Latest News

বাংলার দুর্গা উৎসব: ৪০০ বছরের চলমান ইতিহাস

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঙালি মানেই দুর্গাপুজো (Durga Puja)। শারদীয়াই যে বাঙালির তেরো পার্বণের শ্রেষ্ঠ উৎসব তা বলাই বাহুল্য। পেঁজা তুলো মেঘ, কাশ ফুল, শিউলির সুবাস মানেই ‘শরৎ এসেছে গলির আকাশে’। বাংলার এই দুর্গোৎসবের শুরু কীভাবে, প্রথম দুর্গাপুজো কারা করেন, বারোয়ারি দুর্গাপুজোর চলই বা কবে থেকে, এসব নিয়ে পুরাণের নানা দিক তো আছেই, ইতিহাসের সঙ্গে মিশে গেছে জনশ্রুতিও। বাংলার দুর্গাপুজোর রাজকাহিনী থেকে পুজোর বনেদিয়ানা, ৪০০ বছরের ইতিহাস পাতায় পাতায় সম্মিলিত হয়েছে। সম্রাট চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘বাংলার দুর্গা উৎসব: এক চলমান ইতিহাস’ এমনই একটি বই যেখানে থিম পুজোর চর্বিতচর্বণ নেই, বরং জায়গা করে নিয়েছে বাংলার হারিয়ে যাওযা ইতিহাস ও ঐতিহ্য।

২১ বছরের গবেষণার ফসল এই বই। লেখকের কথায়, বাংলার বহু অচেনা গ্রন্থাগার থেকে মণি-মাণিক্য সংগ্রহ করে বইটি সমৃদ্ধ হয়েছে। ক্যানভাস স্বয়ম ও আইএফএসডি-র যৌথ উদ্যোগে বাংলার দুর্গোৎসবের ৪০০ বছরের ইতিহাস নিয়ে বাংলা ও ইংরাজি ভাষায় বইটি প্রকাশিত হয়েছে। বইতে উল্লিখিত পুরনো ইতিহাসের বেশ কিছু অংশ ইতিমধ্যেই ললিত কলা অ্যাকাডেমি ও ইউনেস্কোর সংগ্রহশালায় জায়গা করে নিয়েছে।

১৫৯০ থেকে ১৬০৬ খ্রিষ্টাব্দ অবধি, বাংলার দুর্গোৎসবের পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও সূচনা নিয়ে নানা কাহিনী লেখা হয়েছে বইটিতে। বারো ভুঁইয়াদের মধ্যে অন্যতম গৌড়েশ্বর কংসনারায়ণ রায় রাজশাহী জেলার তাহিরপুরের রাজা এবং পরবর্তীকালে গৌড়ের সম্রাট। তিনি বারেন্দ্র ব্রাহ্মণকুলের প্রধান সংস্কারক এবং সেই সময়ের বাঙালি হিন্দু সমাজের নেতা ছিলেন। তিনি বাংলায় আধুনিক দুর্গাপুজা শুরু করেন। সেই ইতিহাসের আগাগোড়া বিবরণ আছে। রাজা কংসনারায়ণ, রাজা উদয়নারায়ণের সময়কার অনেক অজানা কাহিনী গবেষণা করে তুলে এনেছেন লেখক সম্রাট চট্টোপাধ্যায়।

সে কালের দুর্গোৎসব ছিল রাজা, জমিদার এবং কিছু বনেদি পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি ছিল প্রতিপত্তি দেখাবার অন্যতম মাধ্যম, যা অনেকটা প্রকাশ পেয়েছে বনেদি বাড়ির চণ্ডীমণ্ডপ বা দুর্গাদালানের স্থাপত্যরীতিতে। গঠনসৌকর্য দেখেই আঁচ করা যায় বাবুদের বনেদিয়ানা। এই ধরনের ঠাকুরদালানের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই জড়িয়ে আছে বহু ইতিহাস। যেমন, জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির ঠাকুরদালানে পুজো বন্ধ হওয়ার পর মহর্ষির উদ্যোগে এখানেই সূত্রপাত হয় মাঘোৎসবের। আর শোভাবাজারে নবকৃষ্ণের ঠাকুরদালান বিখ্যাত হয়ে আছে ক্লাইভের আগমনকে কেন্দ্র করে দেবীদর্শনের জন্য। বড়িশাতে সাবর্ণ পরিবারের চণ্ডীমণ্ডপে যেমন চার্নকের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল। এইসবই নানা জানা-অজানা কাহিনীর সংমিশ্রণে বাংলার দুর্গোৎসব বইটি লেখা হয়েছে।

শুধু ইতিহাসের বিস্তারিত বিবরণ নয়, বাংলার সুপ্রাচীন ইতিহাস বাঁচানোর জন্য বার্তাও দেওয়া হয়েছে বইটিতে। বাঙালির দুর্গাপুজো শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এর সঙ্গে শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশ ও লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান জড়িয়ে আছে। বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বাঁচানোর প্রয়াসে শুধু সরকারকে নয় বিশ্বজুড়ে বাঙালিদেরই এগিয়ে আসতে হবে।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা সুখপাঠ

You might also like