Latest News

গোপন অসুখ

কাকলী দেবনাথ

আমার জীবনের এক চরম গোপন অসুখের কথা আজ লিখতে বসেছি। ভয়ে আজকাল রাতে আমার ঘুম হয় না। গভীর রাতে সবাই যখন ঘুমে আচ্ছন্ন আমার ঘুম ভেঙে যায়। আমি চুপচাপ জানলার সামনে এসে দাঁড়াই। আমার শিরদাঁড়া বেয়ে একটা হিমশীতল অনুভূতি নেমে আসে। যদিও ব্যাপারটা আমি চিরকালই গোপন রাখার চেষ্টা করে এসেছি। কিন্তু কিছুদিন ধরে মনে হচ্ছে এই শেষবয়সে এসে কথাগুলো কাউকে বলা দরকার। কারণ আমার অসুখটা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আমি বুঝতে পারি না এটা আমার শরীরের অসুখ, না মনের? এই অসুখ কবে থেকে আমার মধ্যে দানা বেঁধেছে তাও আমার মনে পড়ে না। বিয়ের পর দু-একবার আমার স্বামীকে এই অসুখের কথা বলার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু দেখেছি হিতে বিপরীত হয়েছে। তারপর থেকে আর সে চেষ্টা করিনি।
আমার অসুখটা হল, আমি সারাজীবন কোনও ঠিক জিনিসের ঠিক গন্ধ পাইনি। সবসময় এক জিনিসের অন্যরকম গন্ধ পেয়ে এসেছি। এটা কি কোনও রোগ?


ছোটবেলা থেকেই আমি, আমার বাবা-মা দু’জনকে একসঙ্গে খুব কম সময় পেয়েছি। মা-বাবা দু’জনেই চাকরি করতেন। আমি তাদের একমাত্র মেয়ে। কাজের মাসিই আমার দেখাশোনা করত। আমার কোনও কিছুর অভাব ছিল না। খেলার জন্য প্রচুর খেলনা ছিল, বাবা-মা যখনই বাড়ি ফিরতেন চকোলেট, আমার পছন্দের খাবার নিয়ে আসতেন তবুও সারাক্ষণ একটা কষ্টের গন্ধ আমায় ঘিরে থাকত। কেমন যেন একটা জ্বর জ্বর ভাব, কিছু খেতে ইচ্ছে করত না। বমি পেত। অথচ আমার যখন খুব শরীর খারাপ হত আর আমার বাবা-মা দু’জনেই ছুটি নিত, আমার পাশে বসে আমাকে নিয়ে কথা বলত, টেনশন করত আমি তখন কোনও কষ্টের গন্ধ পেতাম না, কেমন মিষ্টি একটা আনন্দের গন্ধ আমায় ছেয়ে থাকত সারাক্ষণ।

আমি শহরের মেয়ে হলেও আমার বিয়ে হয়েছিল প্রত্যন্ত গ্রামে। ওখানকার বিয়ের আচার-অনুষ্ঠান সব অন্য রকমের। কালরাত্রির পরের দিন সকালে আশপাশের বাড়ির মহিলারা মিলে আমাকে আর আমার স্বামীকে কাঠের পিঁড়িতে দাঁড় করিয়ে শুদ্ধ করার জন্য গায়ে পচা গোবরজল ঢেলে দিয়েছিল। এটা নাকি তাদের নিয়ম। পরে জেনেছিলাম ওটা গ্রামীণ মহিলাদের একটা রসিকতা। যাইহোক পচা গোবরের গন্ধ গায়ে নিয়ে প্রথা অনুযায়ী আমি যখন আমার স্বামীর সঙ্গে এক বাথরুমে স্নান করতে ঢুকলাম, তখন পচা গোবরের গন্ধটা কোথায় হারিয়ে গেল, একটা লজ্জা মেশানো সুখের গন্ধ আমার সারা শরীর ছেয়ে থাকল। এরকম শুধু একবার নয় বহুবার হয়েছে। আমার স্বামী বিদেশি কোম্পানিতে চাকরি করতেন, চাকরি সূত্রে ওকে মাঝে মাঝেই বিদেশে থাকতে হত। আমি তখন ছেলের পড়াশুনার জন্য শহরে চলে এসেছি। ভাড়াবাড়িতে ছেলেকে নিয়ে একা থাকতাম। ওই সময় ওর অনেক বন্ধুবান্ধব আমাদের দেখতে আসত। কেউ বলত, ‘‘বউদি, কোনও দরকার হলেই বলবেন।’’ কেউ আবার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে বলত, ‘‘আপনাকে কষ্ট করে বাজার করতে যেতে হবে না আমিই করে দেব।’’ তারা সবাই বেশ সুপুরুষ। ভদ্র পোশাক পরেই আসত। কিন্তু কেন জানি না কারও কারও গায়ের থেকে আমি কেমন হিংস্র বন্য জন্তুর গন্ধ পেতাম। ভয়ে দরজা খুলতাম না। পাল্লাটা একটু ফাঁক করে কথা বলতাম। চলে গেলে ছেলেকে জিগ্যেস করতাম, ‘‘হ্যাঁরে বাবাই, কেমন একটা বাজে গন্ধ বেরোচ্ছিল না ভদ্রলোকের গায়ের থেকে?’’ ছেলে অবাক হয়ে বলত, ‘‘না তো, আমি তো ডিওডোরেন্টের গন্ধ পেলাম।’’ আমার ভেতরে কুণ্ডলী মেরে বসে থাকা ভয়টা আমাকে ছোবল মারত।

এই অসুখের জন্য আমি অনেকবার ভেবেছি, ডাক্তারের কাছে যাব। কিন্তু লজ্জায় যেতে পারিনি। একবার আমার ছেলের সামান্য জ্বরে এক ডাক্তার অনেকগুলো টেস্ট করাতে দিয়েছিল তখন তার গায়ের থেকে কেমন ডাকাত ডাকাত গন্ধ পেয়েছিলাম। আমি ডাক্তার দেখাতে গেলে উনি হয়তো জিগ্যেস করবেন, ‘‘আপনি আমার চেম্বার থেকে কেমন গন্ধ পাচ্ছেন?’’ কী বলতে কী বলে বসব তার ঠিক নেই। যদি বলে বসি, ‘‘আপনার গায়ের থেকে আমি কেমন ডাকাত ডাকাত গন্ধ পাচ্ছি’’, তখন কি ডাক্তার আমায় ছেড়ে দেবেন? রেগে গিয়ে যদি একটা কড়া ডোজের ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে দেন তাহলে কি তাকে দোষ দেওয়া যাবে? তবে একবার এক মাতাজির কাছে জলপড়া খেয়েছিলাম। ওই জল নাকি কৈলাসের মানস সরোবর থেকে আনা হয়েছিল। সবসময় পিউরিফায়েড জল খেয়ে অভ্যস্ত নাকে জল থেকে কেমন আয়রনের গন্ধ পেয়েছিলাম। মাতাজিকে সে কথা বলতে উনি বলেছিলেন, আমার ওপর নাকি জিন ভর করেছে, এর থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাকে বগলামুখী যজ্ঞ করতে হবে। তাতে পঁচিশ হাজার টাকা খরচ হবে। এত খরচ শুনে আর মাতাজির কাছে যাওয়া হয়নি।

আমার এই অসুখের জন্য কত মানুষের সঙ্গে যে আমার সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। আগেই বলেছি আমার স্বামী বিদেশে চাকরি করতেন, এই কারণে আমার বাড়িজুড়ে একটা বিদেশি গন্ধ ঘোরাফেরা করে। ওটা নাকি স্ট্যাটাস সিম্বল। একদিন হয়েছে কী, আমাকে চুনোমাছ দিতে আসে যে বুড়িটা তার গা থেকে ঠিক আমার গ্রামের বাড়ির ঠাকুমার গন্ধ পেলাম। গরমের ছুটিতে যখন দেশের বাড়ি বেড়াতে যেতাম তখন ওই ঠাকুমার কাছে দুপুরে ঘুমোতাম। সারাক্ষণ ঠাকুমা পান খেত। সেই ঠাকুমার কাছে দুপুরবেলা শুয়ে শুয়ে আমি গল্প শুনতাম। বুড়ির গায়ের থেকে যখন ঠাকুমার গায়ের গন্ধ পেলাম, কী যে আনন্দ হল আমার সেদিন বলে বোঝাতে পারব না। আমি তাকে ডেকে ড্রইংরুমে সোফায় বসিয়ে জল, মিষ্টি খাওয়ালাম। আমার এই কাণ্ড দেখে আমার কলেজপড়ুয়া মেয়ে রিনি তো রেগে লাল। বুড়ি চলে যেতেই মেয়ে চেঁচামেচি শুরু করল, মাছের গন্ধে নাকি ঘরে ঢোকা যাচ্ছে না। সবার আগে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে সোফা পরিষ্কার করল। ওই সোফাতে বসতে নাকি ওর গা ঘিনঘিন করছে। তারপর সারা ঘরে এয়ার রিফ্রেশনার ছড়াল আর তার সঙ্গে আমাকে ওয়ার্নিং দিল, এই রকম কোনও উটকো লোককে যেন আর কক্ষনো ঘরে না ঢোকাই।
আচ্ছা এটা কি আমার কোনও মনের রোগ? আমি কি সাইকোলজিক্যাল পেশেন্ট হয়ে যাচ্ছি?

বহুদিন রোগভোগের পর উননব্বই বছর বয়েসে যখন আমার শাশুড়ি-মা মারা গেলেন আর ঠিক তার একসপ্তাহের মধ্যে আমার পঁচানব্বই বছরের শ্বশুরমশাইও মারা গেলেন, সেই সময় বাড়িতে আত্মীয়স্বজন যেই আসত সবার মুখে এককথা, বাড়িটার থেকে কেমন যেন মৃত্যুর গন্ধ বেরোচ্ছে, ঘরে ঢুকলেই মনটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কেন যে আমিই শুধু মুক্তির গন্ধ পেতাম ঘরটায় ঢুকলে, বুঝতে পারতাম না। মনে হত বহুদিন ধরে দুটো বিছানায় শুয়ে থাকা দু’জন অসমর্থ বৃদ্ধ-বৃদ্ধা যেন মুক্তি পেয়েছেন।


এই লেখার শুরুতেই বলেছিলাম আজকাল রাতে আমার ঘুম আসে না। খুব ভয় করে। মনে হয় ঘোর অন্ধকার আমার বাড়ির ওপর নেমে আসছে। কেন সেকথাটা বলতেও আমার অস্বস্তি হচ্ছে। কিছুদিন হল আমি আমার একমাত্র ছেলের গা থেকে একটা অন্যরকম গন্ধ পাচ্ছি। কাউকে একথা বলতে পারছি না। আমার ছেলে অত্যন্ত সাধারণ মাপের ছেলে বলেই আমার ধারণা। সাধারণ গ্র্যাজুয়েশনের পর বহু কষ্টে একটা সরকারি চাকরি পেয়েছে। গোনা টাকা মাইনে পায়। মাঝে মাঝে ভাবি, এই গন্ধের কথা ছেলেকে জিগ্যেস করব কিন্তু…।
যত বয়স বাড়ছে সব কিছুর গন্ধ নেওয়ার নেশা যেন আমায় পেয়ে বসেছে। আমি যে খুব ইচ্ছে করে এটা করি তা নয়। আমার অবচেতন মনে এটা হয়ে যায়। আমার নিজের ওপর এখন আমার কন্ট্রোল থাকে না। এই সেদিন যে ঘটনাটা হল সেটা সত্যিই আমি ইচ্ছে করে করিনি। ১৬ আগস্ট আমার একমাত্র নাতনি তিন্নির জন্মদিন। ওই আমার নিস্তরঙ্গ জীবনের বাঁধভাঙা ঢেউ। ইংলিশ মিডিয়ামে ক্লাস ইলেভেনে পড়লে কী হবে, ফেলুদা, টেনিদা, ব্যোমকেশ বক্সি সব তার গুলে খাওয়া। এমন পাকা পাকা কথা বলে যেন একটা পাকা বুড়ি। প্রত্যেকবারের মতো এবারেও তিন্নির জন্মদিনের দিন সকালে উঠে আমি মন্দিরে গিয়ে নাতনির জন্য পুজো দিয়ে এলাম। এই দিন বিকেলে নাতনির কিছু বন্ধুবান্ধব আর তাদের বাবা-মায়েরা আমাদের বাড়িতে আসে। বউমার বাপের বাড়ির লোকজনও থাকে। সারা ঘর বেলুন দিয়ে সাজানো হয়। কেক কাটা হয়। বউমা অনেক কিছু রান্না করে, রাতে সবাই একসঙ্গে ডিনার করা হয়। খুব আনন্দে কাটে আমাদের এই দিনটা। কিন্তু এবার পুজো দিয়ে বাড়ি ফিরে দেখলাম সব যেন কেমন শান্ত শান্ত। কী ব্যাপার? ভাবলাম বউমাকে একবার জিগ্যেস করি, পরে নিজেই নিজের কৌতূহল দমন করলাম। এবছর বউমার বাবার বাইপাস সার্জারি হয়েছে, হয়তো সেকারণেই কারও মনমেজাজ ভাল না। মনটা খচখচ করতে থাকল। প্রত্যেকবারের মতো বড় করে না হলেও ছোট করে একটু কিছু কি করা যেত না? ভাবলাম দুপুরে খেতে বসে ছেলেকে একটা কেক আনার কথা বলব। দুপুরে খেতে বসে তিন্নি বলল, ‘‘ঠাম্মি, আজ বিকেলে আমরা একজায়গায় বেড়াতে যাব, তুমি কিন্তু যাবে আমাদের সঙ্গে।’’
অবাক হয়ে জানতে চাইলাম, ‘‘কোথায় রে?’’ পেছন থেকে বউমা বোধহয় কিছু ইশারা করল। তিন্নি কী যেন একটা বলতে গিয়েও থেমে গেল।
সন্ধেবেলা সবাই মিলে গাড়ি করে বেরোলাম। গাড়ি এসে দাঁড়াল শহরের সবচেয়ে দামি হোটেলের সামনে। মনে মনে খুশি হলাম, যাক মেয়েটার জন্মদিনটা তাহলে একেবারে খারাপ যাবে না। কিন্তু ভেতরে ঢুকে তো আমার চক্ষুস্থির! কী বিশাল আয়োজন। পুরো গ্রাউন্ড ফ্লোরটাই ভাড়া নেওয়া হয়েছে তিন্নির জন্মদিন উপলক্ষ্যে। কী সুন্দর সাজিয়েছে হলটা। আমি অবাক হয়ে ঘুরে ঘুরে চারিদিক দেখছি। ছেলে-বউমার প্রচুর বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন সবাই এসেছে। একটা খুশির গন্ধ চারিদিকে ছড়িয়ে আছে। বিশাল বড় একটা থ্রি-স্টেপের কেক কাটা হল। তিন্নির সব বন্ধুগুলো প্রজাপতির মতো নাচ করল। কী যে ভাল লাগছিল আমার। হয়তো এই ভাল লাগা আমার চোখেমুখেও প্রকাশ পাচ্ছিল। আমার ছেলে পাশে এসে জিগ্যেস করল, ‘‘কেমন লাগছে মা?’’ হঠাৎ করে সেই অন্যরকম গন্ধটা নাকে এল আবার। থাকতে না পেরে জিগ্যেস করলাম, ‘‘হ্যাঁরে বাবু, তোর গায়ের থেকে কেমন অসৎপথে চলার গন্ধ পাচ্ছি!’’
ছেলে বিরক্ত মুখে বলল, ‘‘মানে?’’
গম্ভীর হয়ে বললাম, ‘‘মানেটা তুই ঠিকই বুঝতে পারছিস।’’ নিজের অজান্তেই গলার স্বরটা বোধ হয় জোর হয়ে গেছিল। দেখলাম আমাদের দিকে সবাই তাকিয়ে আছে। বউমাও ছুটে আমাদের কাছে চলে এসেছে।
বললাম না, আজকাল নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি না। আমি আবার ছেলেকে বলে বসলাম, ‘‘কীরে, কিছু উত্তর দিচ্ছিস না যে!’’
ছেলে ততধিক বিরক্ত হয়ে বলল, ‘‘মা, তোমার মাথাটা পুরোই গেছে। কবে থেকে বলছি ডাক্তারের কাছে চলো, কিছুতেই রাজি হচ্ছে না!’’ শেষের কথাগুলি দাঁড়িয়ে থাকা অতিথিদের উদ্দেশে বলে ওখান থেকে চলে গেল।
চলে গেল কী? না পালিয়ে গেল।

বউমা কেমন একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে অতিথিদের দিকে তাকিয়ে বলে উঠল, ‘‘যত্তসব পাগলের পাগলামো। নিজে তো পাগল হয়েছেনই, আমাদেরও পাগল করে ছাড়বেন!’’
আমার এই আচরণের জন্য এত সুন্দর ঝকঝকে অনুষ্ঠানটা ফিকে হয়ে গেল। মনের মধ্যে একটা কথাই পাক খেতে থাকল, পাগলের পাগলামো। সত্যিই কি আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি? কে জানে হবে হয়তো।


ওই ঘটনার পর বেশ কিছুদিন দরকার ছাড়া নিজের ঘর থেকে বের হইনি। অমন একটা কাণ্ড ঘটানোর জন্য নিজেই মনে মনে কষ্ট পাচ্ছিলাম। আজ অনেকদিন বাদে ছাদে এসে দাঁড়ালাম। পরিষ্কার আকাশ। কী সুন্দর শরতের হাওয়া বইছে। চারিদিকে পুজো পুজো গন্ধ। চিলেকোঠায় তিন্নির ঘরে উঁকি মেরে দেখি ও ওর নতুন কেনা বইয়ের গন্ধ শুঁকছে।
‘‘কীরে, কী করছিস তুই?’’
‘‘গন্ধ শুঁকছি ঠাম্মি। নতুন বইয়ের গন্ধ শুঁকতে আমার দারুণ লাগে। তোমার ভাল লাগে না?’’
ওর কাছে যেতেই ওর গায়ের থেকে আমার ছোটবেলার গন্ধ পেলাম। বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল, সারা শরীরের রক্ত যেন বুকে এসে ছলাৎ করে আছড়ে পড়ল। তাহলে কী আমার অসুখটা… না না এ যেন না হয়।
কাছে যেতেই তিন্নি আমায় জড়িয়ে ধরল। আমার বুকের মধ্যে মুখ গুজে লম্বা শ্বাস নিতে থাকল।
‘‘কী শুঁকছিস ওভাবে?’’
‘‘তোমার গায়ের গন্ধ।’’
ভয়ে ভয়ে জিগ্যেস করলাম, ‘‘এইমাত্র বাতের মলম লাগিয়ে এসেছি, খুব বাজে গন্ধ তাই না?’’
তিন্নি চোখ বুজে জোরে শ্বাস টেনে বলল, ‘‘জানো ঠাম্মি, আমি যে পুজোবার্ষিকীটা পড়ছিলাম, তাতে একটা পুরোনো বাড়ির গল্প আছে। আমি তোমার গায়ের থেকে ঠিক যেন ওই বাড়িটার মতো মিষ্টি একটা গন্ধ পাচ্ছি!’’

চিত্রকর : মৃণাল শীল

You might also like