Latest News

পৃথিবীর সবচেয়ে দূরে থাকা দ্বীপে বাস করে আধুনিক মানুষ! আছে ইন্টারনেটও!

ট্রিসটান দ্বীপে নেই কোনও বিমানবন্দর বা সমুদ্রবন্দর নেই।  আসতে হবে উত্তাল অ্যাটলান্টিক পেরিয়ে। এই দ্বীপে পাবেন না অনান্য পর্যটন কেন্দ্রের মতো ট্যুরিস্ট পরিষেবা।

রূপাঞ্জন গোস্বামী

দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউন থেকে দ্বীপটির দূরত্ব ২৪৩২ কিমি, সেন্ট হেলেনা থেকে দূরত্ব ২১৬১ কিমি এবং ফকল্যান্ড দীপপুঞ্জ থেকে দূরত্ব ৩৪৮৬ কিমি। হ্যাঁ, পৃথিবী স্থলভাগ থেকে এতটাই দূরে আছে ছোট্ট এক মানববসতি ‘ট্রিসটান ডা কুনহা’। পৃথিবীর সবচেয়ে দূর্গম টুরিস্ট স্পট। এই দ্বীপে পৌঁছনো যতটা কঠিন, টিকে থাকাও ঠিক ততটাই কঠিন। অথচ প্রকৃতি তার সেরা সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছে এই দ্বীপে। দক্ষিণ অ্যাটলান্টিক মহাসাগরের এই ব্রিটিশ কলোনিতে পৌঁছতে গেলে, কেপটাউন থেকে মোটরবোটে লাগে সাতদিন। উত্তাল ও বিপজ্জনক সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে আসতে হবে এই দ্বীপে।

ট্রিসটান ডা কুনহা।

অনেকগুলি দ্বীপের সমষ্টি এই ট্রিসটান ডা কুনহা

ট্রিসটান ডা কুনহা দ্বীপমালাটিতে আছে ট্রিসটান আইল্যান্ড, গঘ আইল্যান্ড, নাইটিঙ্গেল আইল্যান্ড, মিডল আইল্যন্ড, স্টোল্টেনহফ আইল্যান্ড সহ আরও কিছু দ্বীপ। দ্বীপমালার মধ্যে প্রধান ও সবচেয়ে বড় দ্বীপটি হল ট্রিসটান (৯৮ বর্গ কিলোমিটার)। এই দ্বীপেই একমাত্র মানুষের বসতি আছে। ট্রিসটান দ্বীপটির মাঝখানে আছে পিরামিড আকৃতির এক বিশাল আগ্নেয়গিরি। নাম ‘কুইন মেরি’ পিক (৫৭৬৫ ফুট)। রাজা পঞ্চম জর্জের স্ত্রীর নামে শৃঙ্গটির নাম দেওয়া হয়েছিল। আগ্নেয়গিরিটি এখন শান্ত, তবে যেকোনও সময়ে জেগে উঠতে পারে জানিয়েছেন ভূতত্ববিদেরা।

ট্রিসটান দ্বীপটিকে ঘিরে থাকা সমুদ্র সবসময় উত্তাল থাকে। সাঁতারের জন্য একেবারেই সুবিধাজনক নয়। তার ওপর মাসে ১৭ থেকে ২৬ দিনই প্রচণ্ড বৃষ্টি হয়। শীতকাল এখানে ভয়াবহ। তখন বরফের পুরু চাদরে মুড়ে থাকে দ্বীপটি। এছাড়াও সারা বছর ধরে দ্বীপটিতে হানা দেয় কয়েকশো ভয়াবহ সাইক্লোন। তাই অনেক ভূতত্ববিদ ও জীববিজ্ঞানীর মতে পৃথিবীতে মানুষের বসবাসের পক্ষে কঠিনতম দ্বীপের নাম ট্রিসস্টান ডা কুনহা। তবুও সেখানে আজও বসবাস করেন আধুনিক মানুষ।

শীতে বরফঢাকা ট্রিসটান দা কুনহা দ্বীপ।

দ্বীপের গায়ে জড়িয়ে থাকা ইতিহাস

১৫০৬ সালে নির্জন দ্বীপটিকে প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন পর্তুগিজ অভিযাত্রী ট্রিস্টাও ডা কুনহা। কিন্তু দ্বীপকে ঘিরে প্রতিনিয়ত উঠতে থাকা ভয়াবহ ঢেউয়ের কারণে দ্বীপে নামতে না পারলেও নিজের নামেই দ্বীপটির নাম রেখেছিলেন ‘ট্রিসস্টান ডা কুনহা’। এরপর ১৫২০ সালে পানীয় জলের সন্ধানে ট্রিসস্টান দ্বীপের অদূরে এসে দাঁড়িয়েছিল পর্তুগিজ জাহাজ ‘লা র‍্যাফায়েল’। জাহাজের ক্যাপ্টেন রুই পেরেরাই প্রথম মানুষ যিনি এই দ্বীপে পা রেখেছিলেন। তারপর প্রায় এক শতাব্দীরও বেশি সময় একাকী অ্যাটলান্টিকের জলে ভেসেছিল ‘ট্রিসস্টান ডা কুনহা’। মানুষের মুখ না দেখে।

১৬৫৬ সালে দ্বীপটিতে এসেছিল ডাচেরা। কয়েক মাস ধরে দ্বীপে থেকে দ্বীপটির ম্যাপ তৈরি করেছিল। ১৭৬৭ সালে নির্জন দ্বীপটিতে পূর্ণাঙ্গ জরিপ চালিয়েছিল ফরাসিরা। ১৭৯৩ সালে দ্বীপে প্রথম বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান চালিয়েছিলেন বিখ্যাত ফরাসি প্রকৃতিবিদ অবার্ট ডু পেটিট থুয়ার্স। কিন্তু তিনি ট্রিসটান দ্বীপে কোনও আদিম জনগোষ্ঠী ও ভয়ানক পশু বা সরীসৃপ খুঁজে পাননি। দ্বীপটিকে তাঁর নিরাপদ ও আধুনিক মানুষের বসবাসের পক্ষে উপযুক্ত বলে মনে হয়েছিল।

দ্বীপটি আবিষ্কার করেছিলেন ভূপর্যটক ট্রিস্টাও ডা কুনহা।

শুরু হয়েছিল দ্বীপ দখলের লড়াই

পর্তুগিজ, ফরাসি ও ইংরেজদের মধ্যে, এই অসামান্য সুন্দর দ্বীপটির দখল নিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছিল রেষারেষি। ১৭৭৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি, পূর্ব আফ্রিকা হয়ে ভারতে যাওয়ার পথে ইম্পিরিয়াল এশিয়াটিক কোম্পানির দুটি জাহাজের নাবিকেরা ট্রিসটান দ্বীপে নেমে ব্রিটিশ পতাকা উড়িয়ে দিয়েছিল। দ্বীপের ‘ট্রিসটান ডা কুনহা’ নামটিকে পালটে রেখেছিল নতুন নাম, ‘আইসলস ডে ব্রাবান্ট’। ১৮১০ সালের ডিসেম্বরে মাসে দ্বীপ দখলের লড়াইয়ে নেমে পড়েছিল আমেরিকাও। তিন পরিচারককে নিয়ে পাকাপাকি ভাবে এই দ্বীপে বসবাস করতে চলে এসেছিলেন, আমেরিকার ম্যাসাচুসেটসের বাসিন্দা ডাকাবুকো সেনা অফিসার জোনাথন ল্যাম্বার্ট।

‘ট্রিসটান ডা কুনহা’ দ্বীপে পা রেখেই এই দ্বীপমালাকে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলে ঘোষণা করে দিয়েছিলেন ল্যাম্বার্ট। দ্বীপটির নাম রেখেছিলেন, ‘আইল্যান্ড অফ রিফ্রেশমেন্ট’। কিন্তু দ্বীপে নামার দু’বছরের মধ্যে দ্বীপের ভয়াবহ পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে, জোনাথন ল্যাম্বার্ট ও তাঁর দু’জন পরিচারক মারা গিয়েছিলেন। ল্যাম্বার্টের এক পরিচারক মাছ ধরে, চাষ করে কোনওমতে কিছু দিন নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছিলেন। চার বছর পরে প্রায় অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় তাঁকে দ্বীপটি থেকে উদ্ধার করেছিল ব্রিটিশ নেভি।

১৮১৬ সালের ১৪ আগষ্ট, দ্বীপটির ওপর নিজেদের দখলদারি সম্পূর্ণ করেছিল ব্রিটিশরা। দ্বীপটিকে তাদের অধীনে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার কলোনি হিসেবে ঘোষণা করে দিয়েছিল। যাতে পর্তুগিজ, ফরাসি ও ডাচ ও আমেরিকানরা দ্বীপটির মালিকানা দাবি করে না বসে। ব্রিটিশদের মনে আরেকটা আশঙ্কাও ছিল, সেন্ট হেলেনায় নির্বাসনে থাকা নেপোলিয়ন পালিয়ে এসে ট্রিসটান দ্বীপে ঘাঁটি গেড়ে বসতে পারেন। তাই ব্রিটিশ নৌসেনা পাকাপাকিভাবে দখলে নিয়েছিল ট্রিসটান দ্বীপটি। প্রতিমাসেই কমপক্ষে দু’বার কেপটাউন থেকে এসে দ্বীপটিকে দেখে যেত তারা।

১৯১০ সালে তোলা ছবিতে দ্বীপবাসীরা।

সাধারণ মানুষ আসতে শুরু করেছিলেন ট্রিসটান দ্বীপে

কেপটাউন থেকে ২৪৩২ কিমি দূরে থাকা ট্রিসটান দ্বীপে একজন দুজন করে ইংরেজ আসতে শুরু করেছিলেন। এই দ্বীপে থেকে, মাছ ধরা ও পাখি শিকারের জন্য। ১৮২৫ সাল নাগাদ ট্রিসটান দ্বীপে ২৪ জন ইংরেজ পুরুষ ও তিনজন নারী বাস করতেন। এরপর সেই পুরুষদের অনেকেই তাঁদের প্রেমিকাকে নিয়ে এসে, দ্বীপেই বেঁধেছিলেন ঘর। বেশ কিছু পরিশ্রমী ও লড়াকু মানসিকতার ইংরেজ দম্পতি দ্বীপটিকে মানুষের বসবাসের উপযুক্ত করতে নেমে পড়েছিলেন। ১৮৭৫ সাল নাগাদ দ্বীপে বাস করতেন পনেরোটি পরিবারের ৮৬ জন নরনারী ও শিশু।

১৯০৭ সালে, ট্রিসটান দ্বীপের চরম আবহাওয়ার কথা বিচার করে ব্রিটিশ সরকার দ্বীপটি খালি করার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু দ্বীপের বাসিন্দারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাঁরা দ্বীপ ছেড়ে যাবেন না। তাঁরা বলেছিলেন এই চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ায় তাঁরা শিশুদের নিয়ে টিকে আছেন সংগ্রাম করে। প্রাণপাত পরিশ্রম করে দ্বীপটিকে মানুষের বসবাসের ক্ষেত্রে উপযুক্ত করেছেন। এই দ্বীপ তাঁদের বাসভূমি, শিশুগুলির মাতৃভূমি, তাই তাঁরা ট্রিসটান দ্বীপ ছেড়ে যাবেন না।

দ্বীপটির বাসিন্দাদের সমস্ত সাহায্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল ব্রিটেনের রাজপরিবার। তবুও সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন দ্বীপবাসীরা। ১৯০৯ সাল থেকে দ্বীপে জাহাজ যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল ব্রিটিশরা। কিন্তু ১৯৩৬ সালে জানা গিয়েছিল দ্বীপে বাস করছেন ১৬৭ জন নরনারী। দ্বীপটিতে সেই সময় ছিল ১৬৫ টি গবাদি পশু ও ৪২ ঘোড়া। রাজপরিবারের হুমকির পর জাহাজে করে ট্রিসটান দ্বীপে রেশন আসা বন্ধ ছিল প্রায় ২৯ বছর। তবুও সংগ্রামে হারেননি দ্বীপের অনমনীয় মানুষগুলি। দ্বীপটির জনসংখ্যা না কমে বেড়ে গিয়েছিল।

১৯৬১ সালে জেগে উঠেছিল আগ্নেয়গিরি।

আতঙ্কের নাম ‘কুইন মেরি’

১৯৬১ সালের ১০ অক্টোবর, কয়েকশো বছরের পর জেগে উঠেছিল ‘কুইন মেরি ‘আগ্নেয়গিরি। শুরু হয়েছিল ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত। একইসঙ্গে ভয়াবহ ভূমিকম্পের ফলে ধস নেমেছিল ট্রিসটান দ্বীপে। বাধ্য হয়ে দ্বীপ ছেড়েছিলেন দ্বীপবাসীরা। সাতদিনের সাগরপথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছেছিলেন কেপটাউন। সেখান থেকে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু ইংল্যান্ডের কর্মব্যস্ত ও দমবন্ধকরা জীবনে অতিষ্ঠ হয়ে মাত্র দু’বছরের মধ্যেই ট্রিসটান দ্বীপে ফিরে এসেছিলেন কয়েকশো দ্বীপবাসী।

২০০১ সালের ২৩ মে, দ্বীপের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সাইক্লোনটি হানা দিয়েছিল। গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৯০ কিমি। ট্রিসটান দ্বীপের বেশিরভাগ বাড়িই বিদ্ধস্ত হয়ে গিয়েছিল। প্রচুর গবাদি পশু মারা পড়েছিল। তবে ব্রিটিশ সরকার সেবার মুখ ফেরায়নি, জাহাজে করে ত্রাণ পাঠিয়েছিল ট্রিসটান দ্বীপে। এখানেই শেষ হয়নি বিপদের তালিকা। ২০০৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি, আগুনে পুড়ে গিয়েছিল দ্বীপের চারটে জেনারেটর ও দ্বীপে থাকা একমাত্র কারখানাটি। যে কারখানাটি থেকে সমুদ্রে ধরা মাছ টিনবন্দি করে ইউরোপে পাঠানো হতো।

২০১১ সালের ১৬ মার্চ, অলিভা নাইটিঙ্গেল নামের এক জাহাজ, ট্রিসটান দ্বীপের কাছে, সমুদ্রে ফেলে দিয়েছিল বিশাল পরিমাণ অপরিশোধিত খনিজ তেল। ট্রিসটান দ্বীপে বাসকরা পেঙ্গুইন ও সামুদ্রিক পাখিদেরদের জীবনে নেমে এসেছিল বিভীষিকা। প্রাণীগুলিকে বাঁচাতে সব কাজ ছেড়ে নেমে পড়েছিলেন দ্বীপবাসীরা।

দ্বীপটির একমাত্র গ্রাম ‘এডিনবার্গ অফ সেভেন সি’।

আজকের ট্রিসটান ডা কুনহা

ট্রিসটান দ্বীপের উত্তরদিকে আছে দ্বীপটির একমাত্র গ্রাম ‘এডিনবার্গ অফ সেভেন সি’। ১৮৮৭ সালে রানী ভিক্টোরিয়ার দ্বিতীয় পুত্র ‘ডিউক অফ এডিনবার্গ’ প্রিন্স আলফ্রেড ট্রিসটান দ্বীপে এসেছিলেন। তাঁরই সম্মানার্থে গ্রামটির নাম রাখা হয়েছিল। ২০১৮ সালের জনগণনা থেকে জানা গিয়েছিল, ৭০টি পরিবারের ২৬৯ জন মানুষ ‘এডিনবার্গ অফ সেভেন সি’ গ্রামটিতে বাস করেন। এঁরা সবাই ব্রিটিশ নাগরিক এবং প্রায় সবাই কৃষক। তবে কৃষি ছাড়াও দ্বীপের বাসিন্দারা দ্বীপে আসা পর্যটকদের কাছে বিভিন্ন হস্তশিল্প, সুভেনির বিক্রি করে উপার্জন করেন। সম্মিলিতভাবে চালান দুটি হোম-স্টে।

সারা পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শান্তিতে বাস করেন দ্বীপবাসীরা।

১১ কিমি লম্বা এই ট্রিসটান দ্বীপটিতে আছে একটি মাত্র রাস্তা। সামুদ্রিক ঝোড়ো বাতাসের ঝাপট খাওয়া রাস্তা। সেই রাস্তায় চলে একটি মাত্র ১৮ সিটের বাস। দ্বীপের বুক চিরে চলতে থাকা রাস্তাটির দুই ধারে আছে বাংলো টাইপের কটেজ। বাংলোগুলির চারদিকে, ভুট্টা ও আলুর ক্ষেত। গরু বাছুর নির্ভয়ে চরে বেড়ায় পাহাড়ি উপত্যকাগুলিতে। কারণ দ্বীপে কোনও হিংস্র প্রাণী নেই। ডিজেল জেনারেটর দিয়ে দ্বীপে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। আছে ছোট্ট সোলার পাওয়ার প্ল্যান্টও।

দ্বীপটিতে আছে একটি মাত্র মুদিখানার দোকান। সেই দোকানে কিছু কিনতে হলে কয়েক মাস আগে অর্ডার দিতে হয়। কেননা অর্ডার পাওয়ার পর, সারা মাসের অর্ডার হওয়া জিনিসপত্রের লিস্ট দেওয়া হবে মাছ ধরার ট্রলারকে। মাছ ধরার ট্রলারটি সে লিস্ট দেবে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের এজেন্সিকে। মাছ ধরার অন্য ট্রলার লিস্ট মিলিয়ে জিনিসপত্র ট্রিসটান দ্বীপে পৌঁছে দিয়ে যাবে। তবে বেশিরভাগ সময়েই সমুদ্র উত্তাল থাকায় ডেলিভারির তারিখ হামেশাই পিছিয়ে যায়।

খাবারের প্রায় পুরোটাই এখনও জোগাড় করে নেন পরিশ্রমের মাধ্যমে।

ট্রিসটান দ্বীপে আছে একটি ছোট্ট হাসপাতাল। আছেন একজন ডাক্তারও। কিন্তু রোগ জটিল হলে যেতে হয় সাউথ আফ্রিকা বা ইংল্যান্ডে। দ্বীপটিতে আছে একটা স্কুলও, সেন্ট মেরি স্কুলটি খোলা হয়েছিল ১৯৭৫ সালে। ২০০১ সালে ট্রিসটান দ্বীপে এসেছিল রেডিও আর টেলিভিশন। বিবিসি তাদের কয়েকটি রেডিও ও টিভি চ্যানেল দ্বীপবাসীকে লাইভ দেখা ও শোনার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। ২০০৫ সালে ব্রিটিশ পোস্টাল কোড পেয়েছিল ট্রিসটান ডা কুনহা। বিদেশ থেকে আসতে শুরু করেছিল পর্যটকদের চিঠি। ট্রিসটান দ্বীপে আজ আছে ইন্টারনেটও। দ্বীপবাসীরা অনলাইনে কেনা কাটা করেন। কিন্তু জিনিসপত্র আসে মাছ ধরার বোটে সেই কয়েকমাস পর।

নেই অনেক কিছুই, আছে উষ্ণ আমন্ত্রণ।

নেই অনেক কিছুই, কিন্তু আছে উষ্ণ আমন্ত্রণ

ট্রিসটান দ্বীপে নেই কোনও বিমানবন্দর বা সমুদ্রবন্দর নেই।  আসতে হবে উত্তাল অ্যাটলান্টিক পেরিয়ে। এই দ্বীপে পাবেন না অনান্য পর্যটন কেন্দ্রের মতো ট্যুরিস্ট পরিষেবা। দ্বীপে একটিও রেস্টুরেন্ট নেই। হোটেল নেই। ক্রেডিট কার্ড চলে না। দোকান নেই, বাজার নেই। আছে কয়েকটা মাত্র হোম-স্টে আর একটা কফি-শপ। টুরিস্টদের জন্য প্রায় কিছুই নেই এখানে রুদ্ধশ্বাস সৌন্দর্য ছাড়া। রহস্যময় কুয়াশায় সর্বক্ষণ ঢেকে থাকা ‘ট্রিসটান ডা কুনহা’ তাই হয়ত পৃথিবীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও রহস্যময় টুরিস্ট ডেস্টিনেশন। জীবন যেখানে শান্তির।

You might also like