Latest News

Makhunik: দেড় হাজার বছরের প্রাচীন গ্রামে লিলিপুটদের বসবাস, বাড়িগুলির উচ্চতা চার ফুট

রূপাঞ্জন গোস্বামী

Makhunik

ইরানের উত্তর পূর্বে আছে খোরাসান প্রদেশ। সেই প্রদেশের পূর্বে, দুর্গম পর্বতশ্রেণী দিয়ে ঘেরা অসমতল উপত্যকায় আত্মগোপন করে আছে এক বিস্ময়কর গ্রাম। দেড় হাজার বছরের পুরোনো এই গ্রাম তার ধূসর বুকে লুকিয়ে রেখেছে এক রহস্য। যে রহস্যের কিনারা করা আজও সম্ভব হয়নি।

গ্রামের নাম ‘মাখুনিক’ (Makhunik)

প্রায় দেড় হাজার বছরের প্রাচীন গ্রামটিকে ঘিরে আছে চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া। দিনেরবেলা কাঠফাটা গরম ও রাতে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা। খরাপ্রবণ এলাকাটি  শীতকালে চাপা পড়ে যায় ফুট পাঁচেক বরফের নীচে। গ্রীষ্মের শুরুতে বরফ গলে তৈরি হয় ছোট ছোট পুকুর। অস্বাভাবিক উষ্ণতার জন্য সে পুকুর শুকিয়ে যায় কয়েকমাসের মধ্যেই।

চরম আবহাওয়ার জন্য এলাকায় গাছপালা জীবজন্তুর সংখ্যা অস্বাভাবিক কম। কিন্তু জীবগোষ্ঠীর বসবাসের অযোগ্য এই এলাকাতেই  প্রায় দেড় হাজার বছর ধরে তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে একদল কঠোর পরিশ্রমী মানুষ। যাদের কথা মাত্র দু’শো বছর আগেও জানতে পারেনি সভ্যজগত।

আফগানিস্তানের সীমান্ত ঘেঁষা এলাকাটি দুর্গম ও বাসযোগ্য না হওয়ায় শত শত বছর ধরে ছিল লোকচক্ষুর আড়ালে। এলাকাটির ওপরে পড়েনি দেশি বিদেশি হানাদারদের চোখ। তাই এই ভয়ঙ্কর এলাকায় নির্বিঘ্নে দেড় হাজার বছর কাটিয়ে ফেলেছে এক খর্বকায় জনগোষ্ঠী। যাদের গড় উচ্চতা মাত্র একশো বছর আগেও  ছিল সাড়ে তিন ফুট।

গিরগিটির মত আত্মগোপন করে থাকে ‘মাখুনিক’ (Makhunik)

খোরাসান প্রদেশের রাজধানী বিরজান্দ থেকে মাত্র ১৩১ কিলোমিটার দূরে, আফগানিস্তান সীমান্তে আছে মাখুনিক (Makhunik) গ্রাম। মাত্র আধ কিলোমিটার দূর থেকেও যে গ্রামকে দেখা যায় না। কারণ গ্রামবাসীদের উচ্চতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে গ্রামের বাড়িগুলির উচ্চতাও অস্বাভাবিক কম। মাটিরঙা বাড়িগুলি তাই হারিয়ে যায় প্রকৃতির বুকে। ধূসর বিবর্ণ পরিবেশে, গিরগিটির মত আত্মগোপন করে থাকে আস্ত একটি গ্রাম।

আপনার সঙ্গে যাওয়া গাইড গ্রামটির দিকে আঙুল তুললেও, আপনার চোখে ধরা পড়বে না কোনও গ্রাম। বাইনোকুলারের ভিউ-ফাইন্ডারে চোখ রাখলে, নজরে আসবে অসমতল ভূপৃষ্ঠের অবতল অংশে থাকা শতাধিক উই ঢিবি। কাছে যাওয়ার পর আপনার চোখ কপালে উঠবে। কারণ সারিবদ্ধ উইঢিবিগুলির গায়ে বসানো আছে কাঠের ছোট্ট ছোট্ট দরজা। এতক্ষণে আপনি বুঝবেন, যেগুলিকে এতক্ষণ উইঢিপি বলে ভাবছিলেন, সেগুলি আসলে মাখুনিক গ্রামের বাসিন্দাদের বাড়ি। উচ্চতায় খুব বেশি হলে চার থেকে পাঁচ ফুট।

মাখুনিক গ্রাম

লিলিপুট মানুষদের লিলিপুট বাড়ি  (Makhunik)

আপনাদের গলার আওয়াজ পেয়ে, খুলে যেতে থাকবে একের পর এক দরজা। হাসি হাসি মুখে আপনার দিকে তাকিয়ে থাকবেন একদল খর্বকায় মানুষ। আমন্ত্রণ জানাবেন তাঁদের ঘরে। প্রায় হামাগুড়ি দিয়ে দশ ফুট বাই দশ ফুটের ঘরে ঢোকার পর, আপনি বুঝতে পারবেন ঘরটি বানানো হয়েছে একটি গর্তের ওপরে। তাই ঘরের মেঝে রাস্তা থেকে অনেকটা নিচুতে।

আসবে ঘরের ভেতরে যাওয়ার আমন্ত্রণ

ঘরের ভেতরে ঢোকার পর আপনি আর দাঁড়াতে পারবেন না। আপনাকে বসেই থাকতে হবে। কারণ আপনি দাঁড়ালে, ঘরের ছাদ চাপা দেওয়া শুকনো পাতা ফুঁড়ে বেরিয়ে যাবে আপনার মাথা। এতটাই নিচু বাড়িগুলির ছাদ। কিন্তু আপনার চোখের সামনেই বাড়ির লোকজন ঘরের মধ্যে দিব্যি হেঁটে চলে বেড়াবেন এবং আপনি অবাক চোখে খর্বকায় মানুষদের খর্বকায় বাড়ির অন্দরমহল দেখতে থাকবেন।

উত্তরের ঝোড়ো হাওয়া থেকে বাঁচতে উইঢিবির মত বাড়িগুলির দক্ষিণ দিকে বসানো হয়েছে দরজা। বেশিরভাগ বাড়িতেই কোনও জানলা নেই। দরজা খোলা থাকলে তবেই ঘরে আলো প্রবেশ করে। না হলে ঘর ডুবে থাকে জমাট অন্ধকারে।

খর্বকায় বাড়ির ভেতরে আছে কাঠ দিয়ে তৈরি ছোট্ট গোলা ‘কান্ডিক’। সেখানে রাখা হয় বিভিন্ন খাদ্যশস্য। গোলার পাশেই আছে মাটি দিয়ে তৈরি ‘কারশাক’ নামের ছোট্ট উনুন। সেটির পাশেই পাতা আছে মোটা কম্বল। কম্বলের নীচে বিছানো আছে দূর থেকে বয়ে আনা শুকনো খেজুর পাতা। এই কম্বলের ওপরেই ঘুমোন বাড়ির লোকজন। ঘরের ভেতর থাকা সাংসারিক জিনিসপত্র মানুষগুলির মতই ক্ষুদ্রাকার। যা আপনাকে একই সঙ্গে বিস্মিত ও বিচলিত করবে।

আপনার মনে হবে মানুষগুলির উচ্চতা কম বলে বাড়িগুলির উচ্চতা কম। আপনার ভাবনা সঠিক, তবে আরও কিছু কারণ আছে। মাত্র সত্তর বছর আগে রাস্তার মাধ্যমে এই গ্রাম যুক্ত হয়েছিল সভ্যজগতের সঙ্গে। তার আগে নির্মাণ সামগ্রী বহুদূর থেকে মাথায় করে বয়ে আনতে হত। ছোট বাড়ি তৈরি করতে কম পরিমাণ সামগ্রী লাগে। তাই কায়িক পরিশ্রম কমানোর জন্যেও ছোটবাড়ি তৈরি করা শুরু হয়েছিল দেড় হাজার বছর আগে।

বাড়িগুলির নির্মাণশৈলিও আদিম। প্রস্তর যুগের পর শুরু হওয়া নিওলিথিক যুগের মানুষেরা এই ধরণের বাড়ি তৈরি করা শুরু করেছিল। কাদা ও ছোট ছোট পাথর দিয়ে তৈরি করত মোটা দেওয়াল। ছাদের অংশ ঢেকে দিত শুখনো পাতা দিয়ে। আজও সেই নিওলিথিক যুগের নির্মাণশৈলীতে বাড়ি তৈরি করে চলেছেন মাখুনিক গ্রামের খর্বকায় মানুষেরা। তবে ছোটবাড়ির সুবিধা যেমন আছে, তেমন আছে অসুবিধাও। উচ্চতা কম হওয়ার জন্য বাড়িগুলি দ্রুত গরম ও ঠান্ডা হয়ে যায়।

কী খান মাখুনিকের (Makhunik) মানুষেরা!

গ্রামের মানুষগুলি অস্বাভাবিক পরিশ্রমী। তাই শত শত বছর বিচ্ছিন্ন থেকেও টিকিয়ে রেখেছেন অস্তিত্ব। বরফ গলা জল ও রক্ত জল করা পরিশ্রম দিয়ে প্রায় বন্ধ্যা জমিতে তাঁরা ফলান গম, বার্লি, গাজর, বিট, টমেটো, শালগম, পেঁয়াজ ও এক বিশেষ ধরণের খেজুর জুজুবে।  দীর্ঘকাল ধরে এই জনগোষ্ঠীর মানুষেরা ছিলেন নিরামিশাষী। এলাকায় পশুপাখির অভাবই সম্ভবত এর কারণ। এই খর্বকায় জনগোষ্ঠীর প্রিয় খাবার হল কাশক-বেনেহ। এই নিরামিষ পদটি তৈরি হয় পাহাড়ের দুর্গম স্থানে জন্মানো এক প্রকার বাদাম দিয়ে।

কাশক-বেনেহ

বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে মাখুনিক পেয়েছিল শহরে পৌঁছবার প্রথম ও একমাত্র রাস্তা। বাইরের খাবারের স্বাদ পেয়েছিলেন মাখুনিক গ্রামের খর্বকায় মানুষেরা। তাঁদের খাদ্যভ্যাসে স্থান পেয়েছিল রুটি, ভাত ও মুরগির মাংস। সহস্রাব্দ প্রাচীন গ্রামটির মানুষ পেয়েছিলেন প্রথম আমিষের স্বাদ।

ইরানীয়দের সঙ্গে গ্রামবাসীদের এত পার্থক্য কেন!

রাস্তা তৈরি হওয়ার পর প্রথম শহর দেখেছিলেন মাখুনিকবাসীরা। শহরগুলির মানুষেরাও প্রথম চিনেছিলেন এই খর্বকায় জনগোষ্ঠীকে। যাদের আচার আচরণ, জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে ইরানের জনসাধারণের কোনও মিলই নেই। ইরানের বেশিরভাগ মানুষ চা খেতে ভীষণ ভালোবাসেন। কিন্তু মাখুনিক গ্রামের মানুষেরা আজ অবধি চা স্পর্শ করেন না। কেউ চা খেলে গ্রামবাসীরা তাঁকে বলেন মাতাল।

এরা কিন্তু কিশোর কিশোরী নয়। মাখুনিক গ্রামের সদ্য বিবাহিত দম্পতি

চা খাওয়া ও ধুমপান করা মাখুনিক গ্রামে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। টিভি দেখাকে পাপ মনে করেন গ্রামবাসীরা। তাঁরা বিশ্বাস করেন টেলিভিশন হল শয়তানের আবিষ্কার করা মগজ ধোলাইয়ের যন্ত্র। যা পাপ কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে মানুষকে। আর একটি বিষয়ে ইরানের মানুষদের সঙ্গে মাখুনিক গ্রামবাসীদের আছে বিস্ময়কর অমিল। ইরানের বেশিরভাগ মানুষ আধুনিক ফার্সি ও পশ্‌তু ভাষায় কথা বলেন। কিন্তু মাখুনিক গ্রামের খর্বকায় মানুষেরা কথা বলেন সুপ্রাচীন ইরানীয় ভাষা আবেস্তায়।

আরও পড়ুন: “সমাজের চোখে আমি নষ্ট নারী, ফাইন আর্টসের ছাত্রদের কাছে আমি আজও দেবী”

 মাখুনিকের (Makhunik)মমি

মাখুনিক গ্রামের খর্বকায় জনগোষ্ঠীর কথা ইরান জানলেও, বিশ্ববাসীর কানে পৌঁছয়নি দু’দশক আগেও। ২০০৫ সালে মাখুনিক গ্রামে খননকার্য চালিয়ে একদল প্রত্নতাত্ত্বিক খুঁজে পেয়েছিলেন আট ইঞ্চি দৈর্ঘের একটি মমি। সাড়া পড়ে গিয়েছিল আন্তর্জাতিক প্রত্নতাত্ত্বিক মহলে।

প্রত্নতাত্ত্বিকেরা অনুমান করেছিলেন ইরানের মাখুনিক (Makhunik) গ্রামেও মিশর বা লাতিন আমেরিকার মত মমি করার প্রথা ছিল। মমিকে কেন্দ্র করে উঠে বিশ্বের বিখ্যাত সংবাদমাধ্যমগুলির হেডলাইনে উঠে এসেছিল মধ্যপ্রাচ্যের পিগমিদের কথা। যারা বাস করে ইরানের মাখুনিক গ্রামে।

মাখুনিক গ্রামে পাওয়া গিয়েছিল এই মমিটি

মমিটিকে পরীক্ষা করে ইরানীয় প্রত্নতাত্ত্বিকেরা জানিয়েছিলেন, চারশো বছরের পুরোনো মমিটি আসলে সময়ের আগেই জন্ম গ্রহণ করা এক অপুষ্ট শিশুর। তবে ইরানীয় প্রত্নতাত্ত্বিকদের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হয়নি আন্তর্জাতিক প্রত্নত্তাত্ত্বিক মহল। বিদেশি  প্রত্নতাত্ত্বিকদের মনে হয়েছে, বহির্বিশ্বের কাছ থেকে কিছু লুকিয়ে রাখতে চাইছে ইরান। আর এতেই রহস্যের কুয়াশা  হয়েছে আরও ঘনীভূত।

কেন মেলেনি খর্বকায় জনগোষ্ঠীর পরিচয় !

মমিটি উদ্ধারের পর রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে গিয়েছিল মাখুনিক গ্রাম। গবেষণা শুরু হয়েছিল মাখুনিকের খর্বকায় মানুষদের নিয়ে। বেশ কিছুদিন গবেষণা চালিয়ে ইরানের কিছু ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতাত্ত্বিক এসেছিলেন এক অবিশ্বাস্য সিদ্ধান্তে। তাঁরা বলেছিলেন আজ যে দুর্গম এলাকায় মাখুনিক গ্রাম অবস্থিত। আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে সেই এলাকায়  ছিল খর্বকায় মানুষদের তৈরি করা আস্ত একটি শহর। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে বামনদের শহর ধ্বংস হলেও, অলৌকিকভাবে বেঁচে গিয়েছিল মাখুনিক গ্রাম।

কিন্তু এই মতবাদকে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানেরই কিছু ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতাত্ত্বিক। তাঁরা বলছেন আজ থেকে চারশো বছর আগে, এক খর্বকায় আফগান নারী ও পুরুষ তাঁদের সন্তানসন্ততি নিয়ে ডেরা বেঁধেছিলেন এই এলাকায়।  ধীরে ধীরে বেড়েছিল পরিবারের  জনসংখ্যা। মানুষগুলি জিনগতভাবে খর্বকায় হওয়ায়, একসময় গড়ে উঠেছিল খর্বকায় মানুষদের গ্রাম।

ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতাত্ত্বিকদের সম্পুর্ণ বিপরীত কথা বলেছেন ইরানের কিছু সমাজতত্ববিদ। তাঁরা বলছেন, চিরকাল ধরে খর্বকায় মানুষদের সইতে হয়েছে সমাজের ঘৃণা ও তাচ্ছিল্য।  অপমানের হাত থেকে বাঁচতে খোরাসানের বিভিন্ন এলাকা থেকে খর্বকায় মানুষেরা পালিয়ে এসে জনবসতি গড়ে তুলেছিল এই দুর্গম এলাকায়। ঘৃণা ও তাচ্ছিল্য এড়িয়ে হতভাগ্য মানুষগুলি পেয়েছিল শান্তিতে বাঁচার সুযোগ। নিজেদের পরিবারের মধ্যে বিবাহ হওয়ায় বেড়েছিল খর্বকায় মানুষদের সংখ্যা। তৈরি হয়েছিল মাখুনিক গ্রাম। আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে।

কেন তাঁরা খর্বকায়!

মানুষের উচ্চতা হ্রাস ও বৃদ্ধির পিছনে থাকে গ্রোথ হরমোনের কারসাজি। কিন্তু মাখুনিক গ্রামের অধিবাসীদের খর্বতার জন্য নানা মুনি দিয়েছেন নানা মত। ১৯৯৭ সালে একদল বিজ্ঞানী বলেছিলেন, এলাকার ভূগর্ভস্থ জলে পাওয়া গিয়েছে পারদ। সেই পারদই মাখুনিকবাসীদের উচ্চতা হ্রাসের জন্য দায়ী।

পরবর্তীকালে কিছু বিজ্ঞানী বলেছেন, গ্রামবাসীদের খর্বতার জন্য পারদ দায়ী নয়। কারণ একই জল খেয়ে নবীন প্রজন্মের গ্রামবাসীদের উচ্চতা সামান্য হলেও বাড়ছে কী করে! এই বিজ্ঞানীরা বলছেন, উপযুক্ত খাদ্যের অভাবে গ্রামবাসীরা দীর্ঘকাল ভুগেছেন অপুষ্টিতে। এর ফলেই দেখা দিয়েছিল বামনত্ব। রাস্তার তৈরি হওয়ার কারণে গ্রামে এসেছে বিভিন্ন পুষ্টিকর খাদ্যদ্রব্য। তাই খুব অল্প হলেও বাড়তে শুরু করেছে নবীন প্রজন্মের গ্রামবাসীদের উচ্চতা।

Makhunik
মাখুনিক গ্রামে তৈরি হচ্ছে ইটের বাড়িও

 

বদলাচ্ছে অর্থনৈতিক অবস্থাও

শতকের পর শতক ধরে মাখুনিক ছিল সভ্যতার সমস্ত সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। কৃষিকাজই ছিল গ্রামবাসীদের জীবনধারণের একমাত্র উপায়। রাস্তা তৈরি হওয়ার পর এলাকায় তৈরি হয়েছে লোহার খনি। সেখানে শ্রমিকের কাজ পেয়েছেন কিছু গ্রামবাসী। কিন্তু পিছু ছাড়েনি বঞ্চনা। উচ্চতা কম বলে দৈনিক পারিশ্রমিকের অর্ধেক দেওয়া হয় তাঁদের।

এই খর্বকায় জনগোষ্ঠীকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছে কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। তাদের চেষ্টায় গ্রামে এসেছে বিদ্যুৎ,পানীয় জল, আধুনিক টয়লেট, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, প্রাইমারি স্কুল, মুদিখানা ও মাংসের দোকান। তবুও গ্রামে থাকা ১২৫ টি পরিবারের ৭০০ জন মানুষ চান, দেশি বিদেশি পর্যটকদের জন্য সুপ্রাচীন মাখুনিক গ্রামের দুয়ার উন্মুক্ত করে দিক ইরান সরকার।

মাখুনিক গ্রাম পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হলে বাড়বে রোজগারের সুযোগ। হয়ত লিলিপুট গ্রামবাসী ও লিলিপুট বাড়িঘর দেখে হাসাহাসি করবেন পর্যটকেরা। তবুও গ্রামবাসীরা চান পর্যটকেরা মাখুনিকে আসুন এবং হাসুন তাঁদের দেখে। অস্তিত্বের সংগ্রামে টিকে থাকার জন্য, প্রকৃতির আঙিনায় জোকার হয়ে কাটাতেও আপত্তি নেই মাখুনিকের লিলিপুটদের।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like