Latest News

Snake Island: সাপে ভয় পান? ভুলেও পা রাখবেন না এই দ্বীপে

দ্য ওয়াল ম্যাগাজিন ব্যুরো: সাপ নিয়ে আমাদের কৌতূহলের অন্ত নেই। সাহিত্যে শিল্পে ধর্মে ও প্রবচনে সাপের টোটেমময় উপস্থিতি চোখে পড়ে অনাদি কাল থেকে। আমাদের পুরাণ আর মহাকাব্যেও বিষ্ণুর শেষনাগ, মহাদেবের বাসুকি, খাণ্ডব অরণ্যের তক্ষক এক একটা উজ্জ্বল চরিত্র। মহাভারতে জনমেজয়ের সর্পনিধন যজ্ঞ, মনসামঙ্গল কাব্যে চাঁদ সদাগর, বেহুলা, লখিন্দর ও কালনাগিনীর উপাখ্যান, তারাশঙ্করের ‘নারী ও নাগিনী’, ‘নাগিনীকন্যার কাহিনী’, খনার বচনে ডাইনে সর্প বামে শৃগাল… সর্বত্র সাপ আর সাপ। সাপকে কেন্দ্র করে আবহমানকালের জনমানসে ছড়িয়ে আছে নানা বিচিত্র ট্যাবু।
দক্ষিণ ভারতের লোক-সংস্কৃতির ইতিহাস পাঠ করলে দেখা যায় দ্রাবিড় সভ্যতার একটু নীচু জাতিগোষ্ঠীর মানুষরা আজও বহু সর্পদেবীর পুজো করে থাকেন। যেমন- নাগাম্মা, বালাম্মা, মুদাম্মা, মঞ্চাম্মা। ভাষাবিজ্ঞানী ও গবেষকেরা বলেন, এই মঞ্চাম্মা শব্দ থেকেই হয়ত বাংলায় এসেছে বিষহরি মনসার নাম। (Snake)

Image - Snake Island: সাপে ভয় পান? ভুলেও পা রাখবেন না এই দ্বীপে
বাংলার লোকায়ত সাপের দেবী মনসা

প্রাচীন ভারতীয় মহাকাব্যেও বারবার এসেছে সাপের প্রসঙ্গ। মহর্ষি কশ্যপের দুই বউ, কদ্রু আর বিনতা। একদা কদ্রুর সেবায় তুষ্ট হয়ে তাঁকে বরদান করতে চাইলেন মহর্ষি। এর পরই এক হাজার পরাক্রমী সাপের মা হওয়ার আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন কদ্রু। মহর্ষি কশ্যপের বরেই নাগ বংশের উৎপত্তি হয়।

কদ্রু কশ্যপের কাছ থেকে ৮টি পরাক্রমশালী পুত্র লাভ করেন। তাদের নাম অনন্ত (শেষ), বাসুকি, তক্ষক, কর্কোটক, পদ্ম, মহাপদ্ম, শঙ্খ ও কুলিক। কোনও কোনও কাহিনিতে আবার নাগ ও সর্পের মধ্যে পার্থক্যও দেখানো হয়েছে। নাগেরা সকলেই কদ্রুর গর্ভজাত। অন্যদিকে ক্রোধবশা নামে আরেকজন নারীকে বিয়ে করেছিলেন কশ্যপ। এই ক্রোধবশা রানি ছিলেন জাতিতে সর্প। তাঁর থেকেই সাপ, বিছে ইত্যাদি বিষাক্ত জীবের জন্ম বলে মনে করা হয়।

অগ্নিপুরাণে ৮০ প্রজাতির নাগের বর্ণনা পাওয়া যায়। সমুদ্র মন্থনের কাহিনিতে আমরা বাসুকি নাগের কথা পাই। সমুদ্র মন্থনের দড়ি বা রজ্জু হিসেবে এই নাগকে ব্যবহার করা হয়েছিল।

সমুদ্র মন্থনের রজ্জু ছিলেন বাসুকী নাগ

পুরাণ যাই বলুক, সাপ পৃথিবীর আদিমতম বাসিন্দাদের অন্যতম। বিজ্ঞানীরা বলেন, আজ থেকে ১১ কোটি বছর আগেও পৃথিবীতে সাপের অস্তিত্ব ছিল। (Snake Island)
ব্রাজিলে সন্ধান পাওয়া গেছে প্রথম চার পা-ওয়ালা সাপের ফসিলের। এই ফসিল প্রমাণ করে সামুদ্রিক প্রাণী থেকে নয়, সাপের উদ্ভব ঘটেছে টিকটিকি জাতীয় প্রাণীদের বিবতর্নের মধ্যে দিয়ে।
ক্রেটাসিয়াস যুগের এই জীবাশ্মটি এখনও পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া সাপেদের ফসিলের মধ্যে প্রাচীনতম।

Image - Snake Island: সাপে ভয় পান? ভুলেও পা রাখবেন না এই দ্বীপে
ক্রেটাসিয়াস যুগের সেই ফসিল

টেট্রাপোডোফিস অ্যামপ্লেকটাস নামের এই সাপের জীবাশ্মটি একটি শাবকের। এর দৈর্ঘ্য মাত্র ২০ সেন্টিমিটার। পূর্ণ বয়স্ক টেট্রাপোডোফিস অ্যামপ্লেকটাস আকারে প্রকারে এর থেকে অনেকটাই বড় ছিল বলে ধারণা জীবাশ্মবিদদের।
এই জীবাশ্মের সব থেকে বড় বৈশিষ্ট্য দু’জোড়া পায়ের উপস্থিতি।

অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই সাপের বসবাস। বিশেষত নির্জন দ্বীপগুলো এদের অভয়ারণ্য। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি’ উপন্যাসে বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা একটি রহস্যময় দ্বীপের কথা আছে। ময়না দ্বীপ। কাল্পনিক এই ইউটোপিয়ান দ্বীপরাজ্যের বর্ণনাতেও রয়েছে অসংখ্য সাপের কথা।

সমগ্র পৃথিবীতে সাপের মোট ১৫টি পরিবার, সাড়ে ৪ শ’রও বেশি বর্গ এবং প্রায় ৩ হাজার প্রজাতি আছে। ১০ সেন্টিমিটার থেকে আরম্ভ করে ২৫ ফুট লম্বা সাপও দেখা যায়। সম্প্রতি পাওয়া একটি সাপের ফসিল প্রায় ৫০ ফুট দীর্ঘ (Titanoboa)। তার আনুমানিক ওজন ছিল ১.২৫ টন।

পরিসংখ্যান বলে, পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় ১ লক্ষ মানুষ সাপের কামড়ে মারা যায় এবং আড়াই লক্ষ মানুষ চিরদিনের জন্য পঙ্গু হয়ে যায়। সব সাপের বিষ নেই। তবু কম-বেশি পৃথিবীতে মোট ছশো প্রজাতির বিষধর সাপ রয়েছে। এদের মধ্যে কিছু সাপের বিষ ভয়ংকর তীব্র। আর কিছু সাপের বিষ মৃদু।

Image - Snake Island: সাপে ভয় পান? ভুলেও পা রাখবেন না এই দ্বীপে

শোনা যায় মাদকাসক্তি যাঁদের চরমে উঠেছে, হেরোইন, মারিজুয়ানা বা কোকেনেও যাদের ঠিকঠাক নেশা হয় না, তাঁদের মাদকে এখন মেশানো হচ্ছে সাপের বিষ৷ এভাবের বিশ্ববাজারে প্রতিদিন চাহিদা বাড়ছে সাপের বিষের, বিষ নিয়ে অবৈধ ব্যবসাও শুরু হয়েছে৷ এখন সোনার চেয়েও সাপের বিষের দাম বেশি৷ কোটি কোটি টাকার সাপের বিষ পাচার হচ্ছে দেশের বাইরে৷ এই মুহূর্তে এক লিটার সাপের বিষের খোলা বাজারে দাম প্রায় চার কোটি টাকা৷ ভারতে বিষ নিষ্কাশনের জন্য ধরা হয় প্রধানত চার প্রজাতির সাপ – গোখরো, রাসেল ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া, পিট ভাইপার এবং শাখামুটে৷

কীভাবে মাদকে মেশানো হয় সাপের বিষ? সাপের বিষ বের করে নেবার পর প্রথমে তা রাখা হয় খুব কম তাপমাত্রার আধারে৷ কিছুদিন পর তরল বিষ শুকিয়ে দানা বেঁধে গেলে তা গুঁড়ো করা হয়৷ তারপর তা মেশানো হয় মদ বা অন্যসব মাদকে৷ সাধারণত ১০০ লিটার মদে ১০ গ্রাম সাপের বিষের গুঁড়ো মেশানো হয়৷

সাপের এই বিষই মেশানো হচ্ছে নেশার জিনিসে

নেশার সামগ্রী ছাড়াও সাপের বিষ দিয়ে তৈরি হয় বিভিন্ন মূল্যবান ওষুধ এবং অ্যান্টি-ভেনাম সিরাম৷ এটা সাপে কাটা মানুষের জীবনদায়ী ওষুধ৷ সাপের বিষ ছাড়াও সাপের চামড়া ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের চোরা ব্যবসা চলছে রমরমিয়ে।

ফুটবলের দেশ ব্রাজিল। আর ব্রাজিলের বিশ্বখ্যাত সমুদ্রসৈকত সাও পাওলো। সেখান থেকে বেশ কিছুটা দূরে রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর ও রহস্যময় সুন্দর এক দ্বীপ। যে দ্বীপে কোনও মানুষ বাস করে না। কোনও পর্যটক যায় না ওই অলোকসামান্য নৈসর্গিক পরিবেশে। যারা যায় তারা সাধারণত আর বেঁচে ফিরে আসে না। কারণ সেখানে গিজগিজ করছে শুধু সাপ আর সাপ। মানুষের পা রাখার জায়গা নেই। যেখানেই পা দেবেন সেখানেই ফণা তুলে আছে তীব্র বিষধর কোনও সাপ। নয়নাভিরাম সেই সর্পদ্বীপে রয়েছে অসংখ্য পাখি (৪৩ প্রজাতির) আর গিরগিটি জাতীয় প্রাণি। তারাই ওই লক্ষ লক্ষ সাপের খাবার। ব্রাজিল সরকার জনসাধারণের জন্য বহুদিন আগেই নিষিদ্ধ করে দিয়েছে ওই দ্বীপের প্রবেশ-পথ। (Snake Island)

Image - Snake Island: সাপে ভয় পান? ভুলেও পা রাখবেন না এই দ্বীপে

যাঁরা ওফিডিওফোবিয়ায় আক্রান্ত, অর্থাৎ সাপ দেখলেই অযথা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, ওই দ্বীপ তাঁদের কাছে এক বিভীষিকা। ওই সর্পদ্বীপের আসল নাম ইলহা দে কুইমাদা গ্র্যান্ডে।
বিশ্বের সব চাইতে বিষধর সাপ গোল্ডেন ল্যান্সহেড ভাইপার এই পর্তুগীজ দ্বীপেই বাস করে। চোরা বাজারে এই প্রজাতির একটি সাপের দাম ২৩ লক্ষ টাকা, যার লোভে চোরা শিকারিরা প্রাণের মায়া তুচ্ছ করে ওই দ্বীপে লুকিয়ে প্রবেশ করে। এই সাপের বিষের তীব্রতা এত বেশি যে, মানুষের মাংস পর্যন্ত গলিয়ে দিতে পারে।

বিষাক্ত গোল্ডেন ল্যান্সহেড ভাইপার

জনশ্রুতি আছে, জলদস্যুরা তাদের লুঠ করা সোনা আর দামি জিনিসপত্র এনে ওই দ্বীপে লুকিয়ে রাখত। তারপর সেগুলো পাহারা দেবার জন্য সেখানে ছেড়ে দিত বেশ কিছু সাপ। সেই সাপের দলই কালক্রমে বংশবৃদ্ধি করে গোটা দ্বীপটাকে দখল করে নিয়েছে।
অন্যদিকে গবেষকরা বলছেন অন্য কথা, আজ থেকে এগারো হাজার বছর আগে এই ব্রাজিলীয় দ্বীপটি বিষধর সাপেদের আবাসভূমি হয়ে উঠেছিল। কোনও মানুষ নেই ওই দ্বীপে, তাই সাপের প্রজনন বেড়েছে অবাধে। ইলহা দে কুইমাদা গ্র্যান্ডে দ্বীপে প্রতি বর্গমিটারে নাকি কমপক্ষে এক থেকে পাঁচটি সাপ দেখা যায়। সাও পাওলো থেকে প্রায় ৯৩ মাইল দূরে অবস্থিত আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে জেগে ওঠা এই দ্বীপের আয়তন ৪ লক্ষ ৩০ হাজার বর্গমিটার। আর এখানে সাপও রয়েছে কমপক্ষে ৪ লক্ষ ৩০ হাজার।

প্রায় ১১ হাজার বছর আগে সমুদ্রপৃষ্ঠের উত্থানের ফলে ব্রাজিলের মূল ভূ-ভাগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এই অঞ্চলটি একটি দ্বীপে পরিণত হয়।

Image - Snake Island: সাপে ভয় পান? ভুলেও পা রাখবেন না এই দ্বীপে
সাপ কিলবিল করছে দ্বীপের সর্বত্র

দূরগামী সামুদ্রিক জাহাজ যাতে ভুল করেও এই দ্বীপের কাছাকাছি চলে না আসে তার জন্য একদা এখানে একটি লাইট হাউজ নির্মাণ করা হয়েছিল। তার রক্ষণাবেক্ষণ করতেন নৌ বাহিনীর এক অফিসার (১৯০৯–১৯২০)। শোনা যায় একদিন জানলার ফাঁক দিয়ে এক বা একাধিক ল্যান্সহেড সাপ ঢুকে গিয়ে ওই অফিসার, তাঁর বউ ও তিন সন্তানকে আক্রমণ করে মেরে ফেলে। তারপর থেকে আর কাউকে পাঠানো হয়নি ওই দ্বীপে। ব্রাজিল সরকার ওই লাইটহাউজকে স্বয়ং-নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে।

দ্বীপের বুকে জেগে থাকা সেই অভিশপ্ত লাইটহাউজ

একবার এক জেলে সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছিল। খাবারের খোঁজে কিছু না জেনেই ওই দ্বীপে প্রবেশ করে সে। তার চোখে পড়েছিল গাছে গাছে ঝুলে থাকা পাকা কলার কাঁদি। কিন্তু পরদিন তার রক্তাক্ত দেহ পাওয়া যায় দ্বীপের মাটিতে।
সেই থেকে সাধারণ মানুষের ধারণা হয়, ওই দ্বীপে গেলে কেউ আর জীবিত অবস্থায় ফিরে আসে না।
পাথুরে মাটির এই দ্বীপে প্রচুর গাছপালা আছে। দ্বীপের বেশিরভাগ অংশটাই চিরহরিৎ রেইন ফরেস্টে ঢাকা। সমুদ্রের অতিথি পাখিরা বিশ্রাম নেয় এই দ্বীপে। তাদের কলকাকলিতে মুখর হয়ে থাকে জনবসতিশূন্য এই দ্বীপ।
মজার কথা, এই সর্পদ্বীপে সাপ ছাড়া অন্য কোনও বিষধর জীব নেই।

এই দ্বীপের মহার্ঘতম সাপটির আসল নাম বোথরোপস ইনসুলারিস, তবে দ্য গোল্ডেন ল্যান্সহেড নামেই বেশি পরিচিত। এই সাপের চামড়ায় কিছুটা হলুদ আভা আছে, সূর্যের আলোয় তারা সোনালি রঙ ধারণ করে। এদের বিষের তেমন কোনো কার্যকরী প্রতিষেধকও নেই।

Image - Snake Island: সাপে ভয় পান? ভুলেও পা রাখবেন না এই দ্বীপে

ব্রাজিলের নৌবাহিনীর নির্দেশ অনুসারে, ১৯২০ সাল থেকে এই জঙ্গলঘেরা দ্বীপে জনসাধারণের প্রবেশ পুরোপুরিভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। তবে অনেকসময় জীববিজ্ঞানীরা গবেষণার কাজে নৌবাহিনীর কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি নিয়ে পরিমিত সময়ের জন্য এই দ্বীপে প্রবেশ করেন। এখানে যেতে প্রায় ৫-৬ ঘণ্টা সময় লাগে। তাই কাউকে সাপে কামড়ালে তাকে নিয়ে আর হাসপাতালে আসার সময়টুকুও পাওয়া যায় না।
সম্প্রতি একটি বায়োফার্মাসিটিকেল গবেষণা কেন্দ্র এখানে কাজ করছে। সেই গবেষণা কেন্দ্রে কর্মরত মার্সেলো ডুয়ার্তে নামে একজন স্থানীয় জীববিজ্ঞানী গবেষণার কাজে উপযুক্ত সুরক্ষা, প্রতিরোধক ও প্রতিষেধক নিয়ে ২০ বারের বেশি এই দ্বীপে গেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এখানে গোল্ডেন ল্যান্সহেড রয়েছে প্রচুর সংখ্যায় (২০০০–৪০০০) এবং তাদের সংখ্যা দিন দিন আরও বাড়ছে। তবে মার্সেলোর মতে এখানে অন্যান্য সাপের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। গত ১৫ বছরে প্রায় ১৫ শতাংশ সাপ কমে গেছে। মূলত খাদ্য-সংকট এবং চোরা শিকারিদের লোভের জন্যই সাপের সংখ্যা ক্রমশ কমে আসছে এই দ্বীপে।

আমাজন সংলগ্ন দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় দেশ ব্রাজিল। আর ব্রাজিলের এই স্নেক আইল্যান্ডের নাম ইহা ডি কুইমাডা গ্রান্ডি। পর্তুগীজ শব্দ ‘কুইমাডা’র অর্থ ‘পুড়িয়ে ফেলা’। স্থানীয় ব্রাজিলিয়ানরা একসময় এই দ্বীপে ফলের চাষ করার জন্য রেইন-ফরেস্টের কিছু অংশ পুড়িয়ে ফেলে। আর এই কারণেই দ্বীপটির এমন নামকরণ হয়ে যায়।

১১০ একরের এই সবুজদ্বীপের প্রায় ৬২ একর রেইনফরেস্টেই ঢাকা থাকে। অবশিষ্ট অংশে রয়েছে ছোটো বড় পাথর ও সবুজ তৃণক্ষেত্র। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে দ্বীপটির উচ্চতা প্রায় ৬৭৬ ফুট। এর পাশের দ্বীপটির নাম নিমার। নিমারের মতই স্নেক আইল্যান্ডের আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ। এই পরিবেশ সাপেদের বংশবৃদ্ধি ও বসবাসের জন্য অত্যন্ত অনুকূল। বহুকাল আগে তুষারযুগের সময় পিট ভাইপার প্রজাতির সাপগুলি এখানে আটকে পড়ে। যেহেতু এরা সাঁতার জানত না তাই এই দ্বীপ থেকে বেরিয়ে গিয়ে অন্য কোথাও এরা বংশবৃদ্ধি করতে পারেনি। তাই ল্যান্সহেডদের শুধু স্নেক আইল্যান্ডেই পাওয়া যায়। এই সাপের বিষ থেকে তৈরি super glue বা অতি উন্নত মানের আঠা চিকিৎসা বিজ্ঞানে যুগান্তর নিয়ে এসেছে। এই আঠা দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির রক্ত জমাট বাঁধতে এবং দেহের কাটা অংশ জোড়া দিতে মাত্র ৩৪ থেকে ৪৫ সেকেন্ড সময় নেয়। অর্থাৎ এক মিনিটেরও কম। এই জন্য সারা পৃথিবীতে এর চাহিদা তুঙ্গে।

আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য ভয়ংকর এই দ্বীপ কিন্তু জীব-বিজ্ঞানীদের কাছে একটি আস্ত ল্যাবরেটরি ৷ ব্রাজিল সরকারের কাছে থেকে অনুমতি নিয়ে এখানকার নানা প্রজাতির সাপের উপরে গবেষণা করে চলেছেন বিজ্ঞানীরা ৷ অনেকেই গোল্ডেন ল্যান্সহেড নিয়েও গবেষণা করছেন ৷ সাপের বিষ থেকে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন দুর্লভ ওষুধ৷ হৃদরোগ, রক্তপ্রবাহ সচল রাখা, রক্ত জমাট বাঁধার চিকিৎসায় এবং অ্যান্টিভেনম ও ক্যানসার-প্রতিরোধক ড্রাগ তৈরি করতে অত্যন্ত কাজে লাগে এই দ্বীপের সাপের বিষ। যে বিষ এক মুহূর্তে মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে পারে, সেই বিষ থেকেই তৈরি হয় প্রাণদায়ী ও মৃত্যুঞ্জয়ী ওষুধ। এর পরেও ভয় পাবেন সাপকে? কৃতজ্ঞ হবেন না!

You might also like