE এবং লেটার B। এ ছবির ডানদিকে 72 বা L2 লেখাটি রয়েছে একটি ব্রিজের ওপর। LV শব্দটির মানে হতে পারে লিওনার্দো দা ভিঞ্চি। কিন্তু বাকি লেখাগুলোর অর্থ আজও অজানা। লেখার শুরুতে বলেছিলাম, ক্যানভাসের উপরেও ইতালিয়ান সাংকেতিক ভাষায় লেখা রয়েছে “উত্তরটা এখানেই”। মোনা লিসার চোখের মণিতে গাঁথা সংকেতই কি সেই উত্তর!

Image - Mona Lisa: ছবির আড়ালে গোপন কোড, ছায়ায় ঢাকা মুখ, কোন রহস্য লুকিয়ে আছে ক্যানভাসে?

এ কথা অনস্বীকার্য, নিজের যাবতীয় কাজকর্ম, এমনকি ছবি আঁকার ভেতর দিয়েও ভয়ংকর কিছু সিক্রেট রেখে গেছেন লিওনার্দো দা ভিঞ্চি। হয়তো তিনি চেয়েছিলেন পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এই ছবির মাধ্যমেই অজানা বা দুরূহ কোনও বার্তা তুলে ধরতে। তার পেইন্টিংগুলো যেন অন্য কোনো বিশ্বের প্রতিচ্ছবি। তিনি কী বলতে চেয়েছিলেন, সেসব কথা আজকের এই ইন্টারনেট প্রজন্মের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য তা অন্য প্রসঙ্গ। তবে এ কথা ঠিক, নিজের সমকালের মানুষদের কথা ভেবে এসব সংকেত লিখে যাননি তিনি। যুগের থেকে অনেকখানি এগিয়ে থাকা একজন মানুষ লিওনার্দো, তাঁর যাবতীয় বার্তাও সময়ের গণ্ডি ভেঙে তিনি পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেই। হয়তো তাঁর অপেক্ষা ছিল উপযুক্ত উত্তরাধিকারীর, দেশ কাল সময়ের সীমা ভেঙে যে ছুঁতে পারবে এই হেঁয়ালির আড়ালের সত্যকে।

সাম্প্রতিক সময়ে প্যারানর্মাল ক্রকেবেল নামে একটি ওয়েবসাইট দাবি করে মোনালিসা পেইন্টিং-এর ভেতরে লুকিয়ে আছে এক এলিয়েন। এ কথা কতটুকু সত্য সেটা যাচাই করার আগে বলি, আয়নার সাথে নাইন্টি ডিগ্রী অ্যাঙ্গেলে যদি মোনালিসার প্রিন্টিং করা হয়, তাহলে বাস্তব ছবি আর আয়নায় প্রতিফলিত ছবি, এই দুইয়ের মাঝে মাঝে একটা আশ্চর্য ইমেজ তৈরি করে যার আকৃতি অনেকটা মহাবিশ্বের অজানা প্রাণী বা এলিয়েনের মত। তার থেকেও আশ্চর্যের ব্যাপার হল এই আকৃতিটা ঠিক সেই জায়গায় তৈরি হয় যেখানে দা ভিঞ্চি লিখে রেখে গেছেন “লা রিস্পোসতা শি ট্রোভা কুই”। এমনকি অনুসন্ধানকারীরা ভিঞ্চির আঁকা আরেকটি বিখ্যাত ছবি ‘জন দ্য ব্যাপ্টিস্ট’-এর মধ্যেও প্রায় একইরকম ইমেজ খুঁজে পেয়েছেন। এই ছবিটিকেও আয়নার মাধ্যমে ডাবল ইমেজে পরিণত করা হলে তার ভেতরেও একটা আকৃতি দেখতে পাওয়া যায়, যেটা মোনালিসায় পাওয়া এলিয়েনের আকৃতির দোসর। জন দ্যা ব্যাপ্টিস্ট ও মোনালিসা এই দুটি ছবি বা চরিত্রের মাধ্যমে তাহলে কি কোনও বিশেষ বার্তা দিতে চেষ্টা করেছেন লিওনার্দো দা ভিঞ্চি? মহাজগতের কোনও অজানা রহস্যের সন্ধান কি পেয়েছিলেন তিনি? তাঁর সমকালীন গবেষণায়, চিঠিপত্রেও এমন কিছু কিছু সংকেত উদ্ধার করা গেছে। আর তাতেই আরও জমাট বেধেছে সন্দেহ।

জন দ্য ব্যাপ্টিস্ট

প্রাচীন কোনও নক্ষত্র থেকে কি তবে এসেছিল কোনও গুপ্ত সংকেত! অন্য গ্রহের কোনও প্রাণীর উপস্থিতি কি তবে টের পেয়েছিলেন জ্যোতির্বিদ গবেষক দা ভিঞ্চি! আর তাই সংকেতময় এক উপায়ে নিজের শিল্পকর্মের ভেতরে লুকিয়ে রেখে গেছেন সেই অজানা বার্তা, যা মহাজাগতিক বিষয়ে বহু অজানা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিজের গবেষণালব্ধ তথ্য জানাতেই কি তবে এত আয়োজন? বিস্ময়কর হলেও, এমন কথা বিশ্বাস করেন বিশ্বের নানা প্রান্তের বেশ বড় সংখ্যক মানুষ। এই বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে নতুন করে শুরু হয়েছে তত্ত্বতালাশ। এমনকি গবেষণার জন্য নতুন করে লিওনার্দো দা ভিঞ্চির প্রাচীন কবর খুঁড়ে দেখার অনুমতিও চাওয়া হয়। ফ্রান্সের সরকার অবশ্য অনুমোদন দেননি সেই গবেষণার। উল্টে নাকচ করে দেওয়া হয়েছে সে প্রকল্প। কিন্তু উত্তর খোঁজা থেমে নেই।

মোনালিসার হাসির অন্তর্নিহিত ধাঁধা একদিন হয়ত সত্যিই আবিষ্কার হবে, জানা যাবে তার ছবির আড়ালে লুকিয়ে আছে কি না কোনও মহাজাগতিক রহস্য…। তাঁর জন্য দরকার আরও উন্নত প্রযুক্তির গবেষণা। তার আগে অবধি মোনালিসার রহস্যময় আবেদন আমাদের মুগ্ধ করুক। নিয়ে যাক আত্মতৃপ্তি কিংবা আত্মহননের পথ।

You might also like